Banglar Chokh | বাংলার চোখ

আলীকদমে বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ইউনুচের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা  

আলীকদম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:১৮, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

আপডেট: ০৫:৪০, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

আলীকদমে বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ইউনুচের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা  

ফাইল ফটো

বান্দরবানের আলীকদম থেকে গরু চোরাচালানিতে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ের উপ-সহকারি প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপি যুগ্ন আহ্বায়ক ইউনুছ মিয়ার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন উপসহকারী প্রাণি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ ইবনে রাওহা পারভেজ। 
আলীকদম থানায় গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে মামলাটি পেনাল কোড ১৯৮০ এর ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় রুজু হয়। আলীকদম থানার ওসি মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৫ সেপ্টম্বর সকালে অভিযুক্ত ইউনুছ মিয়া প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ে এসে ৪১টি গরুর ‘প্রাণির স্বাস্থ্য সনদ’ চান। এরপর উপ-সহকারি প্রাণি সম্পদ কর্মকর্ত এসব গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে  ১১ টি গরুর অসুস্থ হিসেবে শনাক্ত করেন। এসব গরুর পায়ে ব্যথা, মুখে ও পায়ে ঘা , সেলাইবেশন এবং দুর্বল  হওয়ায় এক সপ্তাহ আইসোলেশন ও অবজারবেশনে রাখার জন্য চিকিৎসা সনদ প্রদান করেন।  
এদিকে, ২০ সেপ্টেম্বর সকালে ৪১টি গরুর ‘স্বাস্থ্য সনদ’ জাল করে অভিযুক্ত ইউনুচ গরুগুলি আলীকদম থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রাকযোগে কানামাঝি আর্মি ক্যাম্পে পৌঁছুলে খবর পেয়ে বিজিবির সহায়তা নিয়ে ইউএনও মেহরুবা ইসলাম গরুগুলো আটক করেন। এরপর চতুর গরু ব্যবসায়ী ইউনুচ আটককৃত গরুর মালিকানা দাবী করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট বিভিন্ন কাগজপত্র উপস্থাপন করে। এতে দেখা যায়, উপস্থাপিত ৪১টি গরুর ‘স্বাস্থ্য সনদ’-এ তারিখ ও স্বাক্ষরের জায়গায় ঘষামাঝা রয়েছে। এতে সন্দেহ হলে উপ-সহকারি প্রাণি সম্পদক কর্মকর্তা পারভেজকে ডেকে পাঠান। এরপর কথিত গরুর ‘স্বাস্থ্য সনদ’-এ তারিখ ও স্বাক্ষর জালের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসা সনদ জাল করে আলীকদম উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস দীর্ঘদিন ধরে গরু ব্যবসা ও গরু ব্যবসাকেন্দ্রিক বিশাল চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ব্যবসায়ীরা গরু আনলে ব্যবসায়ীদের সেসব জিম্মি করে সেসব গরু অভিযুক্ত ইউনুচ নামমাত্র মূল্যে কিনে আলীকদম থেকে চকরিয়া, উখিয়া, টেকনাফ প্রভৃতি এলাকায় পাচার করতেন। মায়ানমার থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গরু চোরাচালানির ব্যাপারে প্রশাসন নজরদারীতে ছিল। তাকে সহযোগিতা করতেন কয়েকজন জনপ্রতিনিধি।
জানতে চাইলে মামলার বাদী উপসহকারী প্রাণি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ ইবনে রাওহা পারভেজ বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ১১টি গরু অসুস্থ হওয়ায় আইসোলেশনে রাখার জন্য ইউনুচকে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি স্বাক্ষর ও তারিখ জাল করে গরুগুলো আলীকদম থেকে ট্রাকযোগে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বিজিবি ও ইউএনও সেসব গরু আটক করেন। তবে গরুগুলো দেশীয় নাকি অদেশীয় তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। 
এ ব্যাপারে আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন সরকার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আলীকদমে বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক
ইউনুচের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা
ক্যাপশান: অভিযুক্ত ইউনুচ মিয়া
আলীকদম প্রতিনিধি
বান্দরবানের আলীকদম থেকে গরু চোরাচালানিতে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ের উপ-সহকারি প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপি যুগ্ন আহ্বায়ক ইউনুছ মিয়ার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন উপসহকারী প্রাণি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ ইবনে রাওহা পারভেজ। 
আলীকদম থানায় গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে মামলাটি পেনাল কোড ১৯৮০ এর ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় রুজু হয়। আলীকদম থানার ওসি মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৫ সেপ্টম্বর সকালে অভিযুক্ত ইউনুছ মিয়া প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ে এসে ৪১টি গরুর ‘প্রাণির স্বাস্থ্য সনদ’ চান। এরপর উপ-সহকারি প্রাণি সম্পদ কর্মকর্ত এসব গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে  ১১ টি গরুর অসুস্থ হিসেবে শনাক্ত করেন। এসব গরুর পায়ে ব্যথা, মুখে ও পায়ে ঘা , সেলাইবেশন এবং দুর্বল  হওয়ায় এক সপ্তাহ আইসোলেশন ও অবজারবেশনে রাখার জন্য চিকিৎসা সনদ প্রদান করেন।  
এদিকে, ২০ সেপ্টেম্বর সকালে ৪১টি গরুর ‘স্বাস্থ্য সনদ’ জাল করে অভিযুক্ত ইউনুচ গরুগুলি আলীকদম থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রাকযোগে কানামাঝি আর্মি ক্যাম্পে পৌঁছুলে খবর পেয়ে বিজিবির সহায়তা নিয়ে ইউএনও মেহরুবা ইসলাম গরুগুলো আটক করেন। এরপর চতুর গরু ব্যবসায়ী ইউনুচ আটককৃত গরুর মালিকানা দাবী করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট বিভিন্ন কাগজপত্র উপস্থাপন করে। এতে দেখা যায়, উপস্থাপিত ৪১টি গরুর ‘স্বাস্থ্য সনদ’-এ তারিখ ও স্বাক্ষরের জায়গায় ঘষামাঝা রয়েছে। এতে সন্দেহ হলে উপ-সহকারি প্রাণি সম্পদক কর্মকর্তা পারভেজকে ডেকে পাঠান। এরপর কথিত গরুর ‘স্বাস্থ্য সনদ’-এ তারিখ ও স্বাক্ষর জালের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসা সনদ জাল করে আলীকদম উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস দীর্ঘদিন ধরে গরু ব্যবসা ও গরু ব্যবসাকেন্দ্রিক বিশাল চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ব্যবসায়ীরা গরু আনলে ব্যবসায়ীদের সেসব জিম্মি করে সেসব গরু অভিযুক্ত ইউনুচ নামমাত্র মূল্যে কিনে আলীকদম থেকে চকরিয়া, উখিয়া, টেকনাফ প্রভৃতি এলাকায় পাচার করতেন। মায়ানমার থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গরু চোরাচালানির ব্যাপারে প্রশাসন নজরদারীতে ছিল। তাকে সহযোগিতা করতেন কয়েকজন জনপ্রতিনিধি।
জানতে চাইলে মামলার বাদী উপসহকারী প্রাণি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ ইবনে রাওহা পারভেজ বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ১১টি গরু অসুস্থ হওয়ায় আইসোলেশনে রাখার জন্য ইউনুচকে বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি স্বাক্ষর ও তারিখ জাল করে গরুগুলো আলীকদম থেকে ট্রাকযোগে নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বিজিবি ও ইউএনও সেসব গরু আটক করেন। তবে গরুগুলো দেশীয় নাকি অদেশীয় তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। 
এ ব্যাপারে আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন সরকার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়