২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার ১১:৪১:২৩ পিএম
সর্বশেষ:

১৬ জুলাই ২০২১ ০১:০৫:৪৫ পিএম শুক্রবার     Print this E-mail this

সবই ঠিক থাকে বেতন-বোনাস দেওয়ার সময় কেবল তালবাহানা

সোহরাব হোসেন, উত্তরা, ঢাকা থেকে
বাংলার চোখ
 সবই ঠিক থাকে বেতন-বোনাস দেওয়ার সময় কেবল তালবাহানা

দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি এদেশের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত আসলেই-প্রচুর পরিমানে অর্ডার আছে, সময় মতো শিপমেন্ট করতে না পারলে বায়ার হারানোর শঙ্কা সহ নানা যুক্তি সরকারের কাছে তুলে ধরে কারখানা খোলা রাখার দাবি করেন মালিক নেতারা। সরকারও মালিকদের দাবি মেনে নিয়ে লকডাউনে শিল্প-কারখানা এ আওতার বাইরে রাখে। শুধু মালিকদের মুনাফার জন্য শ্রমিকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা চালু রাখে। কিন্তু বেতন-বোনাস দেওয়ার সময় এলেই- অর্ডার কম, শিপমেন্ট কম, এধরনের যুক্তি দিয়ে শ্রমিকের সাথে তালবাহানা করেন কারখানার মালিকরা।

করোনায় কারখানা খোলা তবুও শ্রমিকের পাওনার বেলা এলেই মালিকরা করোনা পরিস্থিতির দোহাই দেন। মালিক নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী তো প্রচুর অর্ডার আছে, শিপমেন্টও হচ্ছে প্রচুর। তাহলে করোনার দোহাই দিয়ে শ্রমিকের উপর জুলুম কেন? করোনা পরিস্থিতিতে মালিকরা কোন দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত? করোনা পরিস্থিতিতে ক্ষতি হলে শ্রমিকের হচ্ছে। কারন গত দেড় বছরে এ পর্যন্ত সরকারি নির্দেশে কয়েক দফায় দিনের পর দিন গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারনে পাঁচ-ছয় গুন ভাড়া দিয়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হচ্ছে শুধুমাত্র চাকরি বাঁচানোর জন্য। বেতনের অর্ধেকই চলে যাচ্ছে গাড়ি ভাড়ায়। পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বাড়তি কোনো ভাতা তো পাচ্ছে না। মালিকরা শ্রমিকদের নিজস্ব পরিবহনে কারখানায় আনা-নেওয়ার ব্যবস্থা করার সরকারের শর্ত মৌখিকভাবে মানলেও বাস্তবে অধিকাংশ কারখানার মালিক তা মানে না। বিজিএমইএ এ ব্যাপারে একদম নীরব বললেই চলে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শ্রমিকদের করোনার টিকা নিশ্চিত করা হোক। একজন সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তা কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। শ্রমিকরা যেহেতু দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি সেহেতু কোন শ্রমিক করোনাভাইরাসে মৃত্যুবরণ করলে তাদের সমপরিমাণ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

কারখানা বন্ধ থাকলে মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেই কথা অস্বীকার করি না। কারন একটি কারখানার সাথে শত শত, হাজার হাজার শ্রমিকের বেতনের বিষয় জড়িত। বন্ধ থাকলে, কাজ না হলে কোটি কোটি টাকা বেতন দেওয়া সম্ভব না। কিন্তু কারখানা খোলা রেখে, কাজ করিয়েও তো আপনারা সময় মতো বেতন দেন না। শ্রমিকদের যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা তা দেন না।

কারখানা খোলা রাখবেন ভালো কথা, তবে শ্রমিকদের পাওনার বেলায় আপনারা তালবাহানা করতে পারবেন না। শ্রমিকের নিরাপত্তার সময়ে কেন আপনাদের অবহেলা? বেতন-বোনাসের জন্য শ্রমিকদের রাস্তায় নামতে হয় কেন? আমার মনে হয় বিজিএমইএ একতরফাভাবে শুধু মালিক পক্ষেই থাকে। বিজিএমইএ`কে শ্রমিকের দিকটাও দেখতে হবে। শুধু কাগজে কলমে না, বাস্তবেও।

শ্রমিকদের মুখে একটি কথা প্রচলিত আছে, `বিজিএমইএ শুধু মালিকদের কথাই বলে`, `তারা শুধু মালিকদের সুবিধার জন্য`। `বিজিএমইএ শ্রমিকদের জন্য না।`

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2021. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close