Banglar Chokh | বাংলার চোখ

বলিউড তারকা-স্ত্রীদের অসাধারণ জীবন, যশ-খ্যাতির আড়ালে লুক্কায়িত সত্য!

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:০১, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

বলিউড তারকা-স্ত্রীদের অসাধারণ জীবন, যশ-খ্যাতির আড়ালে লুক্কায়িত সত্য!

ছবি:সংগৃহীত

বলিউড! নামটা শুনলেই মাথায় আসে স্টারডম, খ্যাতি, আর অসাধারণ এক জৌলুস মাখা জীবনের কথা। কী করেন বলিউড তারকারা? কেমন তাদের জীবন, আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই নাকি বিলাসবহুল উপাখ্যান নাকি এত আলোময় জীবনের পেছনেও রয়েছে লুকানো কোনো গল্প?

সত্যিকার অর্থে তারকাদের নিয়ে কৌতূহলের সীমা নেই সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে বলিউড তারকাদের জীবন নিয়ে রয়েছে নানা উৎসাহ। তারকারা নিজেরাই পর্দায় এসে দর্শকের সামনে ধরা দিয়েছেন নিজেদের ব্যক্তিজীবন নিয়ে। নেটফ্লিক্সের আলোচিত সিরিজ ‘ফ্যাবুলাস লাইফ অব বলিউড ওয়াইভস’, যেখানে বলিউডের চার পুরুষ তারকার স্ত্রীদের বিলাসবহুল জীবন দেখানো হয়েছে, সেই সঙ্গে ধরা পড়েছে কিছু কট্টর সত্যও।

এই সিরিজের মূল চরিত্রে বিখ্যাত অনীল কাপুরের ভাই সঞ্জয় কাপুরের স্ত্রী মাহিপ কাপুর ,কমেডিয়ান অভিনেতা চাঙ্কি পান্ডের স্ত্রী ভাবনা পান্ডে, সালমান খানের ভাই সোহেল খানের স্ত্রী সীমা সাজদে এবং লাস্ট বাট নট দ্য লিস্ট নীলাম কোঠারি যার স্বামী সামির সোনি পরিচিত মুখ হলেও নীলাম নিজেই অধিক পরিচিত তার সিনেমা দিয়ে।
 

সিরিজটি মূলত একটি রিয়েলিটি শো। আর নেটফ্লিক্সের দাবি, এটি আনস্ক্রিপটেড। বলিউডের চার তারকা স্ত্রী যারা অনেক দিন ধরে খুব কাছের বন্ধু তাদের জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে, মূলত তাদের জীবন কতটা জাঁকজমক আর জৌলুসে ভরপুর, সেটা দেখানোই এই সিরিজের উদ্দেশ্য।

চার রমণী মুম্বাইয়ের তারকাজাত সব রেস্টুরেন্টে খেতে যান, শপিং করেন, দেশের বাইরে হুটহাট ট্রিপে চলে যান, মাঝে মাঝে ঝগড়া করেন আর একে অন্যের নামে নিন্দা করেন। ইনফ্যাক্ট বেশির ভাগ সময় এটাই করেন। তবে যাই করেন টাকা খরচ করেন প্রচুর। কেউ নিজের নিভু নিভু ক্যারিয়ার জ্বালিয়ে রাখার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে নিত্যনতুন ব্যবসায় মনোযোগ দেন, কেউ আবার তারকা স্বামীর ক্রেডিট কার্ড বিল ভারী করেন। কেউ আবার কিছু না পেয়ে সন্তানদের বলিউডের নেক্সট বিগ থিং বানানোর কাজে কোমর বেঁধে লেগে পড়েন। তবে এসব ইউজলেস জিনিসের পাশাপাশি ২ সিজনজুড়ে কিছু সিগনিফিকেন্ট ঘটনাও দেখানো হয়েছে।

সোহেল খানের স্ত্রী সীমা সাজদেভেরর কথাই ধরা যাক, যিনি প্রথম সিজনে সীমা খান ছিলেন, কিন্তু পরের সিজনে সোহেল খানের সঙ্গে তার ডিভোর্স হয়ে যাওয়ায় খান নাম সরিয়ে দেন নিজ নামের পাশ থেকে। বাড়ির নেমপ্লেট থেকে 'খানস' নামও সরিয়ে ফেলেন। যা নিয়ে তার ছেলে নিরভান খান তাকে জিজ্ঞেস করায় সীমা জানান, তিনি এখন মুভ অন করতে চান। এই দৃশ্য স্ক্রিপটেড কি না জানা নেই, তবে এখানে সমাজের নারীদের একটি ভালো শিক্ষা দেয়া হয়েছে, ডিভোর্স হয়ে যাওয়া বা বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া মানেই জীবন শেষ নয়। আবার যেখানে বলিউডের অন্যরা স্বামীর নামে বড়াই করেন, সেখানে সীমা, খান পরিবারের মতো এক প্রভাবশালী পরিবারের নাম নিজ নাম থেকে আলাদা করে ফেলেন,যা নিঃসন্দেহে সাহসী পদক্ষেপ। এ ছাড়া উঠতি বয়সী সন্তানের সঙ্গে মায়েদের সম্পর্কও যে বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত, সে বিষয়টিও দেখানো হয়েছে।

