Banglar Chokh | বাংলার চোখ

 প্রতারণার ফাঁদে প্রবাসী আজিজুল হক

ফেনী থেকে মোস্তফা কামাল বুলবুল

প্রকাশিত: ২১:৩৯, ৫ নভেম্বর ২০২২

 প্রতারণার ফাঁদে প্রবাসী আজিজুল হক

ফাইল ফটো

 ফেনী শহরের পশিচম উকিল পাড়ায় রামপুর মৌজায় ব্যাংকে বন্ধকী দলিল রেজিষ্ট্রি অফিসে উপস্থাপন করে সৌদি প্রবাসীরে এক কোটি টাকা আত্মসাৎ করে তৃতীয় পক্ষের কাছে ভুমি বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে।

জানাযায়, হারুন মজুমদার ও ফেরদৌস আরা বেগম এবং ফেনী সাউথ ইস্ট ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীর যোগসাজসে ২০০৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর (১৭/১২/২০০৮ইং) বন্ধকী দলিল নং- ১২৩৫৭ ব্যাংকে বন্ধক রেখে বন্ধকী দলিল ২০১৬ সালে রেজিষ্ট্রি অফিসে উপস্থাপন করে ভুমির মূল্য ১ কোটি বায়না বাবত(২০,৫০,০০০/- টাকা) রেজিস্ট্রার্ড বায়না করে প্রবাসী আজিজুল হক। যার পুরো অর্থ আত্যসাৎ করছে একটি চক্র। ভুক্তভুগী আজিজুল হক ফেনী সদর উপজেলার পশ্চিম ছনুয়া গ্রামের রবিউল হকের ছেলে। তার মা নুর জাহান বেগম। পাসপোর্ট নং-AE 5446964 অভিযুক্ত হারুন অর রশিদ মজুমদার ফেনী সদর উপজেলার রামপুর এলাকার অহিদুর রহমান মজুমদার ও ছেমনা আফরোজ বেগমের ছেলে। অপরজন ফেরদৌস আরা বেগম একই উপজেলার রামপুর সওদাগর পাড়ার হারুন অর রশিদের স্ত্রী। ফেরদৌস আরা বেগমের বাবা আবদুস সাদেক হোসেন মজুমদার ও মা ছকিনা বেগম। তাদের কাছে নিম্ন তফসিলোক্ত ৪ডিং ভূমি খরিদ করার জন্য বিগত ১০/০৩/২০১৬ইং তারিখ ফেনী সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের রেজিষ্ট্রিকৃত ১৮৫২ নং বায়নাপত্র দলিল মূলে এক রেজিস্ট্রার্ড বায়না চুক্তিতে আবদ্ধ হয় প্রবাসী আজিজুল হক। বর্ণিত ভূমির মোট মূল্য ১ কোটি টাকা বায়নার সময় নগদে ২০,৫০,০০০/- টাকা প্রদান করে হারুন অর রশিদ মজুমদার ও ফেরদৌস আরা বেগমকে। পরবর্তীতে নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বসাকুল্যে ১ কোটি টাকা পরিশোধ করে। যাহার ব্যাংক স্ট্র্যাটমেন্ট ও প্রমাণদি রয়েছে। প্রবাসী আজিজুল হক জানায়, বায়না চুক্তির নির্দিষ্ট সময় সীমার মধ্যে মোট মূল্যের সকল টাকা ধার দেনা জোগাড় করে বায়না চুক্তিকৃত ভূমি রেজিষ্ট্রি পাওয়ার জন্য বায়না চুক্তি দাতাগনকে তাগিদ দিলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। তখন জানতে পারে, বায়না চুক্তিকৃত ভূমিসহ আরো কতেক ভূমি বায়না চুক্তিকৃত ভূমির মূল দলিল বিগত ১৭/১২/২০০৮ইং বন্ধকী দলিল নং-১২৩৫৭ ব্যাংকে বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে। তখন হারুনুর রশীদ আমার (প্রবাসী আজিজুল হকের) কাছ থেকে ৫০,৫০,০০০/- টাকা নিয়া যায়। এদিকে এই বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে ব্যাংকের লোন পরিশোধ করার নিমির্ত অজিজুল হক দাতাগনকে জমির মোট মূল্য ১ কোটি ১৯ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা পরিশোধ করে। কিন্তুু রেজিস্ট্রি দেয়ার