০১ আগস্ট ২০২১, রবিবার ০৪:১৫:১০ এএম
সর্বশেষ:

০৭ জুন ২০২১ ০১:২৬:২৫ পিএম সোমবার     Print this E-mail this

‘২ কোটি নতুন গরিবকে বাজেটে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি’

ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলার চোখ
 ‘২ কোটি নতুন গরিবকে বাজেটে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি’

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ আখ্যায়িত করে ‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’-এর আহ্বায়ক ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ’ (সিপিডি)-এর ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, করোনায় দেশে নতুন করে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ দরিদ্র হয়েছেন। আগামী অর্থবছরের বাজেটে তাদের স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, এই বাজেট প্রণয়নে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়নি। প্রস্তাবিত বাজেট এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে মনে হয়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরটি আগের ২০১৯-২০-এর তুলনায় অধিকতর ভালো কেটেছে। কিন্তু এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি মন্তব্য করেন, এতদিন আমরা তথ্যে ঘাটতি দেখে আসছি। এখন শুরু হয়েছে তথ্যের নৈরাজ্যে।

গতকাল ‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম’ আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২১-২২ : পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কী আছে’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, দেশে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী করোনার আগেও ছিল। কিন্তু করোনাজনিত কারণে এই সংখ্যা আরো বেড়েছে। করোনার কারণে হওয়া দেশের দেড় থেকে দুই কোটি নতুন গরিবকে আগামী অর্থবছরের বাজেটে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। তাদের জন্য কোনো উদ্যোগ নেই। করোনায় নতুন গরিবের সংখ্যা বাড়ল কত, তা নিয়ে বাজেটে কোনো তথ্য নেই। এ নিয়ে সরকারি কোনো পরিসংখ্যানও নেই। তাই নতুন গরিবদের জন্য কোনো নীতিও নেই। এতদিন তথ্যে ঘাটতি ছিল, এখন তথ্যের নৈরাজ্যর সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, তবে সরকারি কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও একাধিক গবেষণা সংস্থার জরিপ মতে, বর্তমানে দেশে দারিদ্র্যের হার ৩৫ থেকে ৪৩ শতাংশ। করোনার কারণে দেশে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে।

দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে প্রকৃত অর্থে বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি- এমন দাবি করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, দারিদ্র্য বিমোচনে সরকার যে ব্যয় করবে, তা জিডিপির ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। এটি আগের অর্থবছরে ছিল ১০ শতাংশ। তবে আমাদের পর্যালোচনা মতে, দারিদ্র্য বিমোচনে প্রকৃত অর্থে সরকারের ব্যয় বাড়বে না। কারণ স্বাস্থ্য, শ্রম, গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশু অধিদফতর, সেতু বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যয়কেও দারিদ্র্য বিমোচনের অংশ হিসেবে ধরা হয়েছে। কিন্তু কিভাবে এসব খাতের ব্যয় প্রত্যক্ষ দারিদ্র্য বিমোচনের আওতায় আসবে- এ বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি এবং এ বিষয়ে সরকারকে পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে যেসব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে, এতে রাস্তা বড় হয়েছে। কিন্তু সেই রাস্তার গাড়িতে পিছিয়ে পড়া মানুষকে যাত্রী হিসেবে তুলতে ভুলে গেছেন অর্থমন্ত্রী। পিছিয়ে পড়া মানুষ ওই গাড়ির যাত্রী হতে পারেন নি।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, করোনা মোকাবেলায় প্রদত্ত প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক খাত (বিশেষত বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান) অধিক সুবিধা পেয়েছে। অনানুষ্ঠানিক খাত তেমন কিছু পায়নি। চাকরি টিকিয়ে রাখা ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ ধরনের প্রণোদনা যথেষ্ট নয়।

তিনি বলেন, সরকারি হিসাবে বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ যুবক। প্রতি বছর ২০ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। কিন্তু এসব জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের বিষয়ে সরকারের স্বচ্ছ ধারণা নেই। প্রস্তাবিত বাজেটের এক জায়গায় বলা হয়েছে- তথ্যপ্রযুক্তি খাতে চলতি বছর ১০ লাখ যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং আগামী বছর এ খাতে আরো ১০ লাখ যুবকের কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু এ তথ্যের উৎস সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।

সরকারি নীতিনির্ধারণে যথাযথ তথ্য-উপাত্তের ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, হাল নাগাদ তথ্যের ঘাটতি আগেও ছিল। করোনা পরিস্থিতিতে এ সঙ্কট আরো বেড়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়, সরকারি ব্যয়, বেসরকারি বিনিয়োগ ইত্যাদি সূচকে সরকারি একেক বিভাগের তথ্যে অমিল রয়েছে। সংলাপে অংশ নিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তথ্য না থাকায় পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেয়া যাচ্ছে না। আবার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় গরিব মানুষের কাছে নগদ টাকাও পৌঁছানো যাচ্ছে না। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের জন্য করছাড় যথেষ্ট নয়।

তিনি আরো বলেন, পিছিয়ে পড়া বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিতে সবার আগে যথাযথ তথ্য-উপাত্ত জরুরি, যা বাজেটে নেই। যদি এটার পরিমাপ করতেই না পারি তাহলে বাস্তবায়ন কিভাবে করব? তবে বাজেটে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ছাড় যথেষ্ট নয়।

জনস্বাস্থ্যবিদ মোশতাক রাজা চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের মৌলিক সমস্যা সম্পর্কে কোনো বক্তব্য নেই। সংস্কারের উদ্যোগ নেই। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে কোভিড-কে বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এজন্য একটি ‘স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠন করা যেতে পারে।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম বলেন, করপোরেট কর কমানো হলেও করোনাকালে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেয়ার জন্য তেমন উদ্যোগ নেই।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, করোনার কারণে শিক্ষা খাত বিপর্যয়ের বিষয়টি বাজেটে আনা হয়নি। অন-লাইনে সচ্ছল পরিবারের সন্তানেরা বেশি ক্লাস করছে। কিন্তু পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা একদমই ক্লাস করতে পারছে না। এদের বিষয়ে বাজেটে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি।

উৎসঃ dailynayadiganta

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2021. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close