Banglar Chokh | বাংলার চোখ

সাঁথিয়ায় হত্যাকে কেন্দ্র করে পাট কাটতে পারেনি কৃষক, ৫০ বিঘা জমির পাট নষ্ট

মনসুর আলম খোকন,সাঁথিয়া (পাবনা )প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:১৮, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

সাঁথিয়ায় হত্যাকে কেন্দ্র করে পাট কাটতে পারেনি কৃষক, ৫০ বিঘা জমির পাট নষ্ট

নিজস্ব ছবি

পাবনার সাঁথিয়ায় আলোচিত মতিন হত্যার নাটক সাজিয়ে নিরীহ লোকজনকে আসামী করে তাদের বাড়িঘরে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ ও তার ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে। কাটতে না দেয়ায় নষ্ট হয়েছে প্রায় ৫০ বিঘা জমির পাট। কেটে নেয়া হয়েছে প্রায় ৫ বিঘা জমির ঘাস। রাতের আঁধারে খোলা থেকে তুলে নিয়ে গেছে ধান। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নাগডেমড়া ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে।

এরই মধ্যে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকায় ৪ জনকে আটক করেছে সিআইডি পুলিশ। ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় গেল সোমবার নিহত মতিনের বোন বুলবুলি খাতুন বাদী হয়ে ওই মামলার বাদী সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ ও খুনের প্রত্যক্ষদর্শী তার সহোদর জুয়েলসহ অজ্ঞাত আরও ১০/১৫ জনকে আসামী করে পাবনা আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি সিআইডতে তদন্তাধীন রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ইনস্পেক্টর পায়েল হোসেন। তিনি বলেন, হত্যাকান্ডের সাথে জুয়েল,বাদী হারুনসহ আরও ৭/৮জন জড়িত রয়েছে। যেহেতু তদন্ত এখনও চলমান সেহেতু বেশী কিছু বলা যাবে না। তবে যারাই জড়িত থাকুক সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। এদিকে মতিন হত্যার ঘটনায় মিথ্যা মামলার আসামীগণ জামিন নিয়ে এসে সাংবাদিকদের জানান, তারা পলাতক থাকায় নৃশংস এ হত্যাকান্ডের মিথ্যা মামলার বাদী হারুন অর রশিদ ও তার ক্যাডার বাহিনী  তাদের বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে তাদের চরম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সোনাতলা গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন ও আলহাজ হোসেন বলেন, আমাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করে হারুন ও তার বাহিনী  বাড়িঘর লুটপাট করেছে। এমনকি জমিতে যেতে বাধা দেয়ায় আমাদের ১৪ বিঘা জমির পাট ক্ষেতেই পচে নষ্ট হয়ে গেছে। কেটে নিয়েছে কয়েক বিঘা জমির নেভিয়ার ঘাস। এতে আমাদের প্রায় ১৭ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে সাবেক চেয়ারম্যান হারুন ও তার বাহিনী।একই গ্রামের কামরুজ্জামান রতনের স্ত্রী বুলবুলি ও আবু সাঈদের স্ত্রী সহিমন জানান, হত্যাকান্ডের পর বাদী হারুনের লালিত নারী/পুরুষ মিলে আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র ঘরের দরজা ভেঙে  নিয়ে যায়। আমরা ভয়ে অন্য একটি ঘরে গিয়ে বাচ্চাদের নিয়ে কোনভাবে নিরাপদে অবস্থান করি । সেদিন তাদের এতই তান্ডব ছিল যে তাদের ভয়ে আমাদের চিৎকারে আশপাশের কেউ কোন সাড়া দেয়নি। কৃষক মনসুর আলী জানান, হত্যাকান্ডের পর তার ২টা গরু নিয়ে গেছে। আজও তার হদিস মেলেনি।এলাকাবাসী জানান,  অনেকেই গরু লুট হওয়ার ভয়ে পুলিশের সহযোগীতায় অন্যত্র সরিয়ে তা থেকে রক্ষা পায়। ওই মিথ্যা  মামলার প্রধান আসামী বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজুর রহামান হাফিজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,  আমাকেও যে মিথ্যা মামলা দিয়ে ২ মাস ২৫দিন জেল হাজত খাটিয়েছে। আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি। আমি আইনের মাধ্যমে তার শাস্তি চাই। আর আমার এলাকার নিরিহ জনগণকে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। এর জন্যও তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। উল্লেখ্য, জানা গেছে, গত ৪ জুন শনিবার (২০২২) রাত সাড়ে আটটার দিকে পাবনার সাঁথিয়া পৌর সদরের পুটিপাড়া গ্রামের ক্যানেলের পাশে ওই গ্রামের মহির উদ্দিন ওরফে মহেরের ছেলে আঃ মতিন (৫০) নামের  এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।  ৫ জুন রোববার সকালে হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে নাগডেমড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান হাফিজকে প্রধান আসামী করে  ১৯ জন নামীয় ও অজ্ঞাত কয়েকজন আসামী করে থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। সাঁথিয়া থানা পুলিশ ওইদিন দুুপরেই নাগডেমড়া ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান হাফিজসহ ২জন এজাহারভুক্ত  আসামিকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।  
 

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়