Banglar Chokh | বাংলার চোখ

বগুড়ায় আগাম শীত অনুভূত হচ্ছে

মমিন রশীদ শাইন, বগুড়া থেকে

প্রকাশিত: ২০:৩৬, ১৭ নভেম্বর ২০২২

বগুড়ায় আগাম শীত অনুভূত হচ্ছে

নিজস্ব ছবি

বগুড়ায় এবার বেশ আগে ভাগেই শীতের আগমনী বার্তা জানান দিতে শুরু করেছে। ভোরবেলা পড়তে শুরু করেছে হালকা কুয়াশা। সেই সঙ্গে মৃদু ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। প্রতি বছর অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহে এ জেলায় শীতের আগমন ঘটলেও এবার আগেই শুরু হয়েছে শীত। কার্তিক মাসেই শীতের আগমী বার্তা জানান দিচ্ছে এবার শীতে। 

মঙ্গলবার ভোরে দেখা যায়, হালকা কুয়াশায় ঢেকে রয়েছে রাস্তাঘাট। সড়কে-মহাসড়কে বাস-ট্রাকগুলো চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। ভোরে ও সকালে অনেকেই নিজ নিজ গন্তব্য বের হয়েছেন হালকা গরম কাপড় গায়ে মুড়িয়ে। আর ঘাসের ওপর ভোরের সূর্য হালকা লালচে রঙয়ের ঝিলিক দিচ্ছে।

মূলত পৌষ-মাঘ  এ দুই মাস শীতকাল ধরা হলেও আশ্বিন-কার্তিকের দিকেই গুটি গুটি পায়ে শীতের আগাম বার্তা জানান দেয়। বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়, ঘাসের ওপর ভোরের সূর্য হালকা লালচে রঙয়ের ঝিলিক দিচ্ছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় প্রতিটি ঘাসের মাথায় মুক্তোর মতো শিশির কণা জমে আছে।

উত্তরের জেলা গুলোতে  শীতের আমেজ নেমে আসে বেশ আগে ভাগেই। সারাদিনের ভ্যাপসা গরমের পর রাতের প্রকৃতিতে শুরু হয়েছে শীতের হিমেল হাওয়া। অপরূপ হেমন্তে র সকালে মিষ্টি রোদ পড়ে গাছের সবুজ পাতার ওপর। কুয়াশার সকালে শিশির ভেজা মাটিতে ঝরে পড়ে শিউলি ফুল। কুয়াশায় চাদরে ঢেকে যায় রাস্তা -ঘাট। সড়কে যানবাহন চলে ধীরগতিতে হেডলাইট জ্বালিয়ে। এসবই জানান দেয় শীত আসছে।

স্থানীয়রা বলছেন, কয়েক দিন ধরে এ বছর আগাম শীত অনুভূত হচ্ছে। দিনের বেলা কিছুটা গরম থাকলেও সন্ধ্যা নামার পর থেকেই কুয়াশা পড়তে শুরু করে । রাতভর হালকা বৃষ্টির মত টুপটাপ করে কুয়াশা ঝরতে থাকে। বিশেষ করে মাঠে ঘাসের আগায় ও ধানের শীষে জমতে দেখা যাচ্ছে বিন্দু বিন্দু কুয়াশা।

জেলার গ্রাম-গঞ্জগুলোয় দেখা গেছে, পুরণো কাঁথা নতুন করে সেলাই করে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারীরা। বাড়ির পাশে গাছের নিচে বসে রং-বেরঙের সুতো দিয়ে তারা তৈরি করছেন কাঁথা।

সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের সবজি চাষি আমীর আলী বলেন, হালকা শীতের কারণে ফসলে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস আক্রমণ শুরু করে। এতে ফসলে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়।

পৌর এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, এ বছর আগাম শীত অনূভব হচ্ছে। দিনের বেলা কিছুটা গরম থাকলেও সন্ধ্যা নামার পর থেকেই কুয়াশা পড়তে শুরু করে। আর এবছর বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। তাই এবার শীত বেশি হবে। আর শীতের আগাম বার্তা এখনই পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সদর উপজেলার ফাঁপোড় ইউনিয়নের কৈচড় গ্রামের বাসচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, গত বছর এমন সময়ে কোনো কুয়াশা লক্ষ্য করিনি। এ বছর দু-এক সপ্তাহ ধরে সকালে বাস নিয়ে বের হবার সময় হেডলাইড জ্বালিয়ে রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে।

বগুড়ার সিনিয়র সাংবাদিক বাদল চৌধুরী জানান, গত  কয়েকদিন ধরে কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া শীতের আগামনী বার্তা জানান দিচ্ছে। তাই এখন থেকে আমাদের শীতের প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে হবে। শীত শুরুর আগেই যদি সরকার শীতবস্ত্র বিতরণ করেন তাহলে হয়তো নিম্ন আেয়ের  মানুষর শীতকে ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারবে। আমরা প্রতিবছর দেখি শীতের মাঝামাঝি সময়ে যখন কঠিন ঠান্ডাটা চলে যায় তখন সরকারি-বেসরকারি এনজিও প্রতিষ্ঠান থেকে শীতের বস্ত্র বিতরণ করা হয়।  এসব শীতবস্ত্র যদি আগে বিতরণ করা হয় তাহলে হয়তো নিম্ন আয়ের মানুষ এরা শীত থেকে রেহাই পাবে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দুলাল হোসেন বলেন, শীতের আগাম বার্তা জানান দিচ্ছে প্রকৃিত। কয়েক দিন ধরে উঁচু-নিচু জমিতে শিশিরের পানি জমেছে। সবজি চাষের শিশিরের পানি ও শীতের কারণে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস দেখা দিতে পারে। শীতের সবজি বা ফসলের বেশি যত্ন নিতে হবে। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ে কর্মীরা কৃষকদের কারিগরি সহায়তাসহ নানা পরামর্শ দিচ্ছেন।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়