Banglar Chokh | বাংলার চোখ

দেশের সকল থানার মহল্লাভিত্তিক সরকারবিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীর তালিকা তৈরির নির্দেশ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:০৯, ১৪ আগস্ট ২০২২

দেশের সকল থানার মহল্লাভিত্তিক সরকারবিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীর তালিকা তৈরির নির্দেশ

ফাইল ফটো

সরকারবিরোধী দলগুলো যুগপৎ আন্দোলনে মাঠে নামতে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ নিয়ে বিএনপি ইতোমধ্যে ২২টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছে। সরকারবিরোধী পৃথক মোর্চা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ৭ রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’। আবার বাম ঘরানার কোনো কোনো দলও বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠে নামার আওয়াজ তুলছে। এমন প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পুরো রাজনৈতিক গতিপ্রবাহের ওপর সতর্ক নজর রাখছে। সরকারবিরোধী রাজপথের আন্দোলনে কোনো পক্ষ যাতে কোনো অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি রেখে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে মাঠ পুলিশ।

পুলিশের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, যে কোনো আন্দোলনে সব পক্ষের লক্ষ্য থাকে রাজধানী নিয়ন্ত্রণ। অতীতের বিভিন্ন বড় বড় আন্দোলন কর্মসূচিতে এমনটা দেখা গেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই রাজধানীর প্রত্যেক থানা পুলিশকে মহল্লাভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তর। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইস্যুতে যে মসজিদগুলো থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য ও
মিছিল বের হয় তার তালিকাও তৈরি করতে বলা হয়েছে। মসজিদ থেকে মিছিলকারীদের তালিকা তৈরি করে তাদের গতিবিধি নজরদারি করবে পুলিশ। কোনো ধরনের নাশকতা সৃষ্টির আগেই মানুষের জানমাল রক্ষায় তা প্রতিরোধে পুলিশ আগাম সতর্কতামূলক এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেড় বছরের কম সময় বাকি আছে। এ সময়ে সরকারকে নানা ধরনের চাপে ফেলার ষড়যন্ত্র হতে পারে। সরকারবিরোধীদের আন্দোলনে সহিসংতা ও নাশকতা সৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উসকানি প্রতিরোধে স্থানীয় থানার পুলিশের পাশাপাশি অপরাধ বিভাগ ও গোয়েন্দা বিভাগকে সর্বোচ্চ থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় এক সমাবেশে বলেছেন, আমাদের প্রতিবাদের জায়গা শুধু প্রেসক্লাব নয়, ঢাকা শহরের কমপক্ষে শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা আছে সেখানেও প্রতিবাদ করতে হবে। এ আন্দোলন নিজ নিজ এলাকায় ছড়িয়ে দিতে হবে। বড় রাস্তা, ছোট রাস্তা, অলিগলি পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে দিতে হবে। সব জায়গায় প্রতিবাদের ঝড় তুলতে হবে।

ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) ফারুক হোসেন বলেন, আগুন সন্ত্রাস, রাজনীতির নামে সহিংসতা ও নৃশংসতা যারা চালায় তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যদিও এটা চলমান প্রক্রিয়া। তবে সামনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এ জন্য পুলিশের কার্যক্রমও বেড়েছে। এলাকাভিত্তিক দুস্কৃতকারীদের তালিকা তৈরি করতে গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।

সম্প্রতি ডিএমপির থানা, অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগে পাঠানোর পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মহল্লাভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে তাদের ব্যাপারে আগাম তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। থানা মহল্লাভিত্তিক কমিটির তালিকা সংগ্রহ করেও রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যদের পদ, পদবি, নাম, মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে রাখতেও বলা হয়েছে। কোনো নাশকতামূলক ঘটনা ঘটলে যাতে সঙ্গে সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এ ছাড়া যেসব মসজিদ থেকে রাজনৈতিক ও উসকানিমূলক মিছিল বের হয়, সে মসজিদগুলোর তালিকা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি মুসল্লিদের ছদ্মবেশে যেসব দুষ্কৃতকারী উসকানিমূলক মিছিলে জড়িত তাদের তথ্য সংগ্রহ করে গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, রাজনৈতিক সহিংসতার পাশাপাশি সম্প্রতি কিছু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মিছিল থেকে পুলিশের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। গত জুন মাসে রাজধানীর ঢাকা উদ্যান এলাকায় মুসল্লিদের বিক্ষোভের সময় মোহাম্মদপুর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আহত ওসিকে নিউরো সাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনায় একটি মসজিদের খতিবসহ ১২ জনকে আটকও করে পুলিশ। এ ছাড়া বিভিন্ন ইস্যুতে পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এর পর থেকেই পাড়া-মহল্লার সরকারবিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও মসজিদ থেকে বের হওয়া ধর্মী ইস্যুতে বের করা মিছিলে নেতৃত্বদানকারীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, গত সাত মাসে সারাদেশ ২৮০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতায় নিহত হয়েছে ৫০ জন। আর আহত হয়েছে ৩ হাজার ১৬৪ জন।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়