মাহিপ কাপুর। সঞ্জয় কাপুরের স্ত্রী মাহিপও একসময় সুন্দরী অভিনেত্রী ছিলেন, যা অনেকেই জানেন না। অবশ্য জানার মতো কাজ তিনি করেনওনি। তাকে এখানে কিছুটা রিচ স্নুটি আন্টিদের মতো লেগেছে। খুব পশ ভাব নিয়ে চলা মাহিপ যশ-খ্যাতি-অর্থ ছাড়া কিছুই বোঝেন না। বিষয়টি তিনি শো-তে অকপটে স্বীকারও করেন। তার মেয়ে শানায়া কাপুরকেও বলিউডের তারকা বানাতে সারাক্ষণ তার পেছনে লেগে থাকেন, যেন তার জীবনের একটিই উদ্দেশ্য–মেয়েকে নায়িকা বানানো। একটি গল্প শোনান মাহিপ। তার মেয়ে যখন ছোট, একবার স্বামীর সঙ্গে কোথাও যাওয়ার সময় ছোট্ট শায়ানাকে ক্যামেরাবন্দি করেন পাপারাজ্জিরা। এরপর সেই ছবি দিয়েই লেখালিখি শুরু হয় 'বলিউডে কি ভবিষ্যতে নাম কামাতে পারবে সঞ্জয় কাপুরের মেয়ে শানায়া কাপুর'। এ বিষয়ে বেশ চটে যান মাহিপ। বেশ আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, ঠিক আছে মিডিয়া তারকাদের ছবি তুলবেই, কিন্তু একটা বাচ্চা যে কিছুই বোঝে না, তাকে নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা কেন?

প্রায়ই দেখা যায়, তারকারা তাদের সন্তানের ছবি মিডিয়ার সামনে আনতে  চান না। এর কারণ কিন্তু এটাই, কোনো বাবা-মা-ই চান না তার সন্তান ছোটবেলা থেকেই একটা ক্রিটিসিজম বা জাজমেন্টাল পরিবেশে বড় হোক, বা কোনো প্রেশারে বড় হোক। যদিও অনেক বলিউড পরিবারেও ছোট থেকেই এই স্টার হওয়ার প্রেশার ক্রিয়েট করা হয় বাচ্চাদের ওপর। এতে বাচ্চাদের মানসিক একটা চাপ পড়ে, যেখানে  বড় ভূমিকা রাখে এই পাপারাজ্জি কালচার। যে এখনো কিছুই করেনি জীবনে কেবল ফেমাস বাবা-মায়ের খাতিরে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দেয়া হয় তাকে। যেসবের নিচে অনেক সময় ঢাকা পড়ে যায় অনেক রিয়েল ট্যালেন্ট।

আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সিরিজে কথা বলা হয়েছে তা হলো প্লাস্টিক সার্জারি এবং যৌন চাহিদা। বলিউডে বা উচ্চবিত্তদের মাঝে যে কি পরিমাণ স্বাভাবিক এই প্লাস্টিক সার্জারি তাই এখানে দেখানো হয়েছে, ইনফ্যাক্ট খুব নর্মালিই কথাগুলো আলোচনা করা হয়েছে শো-তে যেন এটাই স্বাভাবিক বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে চামড়া টাইট করতে হবে, ইনজেকশন পুশ করতে হবে, বোটক্স করতে হবে। হ্যাঁ, হতে পারে এটা যার যার ব্যক্তি সিদ্ধান্ত, কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল প্ল্যাটফর্মে সৌন্দর্যের এমন অস্বাভাবিক মানদণ্ড তৈরি করে দেয়া আনএথিক্যাল। প্রতিটি মানুষ প্রতিটি বয়সেই সুন্দর। 

অপরদিকে খোলাখোলিভাবে আলোচনা করা হয়েছে বয়সের সাথে সাথে নারীদের শারীরিক পরিবর্তন, মেনোপজ ও তার লক্ষণ, যৌন চাহিদা কমে যাওয়া। যা বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলতে পারে নারীদের যৌন চাহিদা নিয়ে কথা বলার 'ট্যাবু' ভাঙতে।

যখন কোনো রিয়েলিটি শো আমরা দেখি, সেখান থেকে আমরা যেটা চাই তা হলো নিখাদ বিনোদন। কিন্তু এই শো-তে যা দেখা গেছে তা হলো প্রচুর গসিপিং, অনেক বেশি আনওয়ান্টেড ড্রামা, আর প্রচণ্ড ধনী মানুষের মধুর কিছু সমস্যা, যা দেখে কিছু শেখা তো দূরে থাক সাধারণ মানুষ ডিপ্রেশনে পড়ে যেতে পারে। বন্ধুত্বের গল্প বলা হলেও বন্ধুদের পেছনে তাদের নামে কথা বলা, নিজেরা সেলিব্রেটি হয়েও অন্য সেলিব্রেটিদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন, দাম্পত্যজীবনের স্পষ্ট অস্বাভাবিকতা ঢেকে যাওয়ার বৃথা চেষ্টা, সন্তানদের সাথে দূরত্ব–এই সবকিছুই আসে একটি ‘ফ্যাবুলাস লাইফ’-এর সাথে। শো-তে শাহরুখ খান, করণ জোহর, গৌরী খান ,রণবীর সিংয়ের মতো তারকারাও মাঝে মাঝে ধরা দেবেন, তবে রিয়েলিটি শো-তে রিয়েলিটি কতটুকু আছে, তা বোঝার দায়িত্ব দর্শকের।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়