আলমগীর মানিক,রাঙামাটি
প্রকাশ: ২১:২০, ৯ জুন ২০২৬
ছবি:বাংলার চোখ
পার্বত্য রাঙামাটিতে বিভিন্ন উষ্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটানোর অভিযোগে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে জেলা পুলিশ। অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অন্তত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি কোতয়ালী থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা হলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাঙামাটি পৌর কমিটির আহ্বায়ক ভেদভেদী এলাকার বাসিন্দা এ.এইচ.এম আলাউদ্দিন, যুবলীগ নেতা রিজার্ভ বাজারের শুটকিপট্টি এলাকার বাসিন্দা আরাফাত হোসেন এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ কলোনীর বাসিন্দা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও কথিত কিশোর গ্যাং লিডার সাইফুল ইসলাম পারভেজ।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাইফুল ইসলাম পারভেজের বিরুদ্ধে ‘ডেভিল হান্ট’ সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রাঙামাটি কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার এবং মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিবের নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
পুলিশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি, উসকানিমূলক কার্যক্রম এবং অপরাধমূলক তৎপরতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শহর ও আশপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের তালিকা প্রস্তুত করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে অভিযানের খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা আশা করছেন, অপরাধী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর অবস্থানের ফলে রাঙামাটিতে শান্তি-শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।