ঢাকা, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৭

সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনো বাজেটই কার্যকর হবে না 

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২০:৪৯, ৯ জুন ২০২৬

সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনো বাজেটই কার্যকর হবে না 

ছবি :সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে কোনো সরকারের দেওয়া বাজেটই কার্যকর হবে না। জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি স্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জনমুখী বাজেট ২০২৬-২০২৭ প্রস্তাবনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা দেশকে ভালোবাসি বলেই জনগণের প্রত্যাশা ও প্রয়োজনের আলোকে কেমন বাজেট হওয়া উচিত, সে বিষয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা জনগণের সামনে তুলে ধরছি।

এটি কোনো চূড়ান্ত বাজেট নয়, বরং বাজেটের পূর্বধারণা বা প্রস্তাবনা।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীন সমাজ ও অর্থনৈতিক মুক্তির প্রত্যাশা করে আসছে।

কিন্তু বারবার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেগুলোর অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে জনগণ হতাশ হয়েছে এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশায় বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছে।
 

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংবিধানিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অযাচিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংকিং খাত, বীমা ও বিভিন্ন কর্পোরেশনে অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের কারণে অর্থনীতির ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুঁজিবাজার সংকটে রয়েছে, আর ব্যাংকিং খাতও ঝুঁকির মুখে পড়লে দেশের অর্থনীতি আরও বড় বিপদের সম্মুখীন হবে।

বাজেট প্রস্তাবনার লক্ষ্য সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, এটি কোনো দলীয় বাজেট নয়; দেশের ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনায় রেখেই প্রস্তাবনা তৈরি করা হচ্ছে। সরকার চাইলে এখান থেকে ইতিবাচক বিষয় গ্রহণ করতে পারে। তবে এর বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থবছর নির্ধারণ করা হলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তাড়াহুড়া কমবে এবং বছরের শেষ দিকে এডিপি ব্যয়ের নামে অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগও হ্রাস পাবে।

সম্পূরক বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বছরের শেষ মুহূর্তে সম্পূরক বাজেট উপস্থাপন করলে সংসদীয় পর্যালোচনার কার্যকারিতা কমে যায়। বরং নিয়ম অনুযায়ী আগেই তা সংসদে আনা হলে জনগণের অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান কর আদায় ব্যবস্থায় নানা ধরনের অনিয়ম ও হয়রানি রয়েছে। ব্যবসায়ীরা অনেক সময় কর দেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েন। কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং ব্যবসায়ীরাও আরও উৎসাহ নিয়ে কর প্রদান করবেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের জন্য একটি জনবান্ধব বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করাই আমাদের লক্ষ্য। এ বিষয়ে জনগণের মতামত ও সমালোচনাকে স্বাগত জানানো হবে। কারণ গঠনমূলক সমালোচনার মধ্য দিয়েই আরও উন্নত ও কার্যকর নীতি প্রণয়ন সম্ভব।

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে মিলেমিশে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

  

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন