০৪ ডিসেম্বর ২০২১, শনিবার ০৭:০৭:২৭ পিএম
সর্বশেষ:

০৬ অক্টোবর ২০২১ ১১:৩০:৪০ এএম বুধবার     Print this E-mail this

দক্ষিণ এশিয়ার আধিপত্যবাদের আগ্রাসী চক্রের নজর এখন বাংলাদেশের দিকে!

মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী
বাংলার চোখ
 দক্ষিণ এশিয়ার আধিপত্যবাদের আগ্রাসী চক্রের নজর এখন বাংলাদেশের দিকে!

মুসলমানদের উপর জুলুম করতে পশ্চিমা বিশ্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর ইন্ডিয়া মুসলিম জাতি সম্পর্কে মিথ্যাচার করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না!তারা ঐ মিথ্যাচার সত্য প্রমান করতে একটা সুন্দর পথ আবিস্কার করেছে!আর তা হলো ক্যামেরা ট্রাইয়েল বা বিচারের নামে প্রহসন করে সত্যতা প্রমাণ এর কাজটি করে?এটা অবশ্য নতুন কিছু নয়,মুসলিম জাতির পিতা, হযরত ইব্রাহিম(আঃ)কে নমরুদ আগুনে ফেলে হত্যা করতে চেয়ে ছিলো,কিন্তু বিশ্ব ভূমন্ডলের মালিক দয়াময় আল্লাহ পাক তাকে আগুনের ভীতরেই হেফাজত করেন।হযরত মুসা(আঃ)কে হত্যা করতে জন্মের সময় থেকে একটা জীবন শেষ করতে লক্ষাধিক শিশু হত্যা করলেও আল্লাহ পাক ফেরাউনের ঘরেই হযরত মুসা(আঃ)কে লালন-পালন করেন?অবশেষে নীল নদে ডুবিয়ে ফেরাউন ও তার সহযোগীদের মৃত্যু দিয়ে, হযরত মুসা(আঃ)কে বিজয়ী করেন। দো-জাহানের বাদশা আকাই নামদার বিশ্ব মানবতার নেতা পথ প্রদর্শক দয়ার নবী করিম সাল্লালাহু আলাইহে সাল্লাম শিশু কাল থেকে আল্লাহ পাকের কাছে আত্মসমর্পণ করার আগ পর্যন্ত আরববাসীর কাছে, রহমাতুল্লিল আল আমিন ছিলেন। যেই তিনি বিশ্ব ভূমন্ডলে মালিক আল্লাহ তালার নির্দেশনা পালনের আহবান জানালেন তখনই তিনি আবু জাহেল,আবু লাহাব, ওকবারা জুলুম নিপীড়ন চালানো শুরু করে।এমন কি দয়ার নবীকে তিন বছর কারাভোগ করতেও হয়!সেই থেকে শুরু করে আজ অবধি মানবতা, সাম্য,আইনের, শাসন,ন্যায় বিচার,নাগরিক অধিকার হরনকারী শান্তি বিঘ্নকারীরা মুসলমানদের ঘাড়ে দায়-দায়িত্ব চাপাতে অবলিলায় মিথ্যাচার করে আসছে।রোমের তখনকার বাদশাহ একজন মুসলমানকে গরম তেলে ফেলে হত্যার খেলা দেখাতে ছোট্ট ৮ বছরের নাতনিকে নিয়ে আসে! নাতনি জানতে চায় দাদু কৈ মেলা!কাউকে দেখছি না তো!তখন বাদশাহ কায়ছার জল্লাদকে ডেকে বলে নিয়ে এসো ঐ মুসলমানকে! জল্লাদ নিয়ে আসলে শিশু নাতনি বলে দাদু ওনাকে ক্ষমা করা যায় না?তিনি বলেন ও ইসলাম ত্যাগ করে তাহলে?ঐ শিশু কন্যা দৌড়ে গিয়ে বলে আপনি,ইসলাম ত্যাগ করলেই মুক্তি পাবেন!ঐ আটক মুসলমান বললেন আল্লাহ পাক আমার জন্যে জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন। আমি প্রস্তুত সেখানকার মেহমান হতে।এই কথা শুনে শিশুটি কালেমা পড়ে মুসলমান হয়ে যায়? পরর্বতীতে দাদা ঐ শিশুকে কারাগারে দিয়ে,নিমর্ম নির্যাতনের নির্দেশদেন। তাকে জল্লাদ মারতে মারতে জ্ঞানহারা করে আবার জ্ঞান ফিরে আসলে আবার চাবুকের আঘাত করে!এ ভাবেই ১৮ বছর হয়ে গেলে মুক্তি পেয়ে সোনার মদিনায় চলে যান। মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে মুসলমানদের আটক করে, যে জুলুম করে তা কারো কাছে অজানাই? ইরাক,লিবিয়াকে কূর্দিদের মানবতা প্রতিষ্ঠার নামে গোটা জীবন ব্যাবস্হা পর্যদুস্ত করেছে কারা? ফিলিস্তিন মুসলমানদের উপর জুলুম করছে কারা?আফগানিস্তানের মুসলমানদের উপর প্রায় ২৪বছর ৬ মাস কারা দখলদারিত্ব বজায় রেখে ছিল কারা?কাশ্মীরে মুসলমান হত্যা, চীনের উইঘুরেতে?
