১৭ অক্টোবর ২০২১, রবিবার ০৯:৩৯:৫৬ এএম
সর্বশেষ:

২৫ আগস্ট ২০২১ ০৩:১৬:৪৬ এএম বুধবার     Print this E-mail this

‘সিনহাকে গুলি করেন লিয়াকত, বুট দিয়ে গলা চেপে ধরেন ওসি প্রদীপ’

ডেস্ক রিপোর্ট
বাংলার চোখ
 ‘সিনহাকে গুলি করেন লিয়াকত, বুট দিয়ে গলা চেপে ধরেন ওসি প্রদীপ’

চাঞ্চল্যকর মেজর (অব:) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মঙ্গলবার আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন সাহিদুল ইসলাম সিফাত। সাক্ষে তিনি ওইদিনের ঘটনার বর্ণনা দেন।

আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকালে সিফাত বলেন, ‘ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাহারছড়া চেকপোস্টে সিনহার গাড়ি থামান পরিদর্শক লিয়াকত আলী। সিনহা গাড়ি থেকে হাত উঁচু করে নামার সঙ্গে সঙ্গে লিয়াকত গুলি করেন। এতে সিনহা মাটিতে পড়ে গেলেও তিনি দীর্ঘ সময় বেঁচে ছিলেন। পরে আসামি ওসি প্রদীপ এসে প্রথমে সিনহার বুকের বাম পাশে লাথি মারেন। এরপর গলায় বুট জুতা দিয়ে চেপে ধরেন। এতে মেজর (অব.) সিনহা নিস্তেজ হয়ে পড়েন।’

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ মামলায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন। মামলার আসামি প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলী ও লিটন মিয়ার পক্ষে তাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, অ্যাডভোকেট সৈকত কান্তি দে এবং অ্যাডভোকেট চন্দন দাশ বাদীকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত জেরা করেন।

এরপর হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সিনহার সঙ্গী সাহিদুল ইসলাম প্রকাশ সিফাতের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। রাত ৮টা পর্যন্ত তার সাক্ষ্যগ্রহণ চলে।

এদিন সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে আসামি লিয়াকত আলীর আইনজীবী বাদী শারমিন ফেরদৌসকে জেরা করতে শুরু করেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত তা চলে। জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল দুপুর ২টার পর এক ঘণ্টার জন্য আদালত বিরতি দেন। বিরতির পর ফের আদালত শুরু কলে লিয়াকত আলীর পক্ষে তার আইনজীবী আবার বাদীকে জেরা শুরু করেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত জেরা করেন অপর দুই আসামি ওসি প্রদীপ ও লিটন মিয়ার আইনজীবী।

আসামি প্রদীপ ও লিয়াকতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন- ‘এই মামলায় এজাহার এবং সাক্ষীর বক্তব্যে যথেষ্ট গরমিল রয়েছে। আমরা আদালতেকে তা অবহিত করেছি।’ তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে আসামিদের চরিত্র হনন করা হচ্ছে। এতে বিচারের আগেই আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে।’ ন্যায় বিচারের স্বার্থে এই ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান।

এর আগে সোমবার সকালে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে মেজর সিনহা হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিনে ১২ জন আসামির পক্ষে আইনজীবীরা বাদীকে জেরা করেন।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফের শামলাপুর চেকপোস্টে মেজর সিনহা নিহত হন পুলিশের গুলিতে। টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকতসহ ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসী। পরে গ্রেপ্তার করা হয় ঘটনার সময় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের তিন সদস্যসহ পুলিশের তিন সোর্সকে।

চার মাসেরও বেশি সময় তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেয় তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব। এর মধ্যে ১২ আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গত ২৭ জুন মামলার ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত।

মামলায় কারাগারে থাকা ১৫ আসামি হলেন বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, দেহরক্ষী রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাগর দেব, এপিবিএনের এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ। এ ছাড়া পুলিশের মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নিজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2021. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close