Banglar Chokh | বাংলার চোখ

আবারও রাজধানীতে হায় হায় কোম্পানির আবির্ভাব

কোটি টাকা লোপাট করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে জিএইচ গ্রুপের সাদি

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭:৩১, ৩ জুলাই ২০২২

কোটি টাকা লোপাট করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে জিএইচ গ্রুপের সাদি

জিএইচ গ্রুপ

অনলাইনে প্রতারণা যেন এক নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে উঠেছে। চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে বৈদেশিক বিটকয়েন ফাইনান্স এ্যাপের মাধ্যমে দেশে পাচার করছে নাম সর্বস্ব জিএইচ গ্রুপ, এমন গুঞ্জন শুনতে পরেই অনুসন্ধান শুরু করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনি ও গণমাধ্যম।  জিএইচ গ্রুপ বিদেশি টাকা লেনদেন করছে সরকারের অবগতি ছাড়া কোটি কোটি টাকার কর ফাকি দিচ্ছে চক্রটি।

সূত্রমতে যানা যায় সরকারের ভ্যাট ট্যাক্স না দিয়ে বিটকয়েন এর মাধ্যমে ভেলকিবাজি অ্যাপ্স বানিয়ে শত শত বেকার যুবক-যুবতীদের কে চাকুরির প্রোলভন দেখাচ্ছে জিএইচ নামক তথাকথিত একটি অনলাইন প্রতারক চক্র। তাদের মূল কাজ বিভিন্ন জায়গায় সভা-সেমিনার করে বেকার যুবক যুবতীদের কাছ থেকে আমানত বাবদ পাচঁ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানত নিয়ে দৈনিক বিভিন্ন অনুপাতে আড়াইশো থেকে  আড়াই হাজার টাকা ইনকাম এর প্রলোভন দেখিয়ে চাকুরি দেওয়া। এবং দৈনিক অল্প কিছু টাকা রিটার্ন করে নতুন নতুন সদস্য ঢুকাতে চাপ দেওয়া।  নতুনদের থেকেও জামানত বাবদ মোটা অংকের টাকা সংগ্রহ করা। এটি বলা যায় এক প্রতারক এমএলএম চক্র।

 তথ্যসূত্রে জানা যায় এ চক্রের নানান মিথ্যা লোভ দেখানো ফেসবুকে স্ট্যাটাস এর মাধ্যমে বিভিন্ন বেকার যুবক যুবতী শ্রেণির গোষ্ঠিকে জিএইচ গ্রুপে আসার আমন্ত্রণ করে ও সভা-সেমিনারে মাধ্যমে বেকার যুবক যুবতী দের আবেগ ও হতাশা কে কাজে লাগিয়ে তাদের কাছ থেকে জামানত বাবদ প্রায় শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এ প্রতারক গোষ্ঠী।

সেমিনার করে সবাই কে চাকরির জন্য টাকা জামানত দিতে মগজধোলাই করে এ প্রতারক জিএইচ গ্রুপ। অতঃপর নিবন্ধিত জামানত দিয়ে যারা আসে গ্রুপে কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন তাদের সবার জামানতের টাকা নিয়ে পালায় জিএইচ নামক প্রতারক চক্রটি।
 

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে গত ১৭ই জুন শুক্রবার বিকেলে জিএইচ গ্রুপের মিটিং হয় রাজধানীর  লালবাগের একটি রেস্টুরেন্টে,  যাতে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ কে  কথিত জিএইচ গ্রুপে জামানত দিয়ে কাজ করতে বিভিন্ন প্রলোভন দেখায় প্রতারক গ্রুপটির অন্যতম মঞ্জুরুল হাসান সাদি,সেমিনারে তাকে মাইক্রোফোনে বক্তব্য রেখে সাদা বের্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন স্কিমে টাকা জমা দেয়ার আহ্বান করতে দেখা যায়। যাতে উপস্থিত থাকে অনেক নিরীহ বেকার যুবক যুবতী।

সাদির আত্মসাৎ করা টাকা সবগুলোই অসহায় বেকার জনগোষ্ঠীর, যারা মনজুরুল হাসান সাদি দ্বারা বিভিন্ন সময় প্রতারিত হয়েছে। প্রতারিতরা ক্ষুদ্ধ হয়ে সেই জিএইচ গ্রুপের বিভিন্ন জায়গায় প্রতারক সাদি কে বিভিন্ন ভাষায় তিরস্কার করে, এবং তাদের পাওনা টাকা ফিরিয়ে দেবার দাবি জানায়। এ প্রতারক চক্র আন্তর্জাতিক মাফিয়া সম্পৃক্ত বলে ভুক্তভোগী  অনেকেই প্রান নাশের আশংকায়   নিজ নাম গোপন রেখে অভিযোগ করছে। সূত্র মতে জানা যায় কেউ অভিযোগ করলেই তাকে হুমকি ধামকি সহ বিভিন্ন ভাবে ফাঁসিয়ে দেবার হুমকি দেয় সাদি ও তার ছোট ভাই ফারাবি।
 

প্রতারক মঞ্জুর হাসান সাদির মা নাহিদ আফসার ও তার ফেসবুক এ্যাকাউন্ট এ বিদেশি বিনিয়োগে বেকারত্ব হ্রাসের লোভনীয় স্ট্যাটাস দেন প্রতারক পরিবার টি বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে গ্রুপের অন্যান্য নিরীহ বেকার সদস্যদের নিজ নিজ ফেসবুকে স্ট্যাটাসে এসব প্রোলোভন দেখিয়ে বাহারি অঙ্কের জামানত সহ নতুন সদস্য আনতে বাধ্য করেন। 

সদস্য ও জামানত সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শত শত বেকার যুবকের চাকরির জামানতের টাকা লোপাট করে মঞ্জুরুল হাসান  সাদি ও তার জিএইচ গ্রুপ পালিয়ে বেড়ায় বলে একাধিক ভুক্তভোগীেরা অভিযোগ করে, সূত্র মতে জানা যায় প্রায় ৩ কোট টাকার উপরে বাগিয়ে নিয়েছে মা ছেলের এই কথিত প্রতারক জিএইচ চক্র।

এই চক্রের চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্নসাতের থেকে রেহাই পায় নি তার নিকটতর আত্নীয় স্বজনেরাও যার যথেষ্ট প্রমান আমাদের কাছে রয়েছে। আরেকটি সূত্র বলে সাদি নিরীহ বেকার দের টাকা আত্মসাৎ করে তার স্ত্রী সহ শশুর বাড়ির একাধিক মানুষের নামে বেনামে বিভিন্ন এ্যাকাউন্টে রেখেছে। 

এ বিষয়ে মঞ্জুর হাসান সাদির মন্তব্য নিতে তাকে একাধিক বার ফোন করা হলেও ফোন টি বন্ধ পাওয়া যায়।  স্থানীয় প্রশাসন জানায়, প্রতারক চক্রের সকল কর্মকান্ডের অনুসন্ধান চলছে, অতিসত্বর তাদের আইনি পক্রিয়ায় আনা হবে। আরেক সূত্রে জানা যায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও এ প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় আনতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়