১৪ জুন ২০২১, সোমবার ০৪:৩৩:২৮ এএম
সর্বশেষ:

১৫ মে ২০২১ ১০:১৬:৩১ এএম শনিবার     Print this E-mail this

লকডাউনে পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া নিয়ে নানান মত

ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলার চোখ
 লকডাউনে পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া নিয়ে নানান মত

করোনাকালে লকডাউনের বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া ঠিক হবে কিনা, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন পুলিশ, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা। কেউ বলছেন, পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা দিলে তার অপব্যবহার হতে পারে। বরং সেনাবাহিনী মোতায়েন করে তাদেরকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে লকডাউন বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। অপরদিকে সাবেক ও বর্তমান পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করেন, লকডাউনের বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করতে হলে ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮’ এর সংশোধনী এনে পুলিশকে ক্ষমতা দিতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, ‘পুলিশ হচ্ছে আদেশ বাস্তবায়নকারী সংস্থা। যারা আদেশ বাস্তবায়ন করে, তাদেরকে যদি বিচারক দায়িত্ব দিয়ে দেন, তাহলে যে ভারসাম্য আছে, সেটা নষ্ট হয়ে যাবে। পুলিশের ওপর এমনিতেই মানুষের একটা সন্দেহ ও অনাস্থা রয়েছে। পুলিশকে যদি এই বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে এক ধরনের বিপর্যয় হতে পারে। ভারসাম্য রক্ষা করাটা কঠিন হবে। দুর্নীতি বাড়বে। আস্থার সংকট বৃদ্ধি পাবে। রাস্তাঘাটে তল্লাশির নামে পুলিশ যা করে, সেটা তো আমরা জানি। তাই এই সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। না-হলে সংকট আরও তৈরি হবে। পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা না দিয়ে সেনাবাহিনী দিয়ে টহল দেওয়ানো যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারকে কঠোর ঘোষণা দিতে হবে যে, যাদেরকে মাস্কবিহীন দেখা যাবে, তাদেরকে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়া হবে। বিভিন্ন জায়গায় ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে জরিমানা ও তাৎক্ষণিক বিচারের ব্যবস্থা যদি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে জনগণ মানতে বাধ্য হবে। একেক সময় একেক ঘোষণা না দিয়ে, সরকার যদি সুনির্দিষ্টভাবে কঠোর বার্তাটা দিতে পারে, তাহলে অবশ্যই আদেশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। সরকারের একেক সময় একেক ঘোষণার কারণে মানুষ বিভ্রান্ত হয়েছে এবং ঈদের সময় তারা গ্রামমুখী হয়েছে। তাছাড়া কখনও কখনও কিছু মানুষ মনে করেছে— এটা সরকারের রাজনৈতিক কৌশল। কোনও মহল যেন প্রতিবাদ করতে না পারে, সে জন্য সরকার এই ব্যবস্থা নিয়েছে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া আছে। যেমন- ট্রাফিকের ক্ষেত্রে তারা জরিমানা করতে পারে। এখন যদি ১৬ মে থেকে কঠোর লকডাউন দেওয়া হয়, আর সেটা বাস্তবায়নে পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হয়, সেটা দিতে পারে। তবে আমি মনে করি, পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা না দিয়ে সেনাবাহিনী নামিয়ে তাদের যদি ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হতো, তাহলে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে মনে হয়— এটার সঠিক ব্যবহার হতো। কিন্তু পুলিশের ক্ষেত্রে অতীত ইতিহাস যদি দেখি, সেক্ষেত্রে আমার ধারণা, পুলিশের কাছে মানুষ নিগৃহীত হবে এবং এই বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।’

পুলিশ সদর দফতর থেকে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য দিতে রাজি হয়নি। তবে কোনও কোনও পুলিশ কর্মকর্তা মনে করেন, আইন করে পুলিশকে ক্ষমতা দিতে হবে। না-হলে পুলিশ কীভাবে আদেশ বাস্তবায়ন করবে।

সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ‘পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে যারা সমালোচনা করেন, তারা আইন-কানুন বুঝেন না। বিধি-বিধান সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান তাদের নেই। সরকার এখন যে কাজগুলো করছে কোনটা বিধিসম্মত হচ্ছে, আপনি মানুষকে চলাচলে বাধা দিতে পারেন? এটাতো তার সাংবিধানিক অধিকার। একজন নাগরিক যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাবে। তাকে আপনি বাধা দিতে পারেন না। সে তার কাজকর্ম করবে, ব্যবসা-বাণিজ্য করবে, সেগুলোতে বাধা দিতে পারেন না। আর তাদের বাধা দিতে হলে নির্দিষ্ট একটা আইন থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে যখন পুলিশ সমাবেশ করতে দেয় না, রাস্তা বন্ধ করে, সেসব ক্ষেত্রে একটা আইন আছে। ঠিক একইভাবে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮ নামে একটা আইন আছে। সেখানে যে বিধিনিষেধ গুলো আছে, সেটার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজিকে। সেটা কেবিনেট কিংবা জনপ্রশাসনকে দেওয়া হয়নি। আপনি একটা আইন করলেন— মাস্ক না পড়ে আপনি চলতে পারবেন না, গাড়ি বের করতে পারবেন না। তাহলে সেখানে কি পুলিশকে রাখা হয়েছে? সংক্রামক রোগ আইনে পুলিশের ন্যূনতম ক্ষমতা নেই।’

সাবেক এই আইজিপি বলেন, ‘একটা লোক মাস্ক পরলো না, তখন পুলিশ কোন আইনে তাকে বাধা দেবে। সরকার যদি মনে করে, বিধিনিষেধগুলো বলবৎ বা বাস্তবায়ন করতে হবে, তখন পুলিশকে ক্ষমতা দিতে হবে। পুলিশ ছাড়া এগুলো বাস্তবায়ন করার সামর্থ্য ও ক্ষমতা আর কারও নেই। একমাত্র পুলিশই এই সরকারি আদেশগুলো বাস্তবায়ন করবে। এখন আইনে যদি পুলিশকে ক্ষমতা না দেন, তাহলে তারা কীভাবে বাস্তবায়ন করবে। যেমন- ট্রাফিক আইন আছে। সেখানে স্পট ফাইনের ব্যবস্থা আছে। যে কোনও যানবাহন আইন অমান্য করলে ট্রাফিক সার্জেন্ট তাকে দাঁড় করিয়ে জরিমানা করতে পারেন। সে ক্ষমতা আইনে দেওয়া আছে। এখন কেউ যদি করোনার বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে, তাকে জরিমানা করার জন্য পুলিশকে ক্ষমতা দিতে হবে না? ঢাকা শহরে দুই কোটি লোক বসবাস করে। আপনি যদি ২০টা মোবাইল কোর্টও করেন, তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। এই আইনে ম্যাজিস্ট্রেটেরও ক্ষমতা নাই। এটাতে শুধু ডিজি হেলথের ক্ষমতা আছে।’

তিনি বলেন, ‘আপনি এখানে পুলিশকে জরিমানা করার ক্ষমতা দেন— বিধিনিষেধ অমান্য করলে তাৎক্ষণিকভাবে একজনকে ৫০ টাকা ও বা ১০০ টাকা জরিমানা করেন। এটা না-হলে শুধু সার্কুলার দিয়ে কাজ হবে না। এগুলো কেউ মানে না।’

উৎসঃ banglatribune

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2021. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close