সোভিয়েত ইউনিয়নে লেলিন ক্ষমতায় আসার পর মুসলমানদের বুলডোজার দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে বলেছিল এখানে আগামী বছর ভাল আলুর ফলন হবে!কাশ্মীর,আসাম,সহ গোটা হিন্দুস্হানে নির্বিচারে মুসলিম নিধন চালাচ্ছে। মিয়ানমারের মুসলমানদের উপর জুলুম নির্যাতন,নিপীড়ন, হত্যা খুন,গুম সহ এমন কোন মানবতা বিরোধী অপরাধ নাই,যা করা হচ্ছে না?কিন্তু কথিত জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,পশ্চিমাবিশ্ব সহ ইন্ডিয়ার ভুমিকা কি তা নিয়ে অধিকার বঞ্চিত মানুষ জানতে চাইতেই পারে?বিপরীতে যদি অনুসন্ধান করা চায়,তাহলে দেখা যাবে কোন মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাসকারী বা নাগরিক যারা মুসলমান নয়!তাদের উপর এমন গণজুলুমের চিত্র খুঁজে পাওয়া দুস্কর হবে। কেন ইসলামের উপর বা মুসলমানদের উপর এত ক্ষীপ্ত তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন? কারণ বিশ্ব ভূমন্ডলের মালিক মহান আল্লাহ পাক তার সৃষ্টির সকল প্রয়োজন মিটিয়ে থাকেন।আর কোন মুসলমান অন্যায় করে, তার সৃষ্টির সাথে পুশু সুলভ আচরণ করে, তাহলে তার জন্যে শাস্তি অপেক্ষা করে?এই বিশ্বাস তাকে অপরাধ থেকে দুরে রাখে।মুসলিম শাসক আর রাজকর্মচারীদের মধ্যে ক্ষমতার লোভ দেখা দেয় তখন, সে প্রতিহিংসা, দাম্ভিকতা, অহংকারের পতিত হয়?আর এই সুযোগটা কাজে লাগায় মোশরেক,ইহুদী,নাছারা,খৃষ্টান, মূর্তিপূর্জারীরা, মুনাফেকদের মাধ্যমে! এদের চালচলন, লেবাস ও নাম ইসলাম অনুসারে হলেও এরা আল্লাহ পাক যাদের থেকে সাবধান থাকতে বলেছেন,তাদেরই অনুসরণ করে।এদের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক পতন হলে মানুষ আনন্দ প্রকাশ করে।অথচ একটু নজর দিন আলেম-ওলামা-আল্লাহ তালার জীবন প্রতিষ্ঠার কাজ যারা করেন,তাদের স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক বিদায় হয়,তাদের জন্যে মানুষের আহাজারি দেখা যায়।তারপর বিচারের ব্যাপারে আল্লাহ পাক পরিস্কার ঘোষনা দিয়েছেন, জোর করে কাউকে অপরাধ স্বীকার করানো যাবে না? পুরুষ হলে তিনজন,মহিলা হলে ছয়জন প্রাপ্ত বয়স্ক প্রত্যক্ষ দেখা স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য ছাড়া লঘু শাস্তিও দেওয়া যাবে না?এ ছাড়াও শাসক বা ক্ষমতাধরদের দৃষ্টিতে কেউ অপরাধী মনে করলে, তার জন্যে তার পরিবারের অন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া যাবে না?সুদ এর বিনিময়ে টাকা প্রদান ও গ্রহণ দুটিই নিষেধ। কারণ সুদ ভিত্তিক অর্থনীতি মানুষকে আরো দরিদ্র করে দেয়?তার রাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত সেবকদের নাগরিকদের কাছে জবাবদিহি থাকবে?রাষ্ট্রের সকল সেবার সর্বপ্রথম হকদার তার নাগরিকরা? আর তাই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশে অন্য কেউ সাধারণ নাগরিক কতৃক জুলুমের স্বীকার হয় না? আজ ক্ষমতা পেয়েই যখন আল্লাহ তালার নির্দেশনা অমান্য করে উল্টো পথে হাটে তখনই তারা দুনিয়াতে যেমন পিছনে গালমন্দ শোনে,তেমনি মৃত্যুর পরও শান্তি পান না?ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক এমন বিষয়ে যেমন প্রতিবাদ করা বাধ্যতা মুলক।তেমনি ইসলাম অনুসারে আল্লাহ তালার নির্দেশনা অনুসারে যারা কাজ করেন,তাদের সহযোগিতা করাও বাধ্যতা মুলক।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সম্পাদক
শরীফ মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
নাঈম পারভেজ অপু
আইটি উপদেষ্টা
সোহেল আসলাম
উপদেষ্টামন্ডলী
মোঃ ইমরান হোসেন চৌধুরী
কার্যালয়
১০৫, এয়ারপোর্ট রোড, আওলাদ হোসেন মার্কেট (৩য় তলা)
তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।
ফোন ও ফ্যাক্স :+৮৮০-০২-৯১০২২০২
সেল : ০১৭১১২৬১৭৫৫, ০১৯১২০২৩৫৪৬
E-Mail: banglarchokh@yahoo.com, banglarchokh.photo1@gmail.com
© 2005-2021. All rights reserved by Banglar Chokh Media Limited
Developed by eMythMakers.com
Close