Banglar Chokh | বাংলার চোখ

মুন্সীগঞ্জে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত শতাধিক

প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৫০, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

মুন্সীগঞ্জে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত শতাধিক

ছবি:সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ মুক্তারপুরে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের বাধায় এক পর্যায়ে পুলিশ-বিএনপি নেতাকর্মীদের  মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশ সাংবাদিকসহ শতাধিক আহত হয়েছেন। 

এর মধ্যে শাওন (২৫) সহ দুই বিএনপি কর্মীকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।  শাওনের মাথায় গুলি লেগেছে বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন।  

সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ মুহুর্মুহু শটগানের গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা পাল্টা  ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।  এ সংঘর্ষ প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলতে থাকে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পুলিশকে ধাওয়া করলে, পুলিশ ধলেশ্বরী  নদীর পাড়ে গিয়ে ও নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে।  সংঘর্ষে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুন্সীগঞ্জ সদর সার্কেল মিনহাজ উল ইসলাম, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুজ্জামানসহ কমপক্ষে ২৫ জন পুলিশ আহত হয়েছেন। তাদেরকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকাল তিনটার দিকে মুক্তারপুর ফেরিঘাট এলাকায় বিএনপির নির্ধারিত বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হওয়ার আগে একটি মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে গেলে পুলিশ বাধা দেয় এবং ব্যানার কেড়ে নেয়। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে। 

বিএনপির নেতাকর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশও টিয়ারশেল ও শটগানের গুলি ছুড়তে থাকে। এ সময় বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত গুলিবিদ্ধসহ আহত হয। 

সংঘর্ষ চলাকালে, দৈনিক মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার মোজাম্মেল হোসেন সজল, বাংলাভিশন প্রতিনিধি সোনিয়া হাবিব লাবনী, সমকালের জেলা প্রতিনিধি কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু, সাংবাদিক রুবেল আহত হয।  এসময় উত্তেজিত নেতাকর্মীরা পুলিশ ও সাংবাদিকদের সাতটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুজ্জামান জানান, বিএনপির মিছিল থেকে প্রথম পুলিশের ওপর হামলা করে। প্রথমে লাঠিচার্জ করে আমরা ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করি কিন্তু বিএনপি নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের উপর মারমুখী হয়, তখন পুলিশ বাধ্য হয়ে টিয়ারশেল ও শটগানের গুলি ছোড়ে। 
সদর থানা বিএনপি'র সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করছিলাম। সমাবেশ চলাকালে বিক্ষিপ্তভাবে মিছিল আসতে থাকে। এসময় পোস্ট মুক্তারপুর থেকে একটি মিছিল আসতে গেলে পুলিশ তাদের  ব্যানার কেড়ে নেয় এবং তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে সমাবেশে ঢাকা থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ,  জেলা বিএনপি'র সদস্য সচিব কামরুজ্জামান রতন, উপস্থিত ছিলেন। 

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়