Banglar Chokh | বাংলার চোখ

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং: উপকূলবাসীকে বুক পেতে রক্ষা করলো কুঁকড়িমুকড়ি বন

প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:০১, ২৫ অক্টোবর ২০২২

আপডেট: ১২:১৩, ২৫ অক্টোবর ২০২২

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং: উপকূলবাসীকে বুক পেতে রক্ষা করলো কুঁকড়িমুকড়ি বন

ছবি:সংগৃহীত

সিডর, মহাসেন, আইলা, আম্ফান সর্বশেষ সিত্রাংয়ের মহাবিপর্যয়ে উপকূলবাসীর ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়েছিল কুঁকড়িমুকড়ি বন। ভোলার মানুষকে বুক পেতে রক্ষা করলো ঘন সবুজ বেষ্টিত এই বন। রাতের আঁধারে অসহায় ভোলার মানুষ যখন বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্কসহ সকল প্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তখন চোখ রাঙিয়ে ভোলাকে গিলে খেতে তাণ্ডবলীলা চালাচ্ছিলো দানবীয় ঝড় সিত্রাং। রেডক্রিসেন্টসহ সকল সাহায্যকারীরা নিজেরাই যখন সাহায্যের আশায় উপরে হাত তুলেছেন ঠিক তখনই নিজেকে উজার করে দিয়ে বুক পেতে ভোলা দ্বীপের অসহায় মানুষদেরকে রক্ষা করেছেন কুঁকড়িমুকড়ি সেই ঐতিহাসিক সবুজ বেষ্টনী। সিত্রাংয়ের কোনো ক্ষতই আঁচ পেতে দেয়নি সাগরে ভেসে চলা ভোলার মানুষকে। গতকাল সকাল থেকে যে ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করছিলো, সন্ধ্যার পরে ভোলায় যে বাতাসের তাণ্ডব চলছিলো মনে হচ্ছিলো ভোলার কংক্রিটের তৈরি ভবনগুলোই উড়ে যাবে। এমন অবস্থায় ভোলার উপরই আঘাত হানলো সেই ভয়াল সিত্রাং। আর সেই আঘাতকে প্রতিহত করতে এতো শক্তি নিয়েই দায়িত্বপরায়ণ ঢালের ন্যায় বুক পেতে দিয়েছে কুকড়ির বন। নিজেকে সিত্রাংয়ের কাছে উড়ার করে দিয়ে রক্ষা করেছে উপকূলের প্রাণীদের। বেঁচে গেছে ভোলার লাখো মানুষ।

 
তবে কিছু ফসলের ক্ষেত ও মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন হাজারো মানুষ।
ভোলায় ঘূর্ণিঝড়ে গাছ ও ঘর চাপায় দুই নারীসহ চারজন নিহত হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং আঘাত হানলে ভোলা সদর, দৌলতখান, লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলায়  চারজন নিহত হন। 

স্থানীররা জানান, রাত ৭টার দিকে দৌলতখান পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ঝড়ে গাছ উপরে ঘরের ওপর পড়লে ঘরে থাকা বিবি খাদিজা (৮০) নামের এক বৃদ্ধা চাপা পড়ে। পরে তার স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন।
অপরদিকে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চেয়ারম্যান বাজার এলাকায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় গাছের চাপায় মো. মাইনুদ্দিন (৪৫) নামের এক স্বর্ণব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। তিনি ওই এলাকার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা ও স্থানীয় চেয়ারম্যান বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী। শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান এ ঘটনা নিশ্চিত করেন। 
সোমবার দিবাগত রাত ৮টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নে ঘরের ওপর গাছ পড়ে মো. মফিজুল হক (৬৪) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো একজন আহত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন।

এদিকে ভোলার লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফাতেমাবাদ গ্রামে জোয়ারের পানিতে ডুবে রাবেয়া বেগম (২৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। 

লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কাশেম জানান, ভোর রাতের দিকে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়ে গিয়ে রাবেয়ার ঘরে পানি উঠে যায়। পরে সে ঘর থেকে বের হয়ে অন্য ঘরে যাওয়ার সময় পানি ডুবে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

তবে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরায় তেমন কোন ক্ষয় ক্ষতি হয়নি। রাতে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে সেখানকার মানুষদের নিয়ে সেই বেড়িবাঁধ রক্ষায় কাজ করেন মনপুরায় উপস্থিত থাকা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নুর মিয়া। যদিও আইন মন্ত্রণালয় থেকে তাকে রাতেই রেসকিউ করে ভোলার মূল ভূখণ্ডে আনার চেষ্টা করেন আইন সচিব। গত ৩ দিন ধরে আতংকিত  থাকলেও সর্বোপরি ভোলার বর্তমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কমুক্ত রয়েছেন উপকূলের মানুষ।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়