Banglar Chokh | বাংলার চোখ

জামালগঞ্জে অর্থাভাবে মেধাবী গঙ্গার লেখা-পড়া অনিশ্চিত :সাহায্য প্রার্থনা

মো: ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:১৩, ২ ডিসেম্বর ২০২২

জামালগঞ্জে অর্থাভাবে মেধাবী গঙ্গার লেখা-পড়া অনিশ্চিত :সাহায্য প্রার্থনা

.

গঙ্গারানী রায়। জন্মের পর থেকে জীবনের সংগে প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলছে। তবুও লেখাপড়ার হাল ছাড়েনি। পিছু হটেনি লড়াই থেকে। ডাক্তার হওয়ার সপ্ন ঘিরেই সংগ্রাম করে যাচ্ছে প্রতি নিয়ত। নিজের চেষ্টায় ভীমখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার ফলাফলে খুশি হয়েছে পরিবার সহ বিদ্যলয়ের শিক্ষক ও আত্মীয় স্বজন। তবে অর্থাভাবে সে আনন্দ এখন বিষাদে পরিনত হচ্ছে গঙ্গার। সামনে পুরোটা পথ তার অনিশ্চিত। দারিদ্রতার কারনে আগামী দিনে উচ্চ শিক্ষার খরচের চিন্তায় মায়ের চোখে মুখে হতাশার ছাপ। 
সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের কালীপুর গ্রামের মৃত মুকুল রায়ের মেয়ে গঙ্গা রাণী রায। তার বাবা মুকুল রায় গঙ্গা ৪র্থ শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় অসুস্থতায় মারা যান। পাঁচ বোনের মধ্যে গঙ্গা রায় ৪র্থ। বড় দুইবোনকে আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বড়বোন সম্পা রাণী রায় জামালগঞ্জ সরকারী ডিগ্রী কলেজে ৩য় বর্ষেও ছাত্রী। অর্থের অভাবে বড়বোন গ্রামে ছোটছোট বাচ্চাদের টিউশনি করে। ছোটবোন একই বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীর ছাত্রী। গঙ্গার মা বীণা রাণী রায় বলেন-মেয়ে আমার ভালো ফলাফল করেছে। সে আরো পড়তে চায়। তাই আমি এখন দুঃশ্চিন্তায় পড়েছি। শুধু আমার কলেজ পড়ুয়া মেয়ের টিউশনির আয়ে সংসার চলে। ভিটেবাড়ী ও জমিজমা না থাকায় স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে ছোট দেবরের ঘরে থাকি। শুধুমাত্র আমার মেয়ের টিউশনির আয়ে সংসার চলে। তাই এখন এই মেয়ের পড়ার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান গঙ্গা ভীমখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এস এস সি জিপিএ-৫ পেয়ে পাশ করেছে। 
গঙ্গা রাণী রায় বলেন- ‘প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘন্টা লেখাপড়া করেছি। পাশাপাশী মায়ের রান্নাবান্না ও বোনের টিউশনিতে সহযোগিতা করেছি। কোন কিছু কিনার ইচ্ছা থাকলেও কিনি নাই মায়ের কষ্ট হবে ভেবে। অর্থের অভাবে নিজের একটা বাড়ী ও ঘর করা সম্ভব হয় নাই। থাকি কাকার ঘরের একটা রুমে। আমি উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে ডাক্তার হতে চাই। কেউ যদি আমার লেখাপড়ার সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে আমি সবার আগে কৃতজ্ঞতাসহ সেই ঋণ শোধ করার চেষ্টা করবো।’ গঙ্গার কাকা ভীমখালী বাজারের নৈশপ্রহরী বেনু রায় বলেন-‘আমার ভাই ৮ বছর আগে মারা গেছে, তারপর থেকে ৫ মেয়ে ও মা সহ পরিবারটিকে সামর্থ অনুযায়ী ভরণ পুষনের ব্যবস্থা করতে আমার পরিবারসহ সবাইকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ২ ভাতিজিকে ধার দেনা করে বিয়ে দিয়েছি। সে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করে। আমি নিজেও এখন অর্থ সংকটে আছি। গঙ্গার দিকে চাইলে মন খারাপ হয়ে যায়। বাবা মরা মেয়েটা অনেক কষ্ট করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। কিভাবে লেখা পড়া চালিয়ে নেব ভেবে পাচ্ছিনা। কোন স্বহৃদয়বান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পেলে মেয়েটার লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারতাম। তাই তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সহযোগিতার প্রার্থনা করছি। সহযোগিতার জন্য মোবাইল নং ০১৩১৭১৯০৪৫৭ অথবা ০১৬৪৪১২০৫৮৪। 
ভীমখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, অর্থের অভাবে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করা গঙ্গার জীবন বড়ই কষ্টের। আমাদের বিদ্যালয়ে থাকা কালিন সহকারি শিক্ষক মনির হোসেন সহ আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। তার লেখা পড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য। বিদ্যালয়ের অন্যান্য ছাত্র/ছাত্রীদের চেয়ে সে আলাদা মেধা সম্পন্ন। আমি তার উজ্জল ভবিষ্যত কামনা করছি। 
 

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়