২২ অক্টোবর ২০২১, শুক্রবার ০৬:১১:২১ এএম
সর্বশেষ:

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৬:৩৫:৫৫ পিএম রবিবার     Print this E-mail this

জয়পুরহাটের পলিকাদোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট

আবুবকর সিদ্দিক জয়পুরহাট প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 জয়পুরহাটের পলিকাদোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট

টিনের জীর্ণ ভবনের তিনটি কক্ষে পাঠদান চলছে জয়পুরহাটের পলিকাদোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাক প্রাথমিকের ক্লাস চলছে ভাড়া নেওয়া কক্ষে। বর্ষায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা আর গ্রীষ্মকালে গরমের তীব্রতার মধ্যেই ক্লাস করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কক্ষ সঙ্কটে পাঠদানে সমস্যা হলেও শিক্ষকদের আন্তরিকতার কারণে বিদ্যালয়ে পড়ালিখার মান অনেক ভালো। প্রতি বছর মেধা ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিলাভ করার রেকর্ডও রয়েছে এ বিদ্যালয়ে। দীর্ঘদিনের পুরাতন টিনসেডের এ স্কুলটির সন্মুখভাগ সাজানো হয়েছে বাগান বিলাশ ফুল দিয়ে। পাশাপাশি ইট-সিমেন্টের কারুকার্য দিয়েও ফুটে তোলা হয়েছে স্কুলটির নান্দনিক রূপ। কিন্তু শ্রেণি কক্ষের সঙ্কট থাকায় পাঠদানে চরম ব্যঘাত ঘটছে দাবি শিক্ষক ও স্কুল পরিচালনা কমিটির।
জয়পুরহাট শহর থেকে দশ কিলোমিটার দুরে নিভৃত পল্লীতে অবস্থান পলিকাদোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯০৬ সালে স্থানীয়দের দান করা ৪৭ শতাংশ জায়গায় স্থাপিত এ বিদ্যালয়টিতে তিন কক্ষের টিনশেড ভবন নির্মাণ করা হয় ১৯৯৬ সালে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপেক্ষাকৃত নীচু টিনশেডের এই ভবনে শিক্ষালাভ করছে ১১৯ জন শিক্ষার্থী। যাদের নিয়মিত পাঠদানে দায়িত্ব পালন করছেন ৫জন শিক্ষক। কক্ষ সঙ্কটের কারণে বেলা ১২টার মধ্যেই পাঠদান শেষ করতে হয় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের। এরপর বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে তৃতীয়,চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান। কক্ষ সঙ্কুলান না হওয়ায় স্কুল সংলগ্ন ভাড়া নেওয়া পৃথক একটি কক্ষে পাঠদান করতে হয় প্রাক-প্রাথমিকের (শিশু শ্রেণি) শিক্ষার্থীদের। যেটি স্কুলের টিনশেড ভবন থেকে প্রায় ৫০ ফুট দুরে অবস্থিত। দীর্ঘদিনের পুরাতন টিনশেড ভবনে পাঠদানে বেশি সমস্যা হয় বর্ষাকালে। বৃষ্টির সাথে ঝড় শুরু হলে ভয়ে জড়োসরো হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। তখন পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়। আর গ্রীষ্মে প্রখর রোদে টিনের গরমে ক্লাসে থাকতে চায় না শিশু শিক্ষার্থীরা।
স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৌম্য সরকার জানায়,তাদের স্কুলটি দেখতে খুবই সুন্দর। শিক্ষকরাও ভালো। কিন্তু টিনশেডের পুরাতন শ্রেণি কক্ষগুলো খুবই নীচ। গরমের সময় প্রচন্ড গরম লাগে। একই শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহমিদা ও সুমাইয়া জানায়,ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে ঘরে থাকতে ভয় করে। প্রচন্ড শব্দ হয়। তখন বিদ্যুত চলে যায়। ঘর অন্ধকার হয়ে যায়। অন্ধকারে আমরা ক্লাস করতে পারিনা’। এ ছাড়া চলমান বৈদ্যুতিক ফ্যানের শব্দে ক্লাস করতে খুবই সমস্যা হয়।
স্কুলের সহকারি শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন,‘আমাদের এই উপজেলার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনগুলো পাকা এবং দ্বিতল। কেবল আমাদের স্কুলটিই অনেক পুরানো। অথচ ভবন নির্মাণের জন্য অনেক জায়গা রয়েছে। তারপরও আমরা সাধ্যমত স্কুলটিকে সাজানোর চেষ্টা করেছি। আমাদের অফিস কক্ষও ছোট। কোন রকমে কার্যক্রম চলে।
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মওদুদ আলম বলেন,‘আমার বাবা এই স্কুলের জন্য ৪৭ শতক জায়গা দান করে গেছেন। ভবন নির্মাণের কথা বলে প্রতি বছর কর্তৃপক্ষ এই স্কুলের নাম লিখে নিয়ে যায়। কিন্তু আজ পর্যন্ত ভবন নির্মাণ হয়নি। ফলে খুব কষ্টে এখানে পড়ালিখার কার্যক্রম চলছে।
স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মো.সালাহ্ উদ্দীন বলেন,‘প্রতি বছর এ স্কুল থেকে মেধা ও সাধারণ গ্রেডে শিক্ষার্থীরা বৃত্তিলাভ করে। স্কুলের বার্ষিক ফলাফলও সন্তোষজনক। স্কুল ভিজিটে এসেও কর্তৃপক্ষ স্কুলের সার্বিক পরিবেশ এবং পড়ালিখার মান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। শ্রেণি কক্ষ সঙ্কটের বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
বিদ্যালয়টির কক্ষ সঙ্কটের কথা স্বীকার করে জয়পুরহাট সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তারেক মো.রওনাক আখতার বলেন,আমরা চেষ্টা করছি খুব দ্রুত সময়ে স্কুলটিতে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করার। এজন্য কাগজপত্রও পাঠিয়েছি। আশা করছি শীঘ্রই এটি বাস্তবায়ন হবে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2021. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close