Banglar Chokh | বাংলার চোখ

সৈয়দপুরে অনুপযোগি লুপ লাইনে পাথরখালাস: ঘটছে ওয়াগন লাইনচ্যূতের ঘটনা 

মিজানুর রহমান মিলন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:৩৮, ১৮ নভেম্বর ২০২২

সৈয়দপুরে অনুপযোগি লুপ লাইনে পাথরখালাস: ঘটছে ওয়াগন লাইনচ্যূতের ঘটনা 

নিজস্ব ছবি

নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে অনুপযোগি লুপ লাইনে আমদানিকৃত পাথর খালাস করা হচ্ছে। আর রেলওয়ে স্টেশনের কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার কারণে প্রায় পাথরবাহী ওয়াগনের লাইনচ্যুতের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ভারতীয় পাথরবাহী একটি ওয়াগন  ট্রেনের পাঁচটি ওয়াগন লাইনচ্যূ হয়েছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে পাথর খালাসের পর শেষে ট্রেনটি  ভারতে ফিরে যাওয়ার প্রাক্কালে এ লাইনচ্যূতের ঘটনাটি ঘটে। যদিও স্থানীয় রেলওয়ে প্রকৗশল বিভাগ  থেকে অনেক আগেই ওই লুপ লাইনটি ওয়াগন প্রবেশের অনুপযোগি হিসেবে ঘোষনা  দেওয়া হয়। আর এ সংক্রান্ত একাধিক পত্র প্রদান করা হয়েছে সৈয়দপুর  স্টেশন কর্তৃপক্ষকে।
 স্থানীয় রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নীলফামারীর চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেলপথ চালুর পর থেকে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা আমদানিকৃত পাথর ওই রেলপথে পাশের দেশ ভারত থেকে সৈয়দপুরে নিয়ে আসছেন।  পাথরের ওয়াগনগুলো নীলফামারীর চিলাহাটি  থেকে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে আসার পর তা আনলোড করা হচ্ছে। আর সৈয়দপুর স্টেশন কর্তৃপক্ষের নিয়োজিত অদক্ষ শ্রমিকের মাধ্যমে অপরিকল্পিতভাবে ওয়াগন থেকে আমদানিকৃত পাথরগুলো সরাসরি  রেলপথের ওপর  ফেলা হচ্ছে। এভাবে  দিনে রাতে পাথর আনলোড করায় রেললাইন (ট্রাক) ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পরে ওইসব পাথর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের  শ্রমিকেরা  ভেকু  মেশিন দিয়ে তা পণ্যবাহী ট্রাকে লোড করে গন্তব্যে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনের পাঁচ নম্বর লুপ লাইনের দুই পাশের মাটিসহ কাঠের স্লিপার ও রেল পাতের মারাত্মক ক্ষতি সাধন হচ্ছে। আর এতে করে প্রায় পাথরবাহী ওয়াগন লাইনচ্যুতের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার পাথরবাহী ভারতীয় পাঁচটি ওয়াগন লাইনচ্যূত হয়।
রেলওয়ে স্টেশন সূত্র মতে, গত রবিবার হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেলওয়ে লাইনে ভারত থেকে আমদানি করা পাথর নিয়ে একটি মালবাহী  ট্রেন আসে সৈয়দপুরে রেলওয়ে স্টেশনের পৌঁছে। এরপর পাঁচ নম্বর লুপ লাইনে পাথর খালাস শেষে গত বুধবার গভীর রাতে ওয়াগনগুলো ভারতে ফিরছিল। এ সময় সেখানে মালবাহী ট্রেনটির পাঁচটি ওয়াগন লাইনচ্যূত হয়। এ ঘটনার প্রায় ১৬ ঘন্টা পরে  দিনাজপুরের পার্বতীপুরের লোকোশেড  থেকে একটি উদ্ধারকারী  (রিলিফ) ট্রেন ঘটনাস্থলে আসে। এরপর প্রায় চার ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে রাত ১২টার দিকে লাইনচ্যূত ওয়াগন পাঁচটি  উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
 সৈয়দপুর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. সুলতান মৃধা জানান, বর্তমানে রেলওয়ে স্টেশনের পাঁচ নম্বর লুপ লাইনে পাথর আনলোড ও ভেকু ব্যবহার করায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও পাথর আনলোডে ভেকু ব্যবহার করায় লুপ লাইনের কাঠের স্লিপারগুলো ভেঙ্গে গেছে। এতে লুপ লাইনটিতে ওয়াগন প্রবেশের অনুপযোগি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আর সৈয়দপুর স্টেশন মাষ্টারকে এ সংক্রান্ত  চিঠি দিয়ে অবগতও করা হয়। কিন্তু তারপরও স্টেশন মাষ্টার অনেকটাইঝুঁকি নিয়ে পাথরের ওয়াগন ওই লুপ লাইনে প্রবেশ করাচ্ছেন বলে জানান তিনি।  
সৈয়দপুর  রেলওয়ে  স্টেশন মাস্টার ওবাইদুল ইসলাম রতন জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হওয়ায় এ রেলওয়ে স্টেশনের লুপ লাইনগুলো চলাচলের অনুপোযোগি হয়ে পড়েছে। রেলওয়ে বিভাগ থেকে লুপ লাইনগুলো সংস্কারের জন্য  দরপত্র আহবান করা হয়েছে বলে শুনেছি। আশা করছি খুব শিগগির লুপ লাইনগুলোর সংস্কার কাজ শুরু হবে। তবে সদ্য সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে যোগদানকারী ওই স্টেশনে মাস্টার রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের দেওয়া চিঠির বিষয়ে কিছুই বলতে পারেননি। 
 

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়