Banglar Chokh | বাংলার চোখ

এসএসসির প্রশ্ন ফাঁসে অসহায়ত্বের কথা অকপটে স্বীকার করলেন শিক্ষা সচিব 

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২০:৪৫, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

আপডেট: ২০:৪৫, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

এসএসসির প্রশ্ন ফাঁসে অসহায়ত্বের কথা অকপটে স্বীকার করলেন শিক্ষা সচিব 

ছবি:সংগৃহীত

পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানোর প্রশ্নে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের অসহায়ত্বের কথা অকপটে স্বীকার করলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দিক।

তিনি বললেন, 'কেন্দ্র সচিবরাই এটা করেন। কাউকে না কাউকে দিয়ে তো কাজটা (প্রশ্ন বিতরণ) করাতে হবে। সে যদি কাজটা এরকম করে ফেলে, ভবিষ্যতে আমরা কী করতে পারি?'

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে এক কর্মশালা শেষে প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন শিক্ষা সচিব।

এর আগে, চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একজন কেন্দ্র সচিবসহ তিন শিক্ষক গ্রেপ্তার হন। সে সময় ভূরুঙ্গামারীর নেহাল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে প্রশ্নপত্র উদ্ধার হয়। রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব লুৎফর রহমান, ইংরেজির শিক্ষক আমিনুর রহমান রাসেল এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক জুবায়ের হোসাইনকে। সকালে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান, কৃষি বিজ্ঞান ও রসায়ন পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়।

শিক্ষা সচিব বলেন, ভুরঙ্গামারীতে লকার থেকে কেন্দ্র সচিব কিছু প্রশ্ন নিয়ে নেন। বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্ন বিভিন্ন খামে থাকে, ফয়েল খামে। কোন সেন্টারে কতটা লাগবে, সেটা করে বড় খামে ঢোকানো হয়। কেন্দ্র সচিবরাই এটা করেন।”

ভুরঙ্গামারীর প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ আসার পর শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি স্বীকার করে শিক্ষা সচিব বলেন, “আগেরদিন আমার কাছে পুলিশের পক্ষ থেকে একটা রিপোর্ট এসেছে। তখন একটা সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। এটা সত্য নাও হতে পারে। সেখানে সাংবাদিকদের দুই পক্ষের দলাদলি আছে। একজন আরেকজনকে নাজেহাল করতে এমনটা রটাচ্ছে, এমন খবর আসছিল। সেজন্য আমরা গুরুত্ব দিইনি।”

এরপর জেলা প্রশাসক, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টির পুরোপুরি জানতে পারেন তিনি। পরে অভিযান চালিয়ে লকার থেকে প্রশ্ন উদ্ধার করা হয়।

এখন সচিব বলছেন, এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকায় কেন্দ্র সচিবসহ তিনজন গ্রেপ্তার হওয়ার পাশাপাশি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড।

পুলিশের তদন্ত চলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখনই এ ঘটনার তদন্তে যাবে না। প্রয়োজন মনে হলে বিষয়টি ‘দেখবেন’ বলে জানান আবু বকর।

প্রায় চার হাজার কেন্দ্রের একটি কেন্দ্রে এমন ঘটনা ঘটেছে মন্তব্য করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব বলেন, “আর একটা কেন্দ্রে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য বেটার কী করা যায়, সে ধরনের চিন্তা ভাবনা করতে হবে।”

তবে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে না পড়ায় এবারের প্রশ্ন ফাঁসে আগের তুলনায় পার্থক্য দেখছেন তিনি।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়