Banglar Chokh | বাংলার চোখ

জামালগঞ্জে দারিদ্রতাকে জয় করে সফলতা পেয়েছে ৪ মেধাবী 

মো: ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ, (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:০০, ৩০ নভেম্বর ২০২২

জামালগঞ্জে দারিদ্রতাকে জয় করে সফলতা পেয়েছে ৪ মেধাবী 

ফাইল ফটো

আছে ইচ্ছা শক্তি, মেধাতে নেই কমতি, বার বার পিছু টানা অভাব নামের শব্দটি কারনে। স্বাদ আর ইচ্ছা সব যেন হারিয়ে যায় সেখানে এসেই। বারবার হোচট খাওয়া মেধাবীরা চায় এগিয়ে যেতে। চায় ইচ্ছা পুরন সহ দেশের সেবা করতে। শুধু ইচ্ছা শক্তি আর মেধা দিয়ে সংগ্রাম করে তা জয় করা যায় তা প্রমান করলো ৪ মেধাবী। কোন বাধাই আটকাতে পারেনা তাদের। দারিদ্রতার সংগে সংগ্রাম করে বিজয়ী হয়েছেন তারা। বাকি জীবনটাও জয় করার স্বপ্ন এখন তাদের চোখে মুখে। দারিদ্রতা কখনও তাদের মেধা বিকাশে বাধা হয়ে দাড়াতে পারেনি। অদম্য ইচ্ছা শক্তি তাদের দুর্লভ সাফল্য এনে দিয়েছে। চলতি এস.এসসি পরীক্ষায় জিপি এ- ৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়েছে এই অদম্য মেধাবীরা। গঙ্গা রানী রায়, নিপা রানী দাস, অপুর্ব দাস, আজবিলা জীবন বর্ষা। এরা সবাই উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করতে চায়। হতে চায় ডাক্তার, হবে কি তাদের আশা পুরন? এ স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্ন না হয় এটাই এখন তাদের ও পরিবার সহ আত্মীয় স্বজনের চাওয়া পাওয়া। তাই সহযোগিতা চান সবার।
গঙ্গা রাণী রায় : অভাবের সংসার , স্বপ্ন দেখতেও ভয় পায় গঙ্গা। হবে কি তার আশা পুরণ? হতে পারবে কি সে ডাক্তার। সেই স্বপ্ন যেন বারবার তাকে টেনে নিয়ে আসে অভাবের সংসারে। চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ার সময় বাবা মারা যায়। সম্পদ বলতে বাড়ীঘর জমিজমা কিছুই নেই। কাকার ঘরে বসবাস করছেন মা সহ ৫ বোন। ৫ বোনের মধ্যে গঙ্গা রাণী রায় ৪র্থ। ২ বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ১ বোন সম্পা রাণী রায় জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে ডিগ্রী ৩য় বর্ষের ছাত্রী। ছোট বোন রিয়া রাণী রায় ভীমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী। মা বীণা রাণী রায় দুঃখের সাথে বলেন-অভাবের সংসার তিন বেলা পেট পুরে খাবার জুটে না।তার উপর পড়াশুনা যেন পাহাড় ঠেলার সমান। চলতি এস এস সি পরীক্ষায় ভীমখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ- ৫ পেয়েছে গঙ্গা রাণী রায়। তার বাড়ী উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের কালীপুর গ্রামে।

অপূর্ব দাস: বাবা কবি রতœ দাস, জামালগঞ্জ সরকারী ডিগ্রী কলেজে বঙ্গ মাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হোস্টেলের প্রহরী। ঘরবাড়ি নেই, ভাড়া বাড়িতে থাকে। সংসারে অভাব থাকলেও ভালবাসা আছে। আর সেই ভালবাসা দিয়েই অভাবকে জয় করে মেধার বিকাশ ঘটিয়ে জামালগঞ্জ সরকারি মডেল স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে দারিদ্রতাকে হার মানিয়েছে অপুর্ব। অপুর্ব এগিয়ে যেতে চায়, চায় দেশ ও জনগনের সেবা করতে ডাক্তার হতে। কিন্তু বড় বাধা অভাব আর দারিদ্রত্।া নেই কোন জমি-জমা বা বাড়ী। শুধু একমাত্র বাবার প্রহরী চাকুরীই ভরসা। ভাল ফল করলেও নেই কোন আমেজ। কি হবে তার ভবিষ্যত, এটাই এখন তার প্রশ্ন? 
নিপা রাণী দাস: উপজেলা সদর ইউনিয়নের নতুন পাড়া এলাকার নেপাল দাসের মেয়ে নিপা। এক ভাই এক বোন দুইজনেই এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। বাবা দর্জির কাজ করে। সংসার চলে কাজের উপর নির্ভর করে। বাবা ্আয়ের উপর পাচঁ জনের টানা টানির সংসার। অভাবের সংসারে ছিল সুখের ছায়া। বারবার অভাব টেনে ধরলেও আটকাতে পারেনি নিপাকে। বাধা দিতে পারেনি তার মেধাকে। সব অভাব অনটন পেছনে ফেলে এবার জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ইচ্ছা শক্তির প্রভাব, সে পড়তে চায়, চায় ডাক্তার হতে। সেবা করতে চায় দেশের কিন্তু অভাব নামের শব্দটি বারবার তাকে থামিয়ে দিতে চায়। কিন্তু থামতে চায়না নিপা। 
আজবিনা জীবন বর্ষা: কখনও দেখেনি সুখের বাতি, পেয়েছে শুধু “নেই”  শব্দটি। বাবা একজন গৃহ শিক্ষক। সহায় সম্বল বলতে আছে শুধু বাড়ির ভিটা। বাবার আয় দিয়ে সংসার চালানো বড়ই কষ্টের। পড়াশুনা চালাবে কিভাবে? তাই এখন ভাল ফল অর্জন করেও চোখে জল বর্ষার। মা চায় মেয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করুক। কিন্তু সাধ আছে সাধ্য নেই। তাইতো চোখের জল ফেলে মেয়েকে সান্তনা দেয়। বর্ষা জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারে জিপিএ-৫ পেয়ে সভায়কে অবাক করে দিয়ে প্রমান করেছে অভাব বা দারিদ্রতা তাকে আটকাতে পারেনি। সে ভবিষ্যতে একজন ডাক্তার হতে চায়, দেশের মানুষের সেবা করতে চায়। 
 

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়