Banglar Chokh | বাংলার চোখ

আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমা

সুজন সারোয়ার,টঙ্গী থেকে

প্রকাশিত: ১৯:২৮, ২২ জানুয়ারি ২০২৩

আপডেট: ০১:৩১, ২৩ জানুয়ারি ২০২৩

আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমা

নিজস্ব ছবি

মুসলিম উম্মাহর সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্য, শান্তি, সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দুনিয়া ও আখিরাতের মঙ্গল কামনা করে গতকাল রোববার ৫৬তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত শেষ হয়। এ মোনাজাতের মাধ্যমে সবাইকে দ্বীনি দাওয়াতের পথে আনার জন্য বিশেষভাবে দোয়া কামনা করা হয়। বিভিন্ন দোয়ার ফাঁকে ফাঁকে আমিন, আল্লাহুমা আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয় ইজতেমা ময়দান। মোনাজাত শুরু হতেই এলাকাজুড়ে এক রকম স্থবিরতা নেমে আসে আর থেকে থেকে ভেসে আসছিল শুধু আমিন, আমিন। 

পাপমুক্তির আশায় আল্লাহর দরবারে হাত পেতে চোখের জলে ভাসেন পরহেজগার মানুষ। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে তুরাগতীরের আকাশ। জীবনের সব পাপ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে অনুনয়-বিনয় করে পানাহ ভিক্ষা করেন মুসল্লিরা। লাখো মানুষের সঙ্গে একই সময়ে হাত পেতে মোনাজাতে অংশ নিতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। আর এ আখেরি মুনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে সা’দ অনুসারীদের ৫৬তম ইজতেমা।

রোববার বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে শুরু হওয়া প্রায় ৩০ মিনিটের এ মোনাজাতে অংশ নেন লাখো মুসল্লি। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা সা’দ আহমাদ কান্ধলভীর বড় ছেলে ইউসুফ বিন সা’দ কান্ধলভী। মোনাজাত শেষে সা’দ আহমাদ কান্ধলভীর পক্ষ থেকে সারা বাংলাদেশের মুসলিদের সালাম জানায় তার বড় ছেলে ইউসুফ বিন সা’দ কান্ধলভী।

আরবি ও বাংলা ভাষায় মোনাজাত করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে হাত তুলেন লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। আত্মশুদ্ধি ও নিজ নিজ গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বিপদ-মুসিবত থেকে মানবজাতিকে হেফাজত করার জন্য দুই হাত তুলে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে রহমত প্রার্থনা করা হয়। দেশ-বিদেশের প্রায় লক্ষ লক্ষ মুসল্লি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন।  মোনাজাতের আগে হেদায়েত বয়ান করেন মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী বাংলায় তরজমা করেন মাওলানা আবদুল্লাহ মনসুর। 

তবে আখেরি মোনাজাতের আগে দিকনির্দেশনামূলক হেদায়েতি বয়ানে বলা হয়, ইমান, আখলাক, মুসলিম জাতীর ঐক্য, জান, মাল ও সময় দিয়ে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার কাজ তাবলিগ জামাতের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এ কাজ নবীদের কাজ। প্রতিটি উম্মতের ওপর এই কাজ ফরজ।
আখেরি মোনাজাতে মানুষের ঢল : আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে গতকাল রোববার ফজরের নামাজের পর থেকেই রাজধানী ঢাকা, টঙ্গী, গাজীপুর ও আশপাশের এলাকাগুলো থেকে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ ইজতেমা মাঠের দিকে যেতে থাকে। সকাল থেকে ইজতেমার ৩-৪ কিলোমিটার এলাকা জনসমুদ্রের পরিণত হয়। ইজতেমার আশপাশের মাঠ, কল-কারখানা, হাসপাতাল, দোকানপাট, ভবনের ছাদ ও নৌকাসহ প্রায় সর্বত্রই মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।  

দ্বিতীয় পবের্র ইজতেমায় বিদেশী মুসল্লি এসেছেন প্রায় ৬৩ দেশের: বুধবার দুপুর থেকে রোববার পর্যন্ত ৬৩ দেশের ৯হাজার ১শ’ ১০জন বিদেশি মেহমান ময়দানের উত্তর-পশ্চিম দিকে তাদের জন্য নির্ধারিত নিবাসে অবস্থান নিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইজতেমা ময়দানের মিডিয়া সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সায়েম । 

দুই পর্বের ইজতেমায় ১৪ মুসল্লির মৃত্য : নিজামুদ্দিন অনুসারীদের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে এ পর্যন্ত ছয়জন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোবরার মোনাজাতের আগ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের সৈয়দ আলীর ছেলে আবু তাহের (৬৫), ঢাকার কদমতলী আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুল হান্নান (৪৫), ঢাকার সাভারের বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম (৫৫), রাজধানীর গুলিস্তানের বঙ্গবাজার এলাকার ব্যবসায়ী বোরহান (৪৮), গাইবান্ধার শুকুর মন্ডলের ছেলে আব্দুল হামিদ মন্ডল (৫৫) ও বরগুনার আব্দুল আলীম রানা ছেলে মফিজুল ইসলাম (৭৫) মারা গেছেন।

এ নিয়ে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমায় আগত ছয় মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইজতেমা ময়দানের মিডিয়া সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সায়েম। এছাড়াও প্রথম পর্বের ইজতেমায় ৮ মুসল্লির মৃত্যু : গত ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল থেকে ১৫ জানুয়ারি রোববার আখেরি মুনাজাতে অংশ নেওয়া ৮ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, ঢাকা বংশালের আনিসুর রহমান(৭১), খুলনা জেলার মোফাজ্জল হোসেন খান(৭০), ঢাকা কেরানীগঞ্জের হাজী হাবিবুল্লাহ হবি (৬৮), চট্টগ্রামের রাউজান এলাকার আঃ রাজ্জাক(৭০) নরসিংদী জেলার হাবিবুর রহমান (৭০), যাত্রাবাড়ী এলাকার আক্কাস আলি সিকদার (৫০), সিলেটের জৈন্তাপুরের নুরুল হক (৬৩)  গাজীপুরের তৈয়ব আবু তালেব (৯০) মারা যান। এ নিয়ে এজতেমায় প্রথম পর্বে মোট ৮ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রথম পর্বে আলমি শূরার তত্ত্বাবধানে (জুবায়েরপন্থি)  ইজতেমা ময়দানের মিডিয়া সমন্বয়কারী জহির ইবনে মুসলিম।
 

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়