Banglar Chokh | বাংলার চোখ

রেলওয়ের জমি লিজ দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নিতে তৎপর একটি চক্র

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর থেকে

প্রকাশিত: ২৩:০৮, ১৫ নভেম্বর ২০২২

রেলওয়ের জমি লিজ দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নিতে তৎপর একটি চক্র

নিজস্ব ছবি

সৈয়দপুরে ব্যক্তি মালিকানায় বৈধভাবে দখলে থাকা রেকর্ডভুক্ত জমি রেলওয়ের বলে লিজ দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নিতে তৎপর একটি চক্র। ভূয়া কাগজ তৈরী করে মিথ্যে প্রচারণা চালিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে চক্রটি। এক্ষেত্রে একজন কাউন্সিলরের নামও ব্যবহার করছে তারা। অথচ ওই কাউন্সিলরসহ যাদের লিজ গ্রহিতা হিসেবে দেখানো হয়েছে তারাও অনেকে জানেন না প্রতারণার বিষয়টি। ফলে চক্রের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, রেলওয়ের পার্বতীপুর ফিল্ড কানুনগো অফিসের জনৈক কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশে সৈয়দপুরের কতিপয় সুযোগ সন্ধানী স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। সম্প্রতি নতুন কৌশলে মাঠে নেমেছে তারা। এই কৌশলের অংশ হিসেবে শহরের বাঙ্গালীপুর মৌজায় বিপুল পরিমাণ জমি বিভিন্ন জনের নামে লিজ দেওয়া হয়েছে এমন মিথ্যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কানুনগো অফিস থেকে সরবরাহকৃত ব্রিটিশ আমলের একটি ম্যাপে উল্লেখিত জমির অংশ চিহ্নিত করে তাতে লিজ গ্রহিতা হিসেবে অনেকের নাম লিখে তা ফটোকপি আকারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। 
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো উল্লেখিত ব্যক্তিদের অধিকাংশই জানেনা যে তাদের নামে লিজ দেওয়া হয়েছে। কবে কখন কে এই বরাদ্দ দিলেন বা কিভাবেই বা তারা লিজ পেলেন সে ব্যাপারেও কেউ কিছুই অবগত নন। কারণ এ সংক্রান্ত কোন কাগজ তারা পাননি বা উপযুক্ত কোন দলিল, রশিদ বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর কর্তৃক কোন চিঠিও দেওয়া হয়নি। এমনকি লিজ নেওয়ার জন্য যারা আবেদনও করেনি তাদের নামেও লিজ দেওয়ার মত ভূয়া তথ্য প্রচার করা হয়েছে। আর যে কাগজ বা ম্যাপ দেখানো হচ্ছে তাতে রেলওয়ে কোন কর্তৃৃপক্ষেরই নাম স্বাক্ষর সিল নেই।
এমনি প্রতারণাপূর্ণ কাজে তারা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বেলাল আহমেদের নামও ব্যবহার করেছে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন ভূয়া নকশা করে তাতে আমার নামেও লিজ দেখিয়ে প্রচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে আমি কোন লিজ নেইনি। আমার নামে রেলওয়ের ওই এলাকার জমি বরাদ্দ নেই। 
তাই এমন মিথ্যাচারের মাধ্যমে আমাকে বিতর্কিত করার অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে। সামাজিকভাবে হেয় করার এই ধরণের নির্লজ্জপনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং এ বিষয়ে কাউকে বিভ্রান্ত হওয়ার আহ্বান না জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে রেলওয়ের উর্ধতন কর্তৃৃপক্ষ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের বাঙ্গালীপুর এলাকায় ওই সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এতে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতারক চক্রের দ্বারা এমন অপপ্রচার চালানোর ফলে ওই জমিগুলো ইতোপূর্বে দীর্ঘদিন থেকে যারা বৈধভাবে ভোগদখল করছেন বা যাদের নামে দলিল, রেকর্ড, খারিজ আছে তাদের সাথে নতুন করে লিজপ্রাপ্ত হিসেবে যাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে তাদের বিরোধ দেখা দিয়েছে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চক্রটি পুরাতনদের লিজ বহাল রাখার ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে তদবির বাণিজ্যে মেতেছে। একইভাবে নতুন করে লিজ নিতে আগ্রহীদের সাথেও চুক্তি করছে। 
মো. আব্দুল লতিফ নামে ওই এলাকার জমির একজন বৈধ মালিক বলেন, ওই চক্রের হোতারা এই প্রতারনামুলক প্রক্রিয়ায় নিজেদের নামেও লিজ পাওয়ার কথা বলে জমিগুলো বিক্রির মাধ্যমে বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতেও অপতৎপরতায় জড়িত। ইতোমধ্যে কিছু জমি বিক্রির বায়নাও হয়েছে। যা খুবই উদ্বেগজনক। ব্যক্তি মালিকানা জমিকে রেলওয়ের জমি দেখিয়ে এমন অভিনব বাণিজ্য কারসাজি কোনভাবে সফল হতে দেয়া যায়না।
আজিজুল ইসলাম নামে অপর একজন বলেন, প্রতারক চক্রটি একত্রিত হয়ে এমন জঘন্য কাজে নেমেছে। এই বেআইনী কাজ বন্ধে প্রশাসনসহ রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগ প্রয়োজন। নয়তো অসংখ্য মানুষ এই চক্রের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করতে এবং রেলওয়ে কর্তৃৃপক্ষ ও সরকারের উপর মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পৌর কাউন্সিলর বেলাল আহমেদসহ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত লোকজন।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়