Banglar Chokh | বাংলার চোখ

সাধারণ মানুষের সঙ্গে শোভন আচরণ করতে হবে: ডিএমপি কমিশনার

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০০:৩৮, ২৭ জুলাই ২০২২

সাধারণ মানুষের সঙ্গে শোভন আচরণ করতে হবে: ডিএমপি কমিশনার

ছবি:সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, পুলিশ বাহিনী দিন-রাত পরিশ্রম করে। কিন্তু, দু-একটি ঘটনা বাহিনীকে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন করে। তাই, পুলিশ সদস্যদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে শোভন আচরণ করতে হবে।


ডিএমপি কমিশনারের সভাপতিত্বে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত রাজারবাগের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে জুন-২০২২ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তিনি এ পরামর্শ দেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার জন্য অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ প্রদান করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির জন্য সরকার বা আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ দায়ী নয়। তবে বিপদে পড়েছে দেশ। তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের স্বার্থে সবাইকে একযোগে ভূমিকা পালন করতে হবে।

দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকেই কৃচ্ছ্রতা সাধন করতে হবে জানিয়ে এসি ব্যবহারে সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার জন্য আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার।

থানা ও পুলিশ লাইনস ব্যারাকে ফ্যান ও লাইট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন হতে হবে জানিয়ে সরকারি গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন ডিএমপি কমিশনার।

বর্তমানে বিদ্যুৎ রেশনিং করার জন্য এলাকা ভিত্তিক লোডশেডিং করা হলেও লোডশেডিংয়ের কারণে চুরি-ছিনতাই বা অন্যান্য অপরাধ বৃদ্ধি সংক্রান্ত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এলাকাভিত্তিক টহল জোরদার করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন মোহা. শফিকুল ইসলাম।

এ অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা বিধানসহ ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে শ্রেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার।

জুন মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির ৮টি ক্রাইম বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে গুলশান বিভাগ ও শ্রেষ্ঠ থানা হয়েছে মোহাম্মদপুর থানা। শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী বিভাগ হয়েছে উত্তরা বিভাগ। সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মুজিব আহম্মেদ পাটওয়ারী। পুলিশ পরিদর্শক তদন্তদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন দক্ষিণখান থানার আজিজুল হক।

পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস্) এর মধ্যে প্রথম হয়েছেন পল্লবী থানার উদয় কুমার মণ্ডল। শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হয়েছেন যৌথভাবে চকবাজার মডেল থানার নুর উদ্দীন-১ ও পল্লবী থানার মো. সাইফুল ইসলাম। শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার হয়েছেন পল্লবী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম। শ্রেষ্ঠ এএসআই নির্বাচিত হয়েছেন যৌথভাবে মতিঝিল থানার মো. হেলাল উদ্দিন ও পল্লবী থানার হরিদাস রায়। অস্ত্র উদ্ধার করে প্রথম হয়েছেন বিমানবন্দর থানার এসআই আব্দুল লতিফ মিয়া। বিস্ফোরক উদ্ধার করে প্রথম হয়েছেন চকবাজার মডেল থানার এসআই নুর উদ্দীন-১। মাদক উদ্ধার করে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন পল্লবী থানার এসআই তারিক উর রহমান শুভ এবং চোরাই গাড়ি উদ্ধার করে প্রথম হয়েছেন ভাষানটেক থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস্) মো. খোরশেদ আলম।

নয়টি গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিমের টিম লিডার সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান। অস্ত্র উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার হলেন গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের তেজগাঁও জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. শাহাদাত হোসেন সুমা। মাদকদ্রব্য উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিমের টিম লিডার সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান। চোরাই গাড়ি উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার হয়েছেন গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের তেজগাঁও জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. শাহাদাত হোসেন সুমা। অজ্ঞান ও মলম পার্টি উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার হলেন গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শামসুল ইসলাম।

৮টি ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগ। শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার নির্বাচিত হয়েছেন যাত্রাবাড়ি ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার তারিকুল ইসলাম মাসুদ। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হয়েছেন একই জোনের টিআই মো. হোসেন জাকারিয়া মেনন। শ্রেষ্ঠ সার্জেন্ট হয়েছেন যৌথভাবে মোহাম্মদপুর ট্রাফিক জোনের আব্দুল কাদের ও রমনা ট্রাফিক জোনের মফিজুর রহমান।

এ ছাড়া ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগসহ ১৬টি বিভাগ ও বিভিন্ন পদ মর্যাদার ১৪৫ জন অফিসার এবং ফোর্সকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মীর রেজাউল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) এ কে এম হাফিজ আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার ও উপকমিশনারগণসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়