জন্য হরুনুর রশীদকে বলা হলে সে নানা প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে নানা অজুহাতে বহু সালিশ দরবারকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে কালখেপন করে অন্যত্রে ভূমি বিক্রয় করে ব্যাংক টাকা পরিশোধের প্রতারনার নতুন ফান্দি আঁকে। অপরদিকে প্রবাসী আজিজুল হক উপায় অন্তর না দেখে আইনের প্রতি শ্রদ্বাবোধ রেখে ফেনী সদর আমলী আদালতে ফেনী সি/আর-মামলা নং৫৫৭/২২ বাদী হইয়া মামলা দাখিল করেন। যা বর্তমানে পি.বি.আই এর কাছে তদন্তাধীন আছে। অপরদিকে প্রতিবেদক তথ্য অনুসন্ধানে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফেনী রেজিস্ট্রি অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকের কর্তৃক অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজসে বন্ধকী দলিল রেজিষ্ট্রি অফিসে উপস্থাপন করে এই প্রতারনার ফাঁদে আজিজুল হককে ফেলা হয়েছে। এতে করে ব্যাংকে কর্মকর্তা কর্মচারীগণ দায় এড়াতে পারে না। আমরা পি.বি.আইর তদন্তের একটি নোটিশ পেয়েছি বিষয় টি খতিয়ে দেখছি। প্রবাসী অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘বায়না চুক্তি দাতা হারুনুর রশীদ ও ফেরদৌস আরা প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রয় করে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের পায়তারা করছে এবং আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রবাস থাকার সুবাদে সরলতাকে দূর্বল ভেবে আমাকে নিঃস্ব করেছে। আমি সংশ্লিস্ট সকলের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্বারেখে সকল প্রশাসনিক সহযোগিতা চাই।’ আজিজুল হকের দাবী যেহেতু আইনের প্রতি শ্রদ্বারেখে আদালতে ফৌজদারী মামলা তদন্তাধীন চলছে এবং আদালতে দেওয়ানী মামলার প্রস্তুতি চলছে সেহেতু প্রবাসীর বায়নাকৃত ভূমির দাতাগনকে বায়নাকৃত ভূমির মূল দলিল সরবরাহ না করে প্রতারক হারুনুর রসিদ গং এর কাছ থেকে আমাকে সহায়তা করুন। এ বিষয়ে, ব্যাংক কর্মকর্তা নুরুল আপসারকে ২০০৮ সালে বর্ণিত ভূমির মুল দলিল ব্যাংকে রক্ষিত থাকা অবস্থায় বিগত ১০/০৩/২০১৬ইং তারিখ রেজিষ্ট্রি অফিসে উপস্থাপনের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দুইপক্ষের সাথে বসে সমাধানের চেষ্টা চলছে। প্রবাসী আজিজুল হকের আইনজীবী এডভোকেট সাহাবউদ্দিন বলেন, পারস্পরিক যোগসাজশে প্রতারণামূলকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংকে বন্ধক রেখে বন্ধকী দলিল রেজিষ্ট্রি অফিসে উপস্থাপন করে। 
ব্যাংক কতৃপক্ষ চাইলে বিষয়টি সমাধানের পথ বের করতে পারে। অন্যথায় বায়নাকৃত ভূমির রেজিষ্ট্রি সংক্রান্ত জটিলতায় সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভুমি দাতা হারুন অর রশীদ মজুমদারের সাথেমুঠোফোনে কথা হলে  এ প্রতারনার বিষয়ে তিনি জানান ব্যাংক কতৃপক্খ স্বশরীরে উপস্থিতিতে বন্ধকী দলিল রেজিষ্ট্রি অফিসে উপস্থাপন করা হয় ।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়