Banglar Chokh | বাংলার চোখ

খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করা বিরাট চ্যালেঞ্জ: কৃষিমন্ত্রী

সোহরাব হোসেন সৌরভ রাজশাহী থেকে

প্রকাশিত: ০০:২৭, ২৯ জুলাই ২০২২

খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করা বিরাট চ্যালেঞ্জ: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব ছবি

কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করা বিরাট চ্যালেঞ্জ। এই মুহূর্তে দেশে সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ। অন্যদিকে কৃষি জমি কমছে। এ অবস্থায়, এই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হলে কৃষিকে বিজ্ঞানভিত্তিক করতে হবে, যান্ত্রিক করতে হবে, আধুনিক করতে হবে। উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তিকে দ্রুত মাঠে নিয়ে যেতে হবে। তাহলেই খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই করা সম্ভব হবে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী শহরের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে রাজশাহী, রংপুর বিভাগসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ব্রির উদ্যোগে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় উত্তরাঞ্চলে “বিদ্যমান শস্য শস্যবিন্যাসে তৈল ফসলের অর্ন্তভূক্তি এবং ধান ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি’শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন।  

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রধান ফসল ধানের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পুরনো জাতের পরিবর্তে ব্রি উদ্ভাবিত সম্ভাবনাময় জাতগুলো দ্রুত কৃষকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। ধান আমাদের প্রধান খাদ্য শস্য। তাই ধানের উৎপাদন অটুট রেখে পাশাপাশি ধানভিত্তিক শস্য বিন্যাসে তেল ও ডাল জাতীয় ফসলের আবাদ বাড়িয়ে ভোজ্যতেল ও আমিষের চাহিদা মেটানোর পরিকল্পনা নিয়ে সে মাফিক কাজ করতে হবে।

বর্তমানে ভোজ্য তেলের চাহিদার মাত্র ১০-১৫ ভাগ দেশিয় উৎস থেকে পূরণ হয় এবং বছরে প্রায় ভোজ্যতেল আমদানীতে ২৪০০০ কোটি টাকা ব্যয় হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, উত্তর-পশ্চিমের জেলাগুলোতে ধানের ফলন অক্ষুন্ন রেখে অন্যান্য ফসলেল উৎপাদন কিভাবে বাড়ানো যায় সে দিকে কৃষি বিভাগ কে নজর দিতে হবে। 

মন্ত্রী বলেন আরো বলেন, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশের বাজারে পন্যের দাম কিছুটা বাড়লেও এই নিয়ে সরকার অত্যন্ত সচেতন এবং এই নিয়ে সরকারে কোন হতাশা নেই। যারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে অগনতান্ত্রিক ও অসংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতায় যেতে চায় তারা এই নিয়ে অপ্রচার করছে, এরা মানবতা ও গণতন্ত্রের শত্রূ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জনাব মোঃ সায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর সন্মানিত মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নিবার্হী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার, এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বেনজির আলম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার, বিএডিসির সদস্য পরিচালক বীজ মো: মোস্তাফিজুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক সরেজমিন উইং মো: হাবিবুর রহমান চৌধুরী, ব্রির পরিচালক গবেষণা ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান এবং রাজশাহীর জেলা প্রশাসক জনাব মো: আবদুল জলিল।

কর্মশালায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর পক্ষ থেকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মো. ইব্রাহিম, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, রাইস ফার্মিং সিস্টেমস বিভাগ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মোট চারটি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষিবিদ মোঃ শামছুল ওয়াদুদ, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহী অঞ্চল, কৃষিবিদ মোঃ এমদাদ হোসেন সেখ, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রংপুর, কৃষিবিদ প্রদীপ কুমার গুহ, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, দিনাজপুর এবং কৃষিবিদ মোঃ ইউসুফ রানা মন্ডল, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া অঞ্চল, বগুড়া।

এই কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উত্তরাঞ্চলের ৪টি জেলা রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া এর উপ-পরিচালকগণ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ, হর্টিকালচার সেন্টার ও উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রসমূহের উপপরিচালকবৃন্দ, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সীর এই চার অঞ্চলের আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন অফিসারবৃন্দ, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এর অধ্যক্ষগণ, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন এর অত্র অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক ও অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। আরো উপস্থিত আছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা), সুগারক্রপ রিসার্চ ইনস্টিটিউট, কৃষি তথ্য সার্ভিস, বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, এসআরডিআই, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ, সার ও বীজ সরবরাহকারী ডিলার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং কৃষক প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
 

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়