Banglar Chokh | বাংলার চোখ

মায়ের ডাক এর সদস্যদের কে নিয়ে মিথ্যা অনৈতিক ছবি পোষ্ট দিয়ে কলঙ্কিত করায় তীব্র নিন্দা  

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০:০৪, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

মায়ের ডাক এর সদস্যদের কে নিয়ে মিথ্যা অনৈতিক ছবি পোষ্ট দিয়ে কলঙ্কিত করায় তীব্র নিন্দা  

ফাইল ফটো

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের সংগঠন মায়ের ডাকের সদস্যদের ওপর সরকার-সমর্থিত গোষ্ঠীর মতাদর্শিক আক্রমণ এবং তাদেরকে কলংকিত করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ১৯জন নারী অধিকারকর্মীরা গণমাধ্যমে  বিবৃতি  প্রদান করেন।

বিবৃতিতে বলা হয় মায়ের ডাকের একটি প্রেস বিবৃতির (১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২২) মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, সরকারি দলের সাথে নানাভাবে যুক্ত কিছু ব্যক্তি মায়ের ডাকের নারী সদস্যদেরকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেনস্তা এবং কলংকিত করার অপচেষ্টা  চালিয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন  আমরা আরও জানতে পারি যে, সরকার দলীয় অন্তত ৩ জন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মায়ের ডাকের কয়েকজন নারী সদস্যদের একটি ছবি ফটোশপ করে দুজন উর্দিপরা পুলিশ বসিয়ে 'পতিতাসহ দালাল আটক' হেডিং যোগ করে ছবিটাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে।  

আমরা, নিম্ন স্বাক্ষরকারীরা, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের সংগঠন মায়ের ডাকের সদস্যদের ওপর সরকার-সমর্থিত গোষ্ঠীর মতাদর্শিক আক্রমণ এবং তাদেরকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাই।

আমরা মনে করি যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণে, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে এদেশের নাগরিকদের গুম হওয়ার বিরুদ্ধে মায়ের ডাকের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের কারণে, সরকারের মদদপুষ্ট গোষ্ঠী এই মতাদর্শিক আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছেন। এটি গুমের ঘটনা থেকে দৃষ্টি সরানোর একটি কৌশলও বটে। উল্লেখ্য যে ইদানিংকালে একাধিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সরকারের প্রতিপক্ষ, বা সমালোচক, বা প্রতিবাদী কেউ, বা নিপীড়নে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে বা কলঙ্ক ম্যানুফ্যাকচার করে তাকে সমাজের সামনে হেয় প্রতিপন্ন করার, তাকে স্তব্ধ করার পথ বেছে নিয়েছে (“রাতের রানী,” “ধর্ষণে সহযোগিতা,” “বিতর্কিত নারী”)।

এই বিবৃতির মাধ্যমে আমরা প্রতিবাদী নারী বা যেকোনো প্রতিবাদী কণ্ঠকে রুদ্ধ করার জন্য কেলেঙ্কারিকরণের এই রাষ্ট্রীয় কৌশলকে প্রতিহত করার তীব্র প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। একইসঙ্গে আমরা আশা করি যে পুলিশ বাহিনী যারা এদেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় চলে তারা তাদের সরকার-সমর্থক ভূমিকাকে পরিহার করতে উদ্যত হবেন এবং মায়ের ডাকের সদস্যদের বিরুদ্ধে যারা এই জঘন্য প্রচারণা চালাচ্ছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।  

স্বাক্ষরকারী:  
১ অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
২ রাণী য়েন য়েন আদিবাসী অধিকার সুরক্ষাকর্মী, চাকমা সার্কেলের উপদেষ্ঠা
৩ সায়েমা খাতুন, শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
৪ সাদাফ নূর, শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
৫ রোজিনা বেগম, মানবাধিকার কর্মী ও াশক্ষার্থী, মাহিডল বিশ্ববিদ্যালয়, থাইল্যান্ড
৬ নাসরিন খন্দকার, নৃবিজ্ঞানী ও গবেষক
৭ সামিনা লুৎফা, শিক্ষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
৮ ফরিদা আখতার, পরিবেশবিদ ও নারী অধিকার কর্মী
৯ নাজনীন শিফা, পিএইচডি গবেষক, জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত
১০ পারসা সানজানা সাজিদ, লেখক ও গবেষক
১১ দিলশানা পারুল, নারী অধিকার কর্মী ও গবেষক
১২ নাসরিন সিরাজ, নৃবিজ্ঞানী ও চলচিত্র নির্মাতা
১৩ হানা শামস আহমেদ, পিএইচডি গবেষক, ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডা
১৪ অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, শিক্ষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১৫ কাজলী শেহরীন ইসলাম শিক্ষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১৬ বীথি ঘোষ, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কর্মী
১৭ তাসলিমা আখতার, আলোকচিত্রী ও সভাপ্রধান, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি
১৮ রেহনুমা আহমেদ, লেখক ও নৃবিজ্ঞানী
১৯ ড. সায়দিয়া গুলরুখ, সাংবাদিক ও গবেষক

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়