Banglar Chokh | বাংলার চোখ

মোংলায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার

প্রকাশিত: ০২:০১, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

মোংলায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার

নিজস্ব ছবি

মোংলায় এক গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে স্বামীকে গ্রেফতার করেছেন। 

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, পৌর শহরের শ্রমকল্যাণ সড়কের বাসিন্দা বাবুল হোসেনের মেয়ে বর্নালীর (২০) বিয়ে হয় মাদ্রাসা রোডের বাসিন্দা এনামুল খাঁনের ছেলে মহসিন খাঁনের সাথে। গোপনে বিয়ের ৪ মাসের মাথায় শনিবার সকালে ঝগড়া-ঝাটি করে স্বামী মহসিন স্ত্রী বর্নালীকে ঘরে আটকে রেখে চলে যান।

এরপর সকাল ১০টার দিকে মহসিন তার স্ত্রীর মোবাইল ফোন আনার জন্য শ্যালক/শালা জুবায়ের হোসেন মারুফকে (১৪) ওই ঘরে পাঠান। শ্যালক মারুফ বলেন, দুলা ভাই মহসিন আমাকে ফোন করে আমার বোনের মোবাইলটি এনে দিতে বলেন। তখন আমি বোনের বাসায় গিয়ে দেখি বাহির থেকে ঘরের দরজা দেয়া। পরে ঘরে ঢুকে দেখি আমার বোন রান্না ঘরে চালের আড়ার সাথে গলায় দড়ি দেয়া অবস্থায় ঝুলে রয়েছে। পরে আমি আমার মাকে খবর দিই।

বর্নালীর মা গোলজান বিবি (৫৫) বলেন, আমার মেয়েকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে, আমি মহসিনের বিচার চাই।

বর্নালীর জমজ বোন বাবলী (২০) ও বড় বোন সুইটি (২৩) বলেন, মহসিনের আগের বউ আছে। তারপরও ৪ মাস আগে আমাদের বোনকে ফুসলিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিয়ে করে মহসিন। মহসিন আমাদের বোন বর্নালীকে নিয়ে পৌর শহরের সাত্তার লেনে ভাড়া বাড়ীতে থাকতো। আর প্রায়ই বর্নালীকে মারধর করতো মহসিন। কিছুদিন আগেও মহসিন আমাদের বোন বর্নালীকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। সম্প্রতি বর্নালী ও মহসিনের একসাথের ছবি ফেসবুকে আপ করে বর্নালী।

এ নিয়ে মহসিনের আগের স্ত্রীর সাথে মহসিনের ঝগড়া হয়। সেই রাগে মহসিন শনিবার আমাদের বোন বর্নালীর সাথে ঝগড়া করে ঘরে আটকে রেখে চলে আসেন। মহসিন আমাদের বোনকে মেরে ঝুলিয়ে রেখে ঘরের দরজা আটকে রেখে বাহিরে চলে আসেন, নাকি ঝগড়ার কারণে রাগ করে আত্মহত্যা করেছেন তাতো বলতে পারছিনা। তবে এ ঘটনার জন্য মহসিনই পুরোপুরি দায়ী, আমরা এর সঠিক বিচার চাই। 

এদিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে মোংলা-রামপাল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আসিফ ইকবাল ও মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মহসিনকে জিজ্ঞাসাবাদও করেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বর্নালীকে বিয়ে করার কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি মহসিন। পরে ঘটনাস্থল থেকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে পুলিশ মহসিনকে গ্রেফতার করেছেন। এরপর শনিবার সন্ধ্যায় বর্নালীর লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। লাশের ময়না তদন্তের রবিবার সকালে বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন ওসি মনিরুল ইসলাম। 

মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, বর্নালীকে আত্মহত্যার প্ররোচনায় স্বামী মহসিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর রবিবার সকালে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে। 

মোংলা-রামপাল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আসিফ ইকবাল বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে এটি আত্মহত্যা, কারণ শরীরের কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কিন্তু আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী স্বামী মহসিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারপরও বিয়ে ও এ আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে পরিবারসহ এলাকাবাসীর ভিন্ন ভিন্ন মত থাকায় আরো অধিকতর তদন্ত শেষে পরর্বতীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়