Banglar Chokh | বাংলার চোখ

শুন্য রেখায় স্বজনের মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করলো বিজিবি-বিএসএফ

মুজিবনগর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:০৪, ২৭ নভেম্বর ২০২২

শুন্য রেখায় স্বজনের মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করলো বিজিবি-বিএসএফ

নিজস্ব ছবি

মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্তের স্বাধীনতা সড়কের ১০৫নং পিলারে শুন্য রেখায় বাংলাদেশী স্বজনদেরকে ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করালো বিজিবি-বিএসএফ। শনিবার দুপুর ২টার সময় স্বাধীনতা সড়কের  শুন্যলাইনে বেলতলায় সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ ভাবে লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। 
মুজিবনগর বিজিবি ক্যাম্প কমাণ্ডার শহিদ শেখ ও বিএসএফ এর হৃদয় ক্যাম্প কমাণ্ডার তরুণ কুমার শর্মার নেতৃত্বে উভয় বাহিনীর দুটি টিম এ শুন্য রেখায় উপস্থিত ছিলেন। এসময় বাগোয়ান ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সিবাস্তিন মল্লিক উপস্থিত ছিলেন। 
বিজিবি জানায়, ভারতের নদীয়া জেলার চাপড়া থানা হৃদয়পুর গ্রামের সুকৃতি মণ্ডল ৩৫ বছর আগে বিবাহসূত্রে ভারতের হৃদয়পুরে বসবাস করছেন। তিনি দির্ঘদিন ধরে রোগে ভুগছিলেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টার দিকে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে মুজিবনগর উপজেলার ভবেরপাড়া গ্রামের তার ভাই প্রভুদান হালসোনা স্থানীয় ইউপি সদস্য সেবাস্তিন মল্লিকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে আবেদন করেন। বিজিবি আবেদন পেয়ে বিএসএফকে লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করার জন্য পত্র দেয়। উভয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সম্বন্বয়ে শনিবার দুপুরে শুন্য রেখায় স্বজনদের লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। 
ইউপি সদস্য সিবাস্তিন মল্লিক জানান আমি খবর পেয়ে মুজিবনগর বিজিবিকে জানালে তিনারা আমাকে আশ্বস্ত করেন এবং আজ চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি ও বিএসএফ এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বজনদের দেখানো সু ব্যবস্তা কারায় দুই দেশের সিমান্ত রক্ষি বাহিনীকে ধন্যাবাদ জানান তিনি।

সুকৃতি মণ্ডলের ভাইয়ের ছেলে জানান আমার পিসির মরদেহ দেখতে পাবো সেটা আমরা ভাবিনি পিসিকে শেষ বারের মত দেখতে পেয়ে খুব ভাল লাগছে এবং দুই দেশের সিমান্ত রক্ষি বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
 জুম্মত শেখ ভারতীয় নাগরিক বলেন এভাবে সুকরতি মন্ডলকে তার আত্বীয় স্বজনদের দেখানো এটা খুবই ভালো একটা দিক এভাবেই দুই দেশের সম্পর্ক আরো মজবুত হবে বলে জানান তিনি।
সুকৃতি মণ্ডলের বোনের ছেলে ভারতীয় নাগরিক বলেন আমার মাসীর ভাই ও বোনদের শেষ বারের মত দেখানো জন্য দুই দেশের সিমান্ত রক্ষি বাহিনীকে জানালে দুই দেশের বিজিবি বিএসএফ এর সমন্বয়ে আজ দুপুরে শেষ বারের মত দেখতে পরে আমরা ধন্যবাদ জানাই সেই সাথে এরকম সুযোগ যদি বহাল থাকে তাহলে প্রত্যেকে তার আত্মীয়-স্বজনদের মৃত্যুর পর দেখতে পাবে ।
দুই দেশের সীমন্তবর্তী মানুষের সম্পর্ক উন্নয়ন, অপরাধ প্রবণতা কমাতে বিজিবি-বিএসএফ এর এ ধরণের মানবিক কার্যক্রম সীমান্তবর্তী মানুষের মাঝে নতুন বার্তা বয়ে আনবে বলে জানান দু'দেশের সীমান্তবর্তী গ্রামবাসী।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়