০৪ ডিসেম্বর ২০২১, শনিবার ০৭:৩০:০১ পিএম
সর্বশেষ:

০৩ অক্টোবর ২০২১ ০৯:৩২:০৭ পিএম রবিবার     Print this E-mail this

ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে অবৈধ পণ্য ঢুকছে

মালিক্জ্জুামান কাকা, যশোর
বাংলার চোখ
 ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে অবৈধ পণ্য ঢুকছে

ভারত থেকে আমদানিকৃত বৈধ পণ্যের আড়ালে যশোরের বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে দেশে ঢুকছে কোটি কোটি টাকার অবৈধ বিভিন্ন ধরনের পণ্য। সরকারকে মোটা অংকের রাজস্ব ফাঁকি দিতে তৎপর শক্তিশালী সিন্ডিকেট বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের বন্দর এলাকায় শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। এদের কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ ব্যবসায়িরা।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, অবৈধপথে পণ্য আনতে না পেরে ওই মহলটি কাজে লাগায় ভারতীয় ট্রাক চালকদের। সামান্য টাকার বিনিময়ে ভারত থেকে কোটি কোটি টাকার আমদানিকৃত বৈধ পণ্যের সাথে অবৈধ পণ্য উঠিয়ে দেয় ট্রাকে। অবৈধ ব্যবসাটি পরিচালনার জন্য বেনাপোলের ওপারে পেট্রাপোল বন্দর এবং বনগাঁ এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক শক্তিশালী গ্রুপ। বনগাঁ এবং আশপাশের এলাকা বিশেষ করে চাঁদপাড়া, মসলন্দপুর, গোবরডাঙ্গা, গাইঘাটা অঞ্চলের ট্রাকচালক এবং তাদের সহকারিরা এ চক্রের সাথে জড়িত। আমদানি পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের আগে বনগাঁ কালিতলা পার্কিংয়ে ১৫ থেকে ২০ দিন অবস্থান করতে বাধ্য হয়। পার্কিং এলাকায় নজরদারি না থাকার কারণে বনগাঁভিত্তিক চোরাচালান চক্র পণ্য বাহী ট্রাকচালকদের সাথে সমঝোতা করে আমদানিকৃত পণ্য ভর্তি গাড়িতে উঠিয়ে দিচ্ছে শাড়ি, থ্রিপিস, কসমেটিকস, ওষুধ, মদ, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল। ভারতীয় ট্রাকচালকরা বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের পর ফোনে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে।
অবৈধ পণ্যগুলো বন্দরের বিভিন্ন শেডে কৌশলে আনলোড করে রাতের আঁধারে বন্দর থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। বেনাপোল বন্দর থেকে পণ্য বের করে নেওয়ার জন্য এপারেও রয়েছে একটি চক্র। ট্রাকভর্তি পণ্যের সাথে গোডাউন থেকে বের হচ্ছে এসব চোরাচালানের মাল। এই সিন্ডিকেট নিয়ে আতংকে থাকেন আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। গত ২ মাসে একাধিক পণ্যবাহী ট্রাকের মধ্যে অবৈধ চোরাচালানের মালামাল পাওয়ায় বিব্রত কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বৈধ পণ্যের সাথে আনা এসব অবৈধ মালামালের বিষয়ে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা কিছু না জানলেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে পাঁচটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে দায়ি করে তাদের লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করেছে। ফলে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা পড়ছেন বিপাকে। তারা এ ধরনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
গত ১৫ এপ্রিল ভারত থেকে কলকারখানার কাঁচামাল ভর্তি একটি ভারতীয় ট্রাকে মদ, শাড়ি, থ্রি পিস, কসমেটিকসহ বিভিন্ন পণ্যবোঝাই ডাব্লুউবি-২০-১৮৯০ নাম্বারের ট্রাকটি আটক করে অবৈধ পণ্যের জন্য সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে দায়ি করা হয়। এছাড়াও ভারতীয় ট্রাকচালকরা বাংলাদেশ থেকে সোনা, ডলার, ইলিশ মাছ, পাসপোর্ট নিয়ে যায়। তাদের অনেকে ইতোমধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটকও হয়েছে একাধিকবার।
গত ২৭ জুলাই এয়ার এন্টারপ্রাইজ নামে একজন আমদানিকারক ভারত থেকে ৩০০ কার্টুন বিল্ডার আমদানি করেন। সিন্ডিকেটের সদস্যরা ওপার থেকে ভারতীয় ট্রাকে (ডাব্লিউ ই-বি-৮৭-১০৮৮) ২৭ কার্টন শাড়ি, থ্রি-পিস, ওষুধ ও প্রসাধন সামগ্রি তুলে দেয়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ট্রাকটি বন্দরে ঢোকার সময় আটক করে। ট্রাকটিতে তল্লাশি চালিয়ে ২৭ কার্টুন অবৈধ পণ্য জব্দ করেন তারা। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আনোয়ার এন্টারপ্রাইজ এর লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করেন। যদিও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল না বলে তার দাবি। প্রতিটি আটকের ঘটনায় ট্রাক রেখে কৌশলে পালিয়ে যায় ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপাররা।
ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বেনাপোল বন্দরকে ঘিরে চোরাচালান ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এদের কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। আমরা এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে জানিয়েছি।
বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, সিন্ডিকেটের সাথে আমাদের কোনো কর্মকর্তা জড়িত কি না জানা নেই। তবে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বেনাপোল কাস্টম কমিশনার মো. আজিজুর রহমান বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বৈধ মালের সাথে যেসব অবৈধ মালামাল আমরা আটক করেছি, তা নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সিন্ডিকেটের কথা আমরা শুনেছি। ভারতীয় কাস্টমসের সাথে মিটিং করে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে।

 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2021. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close