Banglar Chokh | বাংলার চোখ

নাটোরের বড়াইগ্রামের তিরাইল এখন পাখিদের গ্রাম 

শেখ তোফাজ্জ্বল হোসাইন,নাটোর থেকে

প্রকাশিত: ০০:০০, ২৭ অক্টোবর ২০২২

নাটোরের বড়াইগ্রামের তিরাইল এখন পাখিদের গ্রাম 

নিজস্ব ছবি

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার তিরাইল এখন পাখির গ্রাম নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। তিরাইল বাজার এলাকায় বাঁশের ঝাড়ে দেশী ও অতিথি পাখির সমারোহে পরিবেশ হয়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন। ভোর থেকেই বাঁশের ঝাড়ে পাখিদের কলাহল, কলরব, ডানা মিলে অবাধ বিচরণ, ঝাঁকে-ঝাঁকে তাদের উড়া-উড়ি দৃষ্টি কাটছে সবার। অতিথি পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে উঠেছে এলাকা। শীত মওসুমে খাদ্যের সন্ধানে সাইবিরিয়া এলাকা থেকে এসব পাখি এসে আস্তানা করেছে উপজেলার তিরাইল বাজার এলাকায়। সেখানে প্রায় ১০ বিঘা বাঁশের ঝাড় সহ আম,তেঁতুল,মেহগনি গাছের ডালে-ডালে বাঁসা বেঁধে তৈরী করেছে আবাসস্থল। এসব পাখি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছে দর্শনার্থীরা। রাতের আঁধারে কেউ কেউ চুরি করে পাখির ডিম ও বাচ্চা। আবার ধরে নিয়ে যায় মা পাখিগুলোকেও। সেগুলো রয়েছে অরক্ষিত অবস্থায়। সরকার নজর দিলে এলাকাটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি জীববৈচিত্র ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্থানীয়রা। 
নাটোরের চলনবিল সহ আশেপাশের বিল অঞ্চলে শীতের শুরুতে অতিথি পাখি আসতে শুরু করে। উপজেলার চলন বিলের এলাকায় চিনাডাঙ্গা, সাতৈল, লোহাগাড়ার বিল সহ পাঙ্গিয়ার দিঘীর অধিকাংশ স্থান জুড়ে এ সব অতিথি পাখির অবস্থান দেখা যায় সবুজের সমারোহে। দেখা যায় বক.বালি হাঁস, সারস, নলকাক, কোম্বাডাক, সরালি, পাতাড়ি হাঁস, হাড়গিলা সহ অসংখ্য অতিথি পাখির উড়া-উড়ি। দিনের আলোতে চলনবিল জুড়ে দলবদ্ধ অতিথি পাখির বিচরণে মুগ্ধ করবে যেকোন কাউকে। এসব পাখিরা ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকা-মাকড় ও শামুক খেয়ে জীবনধারণ করে এবং তাদের নিঃসরণকৃত বৃষ্টায় জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পায়। এতে ক্ষেতে ফসলের ফলন বাড়ে। কৃষকরা উপকৃত হয়। 
তিরাইল এলাকার অধ্যাপক মজিবর রহমান বলেন, প্রায় ১০ বিঘা বাঁশের ঝাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির অভয়ারণ্য সুষ্টি হয়েছে। তাদের মধ্যে সিংহভাগই হচ্ছে হাড়গিলা পাখি। প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ পাখি ৪ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। আগে শুধু শীতের সময় আসতো, আর গরমের সময় চলে যেত সেগুলো। কিন্তু প্রায় দশ বছর যাবত এলাকাবাসীর উদ্যোগে উক্ত স্থানটি পাহারা দেওয়া ও পাখি নিধনে শিকারীদের বাধা-নিষেধ করায় পাখিগুলো বাঁশের ঝাড় সহ আম,তেঁতুল,মেহগনি গাছের উঁচু ডালে বাঁসা বেঁধে তৈরী করে আবাসস্থল। ডিম পেড়ে, বাচ্চা ফুটায় সেখানে। 
প্রভাষক রবিউল ইসলাম জানান, প্রায় ৯/১০ বছর যাবত বাঁশ ঝাড়ে দেশী ও অতিথি পাখি বাঁসা বেঁধে বাচ্চা ফোটাচ্ছে। আমরা পাখিগুলোকে কাউকে মারতে বা ধরতে দেই না। তবুও রাতের আঁধারে বাচ্চা সহ মা পাখিকে চুরি করে নিয়ে যায় কেউ-কেউ। সরকার দৃষ্টি দিলে পাখির অভয়াশ্রম গড়ে উঠেবে, পর্যটন কেন্দ্র স্থাপিত হবে এখানে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। 
আবেদ আলী সরকার জানান, ভোরবেলা থেকে শুরু হয়ে রাত অবধি চলে পাখির কিসির মিসির শব্দ। সারাক্ষণ কিসির-মিসির, কল-কাকলিতে দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছে এ পথ দিয়ে যাতায়াতকারী পথচারীদের। সকালে সূর্য উঠার সাথে-সাথে শুরু হয় পাখিগুলোর উড়া-উড়ি। কেউবা খাদ্য আহরণে বের হয় বিল-বিলাঞ্চলে, আবার কেউবা বাচ্চাদের জন্য খাদ্য মুখে নিয়ে ফিরে আসে নীড়ে। দিন অবধি উড়া-উড়ি শেষে বিকেল থেকে সন্ধ্যার দিকে ফিরে আসে আবার নিজ আবাসস্থলে। 
উপজেলা চেয়ারম্যান ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী জানান, তিরাইল এলাকায় অতিথি পাখির আগমনে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে নিঃসন্দেহে। কিন্তু আমাদের অসচেতনার কারণে দেশীয় পাখি ডাহুক, তীরশুল, ভাড়ই, রাঙ্গাবনি, গাঙচিল, রাতচুরা, হুটটিটি, ঈগল সহ বেশ কিছু পাখি বিলীন হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। সেগুলো অবাধে বিচরণের সুযোগ করে দিতে সচেতন মহলের এগিয়ে আসা দরকার। 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. মারিয়াম খাতুন বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য ও সৌন্দর্য রক্ষার্থে অতিথি পাখিগুলোর অবাধে বিচরণ নিশ্চিত করা অতি জরুরী। কোন দুষ্কৃতকারী পাখি নিধন করলে বা চুরি করে বাজারে বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।  

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়