প্র্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭:১১, ৯ জুন ২০২৬
কক্সবাজারের মাতামুহুরীতে জানালার গ্রিল কেটে ডাকাতি ও ছবি :সংগৃহীত
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় এক ব্যক্তির বাড়িতে ডাকাতি সংঘটনের পর গৃহকর্ত্রী ও তার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (৮ জুন) রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া ডলনিরঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের গৃহকর্তা পেশায় চট্টগ্রামের একজন চাকরিজীবী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ডাকাতরা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে ওই বাড়িতে অবস্থানরত গৃহকর্ত্রী ও তার মেয়েকে তারা সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
পরে স্বজনরা ভুক্তভোগী মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশসহ থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর এক মামা জানান, তার বোন ও স্কুলপড়ুয়া ভাগনিকে পাশবিক অত্যাচার করেছে ডাকাতদল। বর্তমানে তার ভাগনির অবস্থা আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউ) রেখে তাকে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. মাসুদ ডাকাতি ও মা-মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন রেজাউল, মেহেদী, বাবু, কেফায়েত ও তানজিদ। অপর একজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। তবে আটকরা সবাই পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, ঘটনাটি রাতে অবহিত হওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে স্থানীয় জনতার সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।