Banglar Chokh | বাংলার চোখ

সাপাহারে কৃষিখাতে অপার সম্ভবনার দ্বারপ্রান্তে ড্রাগন চাষ

মনিরুল ইসলাম, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: ০২:৪৭, ৬ অক্টোবর ২০২২

সাপাহারে কৃষিখাতে অপার সম্ভবনার দ্বারপ্রান্তে ড্রাগন চাষ

নিজস্ব ছবি

নওগাঁর সীমান্তবর্তী উপজেলা সাপাহার। এই উপজেলার নাম বললে সর্বপ্রথম কৃষিজ পণ্য হিসেবে নাম আসে আমের। কেননা ইতিমধ্যেই সারাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি হবার ফলে আমের রাজধানী হিসেবে নাম কুড়িয়েছে এই উপজেলা। কিন্তু আমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই স্থানীয় কৃষকেরা। দিনের পর দিন বিভিন্ন কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকগণ। ঠাঁ ঠাঁ বরেন্দ্র এলাকা খ্যাত এই অঞ্চলের মাটির গুণাগুণ অনুকূলে থাকায় প্রায় সব ধরণের কৃষিজ পণ্য উৎপাদন সম্ভব বলছেন কৃষকেরা। এরই ধারাবাহিকতায় এই অঞ্চলে কৃষিখাতে নতুন এক সম্ভবানাময় উৎপাদনশীল কৃষিজ পণ্য হিসেবে চাষ হচ্ছে ড্রাগন ফল। মানে-গুণে ও উৎপাদন হার সহ ড্রাগনের মূল্য ভালো হবার ফলে ড্রাগন চাষে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে কৃষকদের মাঝে।  
 
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ড্রাগণ বাগান ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ন মাঠ জুড়ে চাষ হচ্ছে বিদেশী জাতের ড্রাগন ফল। সবুজের সমারোহে দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে প্রতিটি বাগান। উঁচু মাচা বা খুঁটিতে দোল খাচ্ছে ড্রাগন গাছ। বিস্তীর্ন লতার গিটে গিটে কোনটাতে ফুল আবার কোনটাতে ফল। সত্যি-ই যেন নজর কাড়ার মতো! ড্রাগনের বাগানে প্রবেশ করতেই মনে হয় যেন দৃষ্টিনন্দন পরিদর্শন পার্ক। এভাবেই এই অঞ্চলে ব্যতিক্রমী উদ্যেগ নিয়ে চাষ করা হচ্ছে ড্রাগন ফল। যাতে করে একদিকে বেড়েছে বেকারের কর্ম সংস্থান অপরদিকে বাড়ছে মুনাফার হার।  

উপজেলার হাঁপানিয়া গ্রামের ড্রাগন চাষী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে প্রথমে ভিয়েতনামী পদ্ধতিতে  ১০ বিঘা জমিতে চাষ করা হয় ড্রাগন ফল। পরবর্তী সময়ে আরো ৫ বিঘা জমিতে তাইওয়ান পদ্ধতিতে চাষ করা হচ্ছে ড্রাগন ফল। এটি আন্তর্জাতিক মানের ফল হওয়ায় অধিক মুনাফা আশা করছেন তিনি। প্রাথমিক অবস্থায় প্রতি বিঘায় প্রায় ৯/১০ লক্ষ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রয় করা যায় বলে জানা গেছে। ড্রাগন ফলের চারা দেশে উৎপাদন না হবার ফলে দেশের বাইরে থেকে চারা এনে রোপন করা হয়। যার ফলে যেমন ব্যায়বহুল খরচ হয় তেমনি সঠিকভাবে উৎপাদন করা গেলে অধিক মুনাফা অর্জন সম্ভব বলে জানান অন্যান্য চাষীরা। 

উপজেলা কৃষি অফিসার শাপলা খাতুন জানান, এই উপজেলায় মোট ১৫০ বিঘা জমিতে ড্রাগনের চাষ হচ্ছে। যার মধ্যে সবুজ ও লাল জাতের ড্রাগন চাষ বেশি হচ্ছে। এই অঞ্চলের মাটির গুণাগুণ ভালো হবার ফলে প্রতি হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ১০ মেট্রিক টন। এছাড়াও তিনি বলেন, ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ ড্রাগন ফল। এর ক্যালরির মাত্রা তুলনামূলক কম। তবে এতে যথেষ্ট পরিমাণে ডায়েটরি ফাইবার রয়েছে। এক কাপ ড্রাগন ফলে ক্যালোরির মাত্রা ১৩৬, প্রোটিনের মাত্রা ৩ গ্রাম, ফ্যাটের মাত্রা শূন্য, ফাইবারের মাত্রা ৭ গ্রাম, আয়রনের মাত্রা ৮ শতাংশ, ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা ১৮ শতাংশ, ভিটামিন-সি এর মাত্রা ৯ শতাংশ, ভিটামিন-ই এর মাত্রা ৪ শতাংশ। ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমায় ড্রাগন ফল। এটি ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায়, এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এই ফলের নিয়মিত সেবন, রক্তে শর্করার ভারসাম্যতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

বর্তমান সময়ে ড্রাগন ফল চাষে একটি নতুন সম্ভাবনার আশা দেখছেন এলাকার চাষীরা। ড্রাগন ফল উৎপাদনের জন্য এ অঞ্চলের মাটি অনুকূল। এছাড়াও ড্রাগন ফল চাষে লাভ বেশি। যার ফলে পরবর্তীতে এই অঞ্চলে ড্রাগনের চাষ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  থাকায় পরবর্তীতে অনেক চাষী ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধ হতে পারে বলে ধারণা করছেন এলাকার কৃষকমহল।  
 

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়