Banglar Chokh | বাংলার চোখ

বগুড়া রেল স্টেশন- হাড্ডিপট্টি এলাকায়  মাদকের আঁখড়া

মমিন রশীদ শাইন ,বগুড়া থেকে

প্রকাশিত: ১৩:০২, ২১ অক্টোবর ২০২২

বগুড়া রেল স্টেশন- হাড্ডিপট্টি এলাকায়  মাদকের আঁখড়া

নিজস্ব ছবি

বগুড়া রেল স্টেশন এলাকা তেকে হাড্ডিপট্টিএখন মাদকের আখড়া। এতে স্টেশন এলাকার  পথশিশু থেকে শুরু করে যুব সমাজ ধ্বংস হচ্ছে। দিনে রাতে চলছে মাদকের বেচাকেনা। রাত নামলে আঁধারে তাদের আনাগোনা শুরু হয় বেশী । তিন থেকে ছয় জনের একটি গ্রুপ করে স্টেশনের রেলের পাতে ও অন্ধকারের মধ্যে নেশার আসর বসায়। মদ, গাঁজা, হেরোইন, ড্যান্ডিসহ নানা মাদক সেবন ও অসামাজিক কাজ চলছে সেখানে। 
বগুড়া শহরতলীর হাড্ডিপট্টি বাস ষ্টা্ন্ড এলাকায়  রেল লাইন থেকে শুরু করে স্টেশন এলাকা সেউজগাড়ী ,চক সুত্রাপুর, বাদুড়তলায়  রেল লাইনের দুই পার্শ্বে মাদক হাতে বিভিন্ন বয়সের মানুষের দেখা মেলে। 
 স্থানীয় বাসিন্দারা  বলেন,  রাতে স্টেশনের আশপাশে মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের মেলা বসে। কয়েকজন মিলে দল তৈরি করে রেল লাইনের উপর বসে এবং নানা ধরনের নেশা করে। বিশেষ করে, হাড্ডি পট্টি রেল লাইন থেকে শুরু করে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত তাদের দৌরাত্ম্য। স্টেশনের পাশের বস্তির কিছু উঠতি পথশিশুরাও যুক্ত হয়। রাতে ভয়ে এখান দিয়ে মানুষ চলাচল করতে ভয় পায়। গেলে নোংরা ভাষায় কথা বলে। দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে তারা।   
শহরের কামারগাড়ী এলাকার হোসেন যাবেন ঢাকায় । তিনি বলেন, ‘ঢাকায় যাচ্ছি মামার সঙ্গে দেখা করতে। স্টেশনে সন্ধ্যায় চলে আসলাম। ট্রেন ছাড়তে আর ঘণ্টা খানেক লাগবে। হাঁটতে হাঁটতে স্টেশনের শেষ প্রান্তের দিকে যেতে চোখে পড়ল ছোট-ছোট বাচ্চারা সিগারেটের ভিতর কী সব ডুকিয়ে খাচ্ছে। পাশে কিছু যুবক বসে তারাও বোতলে তরল জাতীয় কিছু খাচ্ছে।’ 
পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করেন মোস্তফিজ  তিনি বলেন, বগুড়া  স্টেশন ও  আশপাশ এলাকায় নেশার সঙ্গে কিছু পথশিশু ও বস্তির যুবকরা জড়িতে পড়ছে। এটা মোটেও ভালো বিষয় না। পথশিশুগুলোর স্থায়ী ঠিকানা নেই, তাই অনেকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে তাদের হাতে মাদক ধরিয়ে দেয়। ভয়ংকর সব মাদক তাদের জীবন নষ্ট করে দিচ্ছে। পাশাপাশি সঠিক শিক্ষার অভাবও রয়েছে। দ্রতই তাদের মাদকের ছোবল থেকে সরিয়ে আনা প্রয়োজন। 
বগুড়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইর্নচাজ এস আই আমিনুর বলেন, ‘প্রতিদিন স্টেশনে ডিউটি দেওয়া হয়। বেশ কয়েকজনকে ধরা হয়েছে,  ৩টি মামলাও দেয়া হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে, আমাদের কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।  
বগুড়া ষ্টেডিয়াম ফাঁড়ি ইনচার্জ হরিদাস বলেন, ‘মাঝে মধ্যে মানুষের মুখে শুনি কিছু বখাটেরা স্টেশন থেকে দূরে বসে মাদক সেবন ও বিক্রি করে। আমি সেটা জানামাত্রই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই। সবসময় সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে স্টেশন এলাকাকে  সুরক্ষিত রাখার। কিন্ত ষ্টেশন বা রেল লাইনের উপর রেল পুলিশ দেখে থানা পুলিশের আওতায় না থাকায় ব্যবস্থ নিতে পারি না।  
 

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়