Banglar Chokh | বাংলার চোখ

জামালগঞ্জে নদী ভাঙ্গনে স্থানান্তরিত হচ্ছে ১২টি গ্রাম 

জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:৫৫, ২৫ জানুয়ারি ২০২৩

জামালগঞ্জে নদী ভাঙ্গনে স্থানান্তরিত হচ্ছে ১২টি গ্রাম 

নিজস্ব ছবি

অবিরাম নদী ভাঙ্গনের আতংকে দিন কাটছে জামালগঞ্জ উপজেলার ১২টি গ্রামের মানুষ। সবসময় ভয়ে থাকে কখন যেন নদীর সাথে ভাসিয়ে নিয়ে যায় তাদের ভিটাবাড়িসহ শেষ সম্ভলটুকু। ইতিমধ্যে সুরমা নদীর স্রোতের তোপে নদীর গর্বে হাড়িয়ে যাওয়ার পথে সাচনা বাজার ইউনিয়নের রামনগর, নূরপুর, সাচনা বাজার, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দক্ষিন কামলাবাজ, নয়াহালট, চানপুর, সংবাদপুর, লালপুর, লক্ষীপুর, জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের উত্তর কামলাবাজ, সাচনা গ্রাম, ফেনারবাক ইউনিয়নের শরীফপুর, রামপুর, গজারিয়া, আলীপুর, আমানীপুর সহ ১২টি গ্রাম। 
জামালগঞ্জ উপজেলার ১২টি গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সুরমা নদী। চার ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের রয়েছে গ্রামসহ মসজিদ, মাদ্রাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কবরস্থান, ও বাজার সহ প্রায় কোটি টাকার সরকারী স্থাপনা। 
এ নদীর ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে অল্পতেই নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে ১২টি গ্রামের অনেক স্থাপনা। সারা বছর চলে নদী ভাঙ্গন, বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গনের তীব্রতা আরও বাড়ে। এলাকাবাসী জানান নদী ভাংগনের কোন ব্যবস্থা না করা হলে বর্ষা মৌসুমে চলে যাবে আমানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ ১২টি গ্রামের অনেক স্থাপনা। 
ভাঙ্গনের মুখে অনেক সরকারি স্থাপনা মসজিদ, সরকারি রাস্তা অসংখ্য বাড়িঘর ও ফসলী জমি। নদী ভাঙগন রোধে কিংবা নদী শাসনের কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করা হলে ১২টি গ্রামের প্রায় শতাধিক কোটি টাকার ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। 
নূরপুর গ্রামের ৭৫ বছরের বৃদ্ধ আব্দুল বসির ও রইছ মিয়া জানান, বাড়ী ভাংতে ভাংতে জীবনটাই শেষ, আমার জীবনে ৩বার বাড়ি ভাংছে। এছাড়া ৩ বিঘার মত আবাদি জমি নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। আমানীপুর গ্রামের মৎস্যজীবী জয়মোহন বর্মন (৭০) ও দিলিন বর্মন (৬৫) বলেন কিছুদিন আগে আমার ভিটে মাটি সুরমা নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। এবার নিয়ে অমি ২ বার ভাঙ্গনের স্বীকার হলাম। কিছু করার নাই, আমাদের নদীর পারের মানুষগুলোর কপাল পোড়া। দেখি যতদিন বেচে আছি আর কতবার বাড়ি ভাংতে পারি। 
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় গত কয়েক বছর যাবত সুরমা নদীর ভাঙ্গনের মুখে কয়েকশত পরিবার, তাদের বাড়ী, সরকারি বিদ্যালয়, কবরস্থান, বাজার মসজিদ সহ আবাদী জমি  নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এখনো এসব গ্রামগুলোর ভাঙ্গন অব্যাহত আছে। সুরমা তীরবর্তী এসব গ্রামগুলোর মানুষজন আতংকে দিন কাটছে। 
এব্যপারে ফেনারবাক ইউপি চেয়ারম্যান কাজল চন্দ্র তালুকদার বলেন, ফেনারবাক ইউনিয়ন পরিষদের প্রচেষ্টায় মাননীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন সাহেবের ঐকান্তিক চেষ্টায় পানি উন্নয়নবোর্ড থেকে ৫৬লক্ষ টাকা ব্যয়ে  ১৪ হাজার পাচশত জিও ব্যাগ ফেলে জরুরী ভিত্তিতে কাজ করা হয়েছে। আরও একটি প্রকল্পে স্থায়ীভাবে গ্রামটি রক্ষার জন্য ৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার প্রকল্পটি প্রক্রিয়াধিন আছে। আশা করি দ্রুতই কাজটি সম্পন্ন হবে। 
এব্যপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মামুন হাওলাদার জানান, ইমার্জেন্সি ভিত্তিতে ৫৬লক্ষ টাকার জিও ব্যাগ ফেলে আপাতত আমানিপুর বাজারও গ্রামটি রক্ষা করা হয়েছে। মাননীয় সংসদ সদস্যের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এশিয়ান ডেভোলাপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে এমার্জেন্সী এসিস্টেন্ট প্রজেক্টের মাধ্যমে এই অর্থ বছরে  ৫কোটি ৫০লক্ষ টাকার টেন্ডার হবে। 
এব্যপারে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, দীর্ঘদিন যাবত জামালগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম ভাংগনের শিকার। তারা নদী ভাংগনের কারনে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ভাংগন কবলিত এলাকার ভাংগন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। ইতিমধ্যে আমানীপুর বাজার সহ গ্রামটিতে নদী ভাঙ্গনে ইমার্জেন্সি ভিত্তিতে ৫৬ লক্ষ টাকা ব্যায়ে জিও ব্যাগ ফালানো হয়েছে এবং ৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প কিছু দিনের মধ্যেই টেন্ডার হবে। এছাড়াও সাচনাবাজার, রামনগর, নূরপুর সহ নদী ভাঙ্গন রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 
 

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়