Banglar Chokh | বাংলার চোখ

লন্ডনে মানববন্ধনে প্রবাসী সাংবাদিকদের পরিবারকে হয়রানি বন্ধের আহ্বান

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০১:১০, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২

লন্ডনে মানববন্ধনে প্রবাসী সাংবাদিকদের পরিবারকে হয়রানি বন্ধের আহ্বান

ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটনের বড় ভাই নুর আলম চৌধুরী পারভেজসহ (৬২) ও ভিন্নমতের প্রবাসী সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের বেআইনিভাবে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার সরকার দেশে-বিদেশে ভিন্নমতের লোকদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতে প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করছে। এভাবে হয়রানি নির্যাতন করে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রবাসীদের মুখ ও কলম বন্ধ রাখা যাবে না।

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) পূর্ব লন্ডনে আলতাব আলী পার্কে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা এই কথা বলেন। লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সুরমার সম্পাদক শামসুল আলম লিটন ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক আবদুর রব ভূট্টোর ভাইকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে মানবাধিকার সংগঠন ফাইট ফর রাইটস ইন্টারন্যাশনাল ও ইকুয়াল রাইটস ইন্টারন্যাশনাল এর যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

ফাইট ফর রাইটস ইন্টারন্যাশনালের সভাপতি মোঃ রায়হান উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং ইকুয়াল রাইটস ইন্টারন্যাশনাল সেক্রেটারি নৌশিন মোস্তারী মিয়া সাহেবের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমার দেশ ইউকের নির্বাহী সম্পাদক অলিউল্লাহ নোমান। অন্যান্যের মধ্যে প্রধান বক্তা হিসাবে ব্যারিস্টার আমিন চৌধুরী, সাবেক ছাত্রনেতা শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন, ফাইট ফর রাইটস ইন্টারন্যাশনাল এর সহসভাপতি মোঃ তরিকুল ইসলাম, অনলাইন একটিভিস্ট ফোরামের সভাপতি জয়নাল আবেদিন ও সেক্রটারী দেলোয়ার হোসেন, ইকুয়াল রাইটস ইন্টারন্যাশনাল-এর সভাপতি মো: মাহবুব আলী খানসূর। সভায় জাগরণী সংগীত পরিবেশন করেন রায়হান চৌধুরী।

অলিউল্লাহ নোমান বলেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী সরকার মানবাধিকারের কোন তোয়াক্কা করছে না। দেশের ভেতরে মানুষ যাতে সরকারের বিরুদ্ধে কথা না বলতে পারে এজন্য তথ্যপ্রযুক্তি আইন নামে একটি কালো আইন তৈরি করেছে। এছাড়া অসাংবিধানিকভাবে মানুষকে আটক করে হয়রানি ও নির্যাতন করছে। এখন সরকার প্রবাসে ভিন্নমত দমন করতে অ্যাম্বেসি গুলোকে তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে। যারা প্রবাসে অবস্থানকালে সরকারের অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করছে তাদের পরিবারকে দেশে হয়রানি করছে। কোন মামলা ছাড়াই গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে। ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। এই অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকার দেশে একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করতে চায়। তিনি বলেন, দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অনেক ঘটনা ঘটছে। সব ঘটনা মিডিয়াতে আসছে না। তিনি বলেন, শামসুল আলম লিটন সাহেবের ভাই নুর আলম চৌধুরীসহ অনেককে গুম ও গ্রেফতার করে সরকার বিরোধীদের মুখ বন্ধ করতে চায়। তারা আবার পাতানো নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। ভিন্নমতের কারণে গ্রেফতারকৃতদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পতন না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে।

ব্যারিস্টার আমিন চৌধুরী বলেন, এই আওয়ামী সরকার বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর নেতাদের অন্যায়ভাবে ফাঁসি দিয়েছে। মামলা ছাড়াই গুম করে রেখেছে তাদের সন্তানদের। সাপ্তাহিক সুরমা পত্রিকার সম্পাদকের বড় ভাইকে অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করেছে।

শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপন বলেন, সরকার গুম-খুনের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ভয় সৃষ্টি করতে চায়। তবে প্রবাসীদের মুখ সরকার বন্ধ করতে পারবে না। সরকার প্রবাসীদের পরিবারকে হয়রানি করলে প্রয়োজনে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করে করে দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করে মানুষের ভোটে অধিকার হরণ করে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রত্যেকের নিজেদের জায়গা থেকে লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে রায়হান উদ্দিন বলেন, সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক ও লন্ডন প্রবাসী ছোটভাই শামছুল আলম লিটনের লেখালেখির কারণে বড়ভাই নুর আলম চৌধুরী পারভেজকে প্রথমে সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে নোয়াখালীর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান।পরে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। সিলেট যুবদলের সেক্রেটারি মকসুদ আহমদকে রাতের আঁধারে গুম করার প্রচেষ্টা করা হয়।এর প্রতিবাদে জনগণ রাস্তায় নামলে পরে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এছাড়া সাংবাদিক আবদুর রব ভুট্টোর ভাই আবদুল মুক্তাদির মনুকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত সকলের মুক্তি দিতে হবে।

মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ফাইট ফর রাইটস ইন্টারন্যাশনালের সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন চৌধুরী, সহসভাপতি মীর্জা আবুল আহমেদ, সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমিনুল ইসলাম সফর, মোঃ ইকবাল হোসেন ও মোঃ কামরুল হাসান রাকিব, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ ফান্টু, শিক্ষাও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রায়হান চৌধুরী, সহকারী লিগ্যাল সেক্রেটারী রুহুল আমিন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ বিন হোসাইন খান, মানবাধিকার কর্মী মোঃ মশিউর রহমান, মোঃ সালমান হোসেন মারজান, মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন রনি, মোঃ তাজুল ইসলাম, ইকুয়াল রাইটস ইন্টারন্যাশনাল (ইআরআই) সাংগঠনিক সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ, সহ সভাপতি আল আমিন, ফিনান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ মাসউদুল হাছান, অফিস সেক্রেটারি আবু জাফর মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক সায়েম আহমদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোঃ ওসমান গনি, মোঃ এমদাদুল হক, নির্বাহী সদস্য আব্দুল আলিম, সদস্য ওয়াহিদুজ্জামান, রোকতা হাসান, হুমায়ুন আহমেদ, মোহাম্মদ মনসুর উদ্দীন, মো: খায়রুল আলম, মোহাম্মদ ফাহিদুল আলম, মো: শাহাদাত হোসাইন, রাজু আহমেদ, মো: জামিল আহমেদ, নিয়াজ মোর্শেদ, মারুফ আহমদ লায়েক প্রমুখ।

উৎস: আমার দেশ

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়