Banglar Chokh | বাংলার চোখ

শেখ হাসিনা দুর্ভিক্ষের কথা বলেননি:ওবায়দুল কাদের 

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০২:২৬, ২৩ নভেম্বর ২০২২

শেখ হাসিনা দুর্ভিক্ষের কথা বলেননি:ওবায়দুল কাদের 

ছবি-সংগৃহীত

শেখ হাসিনা দুর্ভিক্ষের আশঙ্কার কথা একাধিকবার বলার পরও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্ভিক্ষের কথা বলেন নি। বিএনপি দুর্ভিক্ষ বলে শেখ হাসিনার বিকরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার (২২শে নভেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা স্টেডিয়াম মাঠে আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

অথচ, শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন থেকে ফিরেই দেশের দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করেন এবং দুর্ভিক্ষ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিতে কৃষকদের উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দেন। একাধিকার শেখ হাসিনার দুর্ভিক্ষের আশঙ্কার কথা নিজেই বলেছেন। তাঁর দলের সাধারণ সম্পাদক এখন বলছেন উল্টো কথা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের চিন্তায় রাতে ঘুমান না। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ সংকট বাংলাদেশ সামলে উঠবে।

ঘুরে-ফিরে ১৬ বছর আগে ক্ষমতায় থাকা বিএনপিকে দায়ী করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির আমলে রিজার্ভ ছিল পাঁচ কোটি আর বর্তমানে দেশের রিকশাওয়ালারাও পর্যন্ত রিজার্ভের খবর রাখে। এটা তাঁর প্রধানমন্ত্রীর কৃত্বিত। তিনি দাবি করেন, দেশে যে পরিমাণ রিজার্ভ আছে তা দিয়ে বাংলাদেশের ছয় মাস আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে।

যদিও আওয়ামী অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরাই বলছেন, দেশে আমদানি ব্যায় মিটানোর মত রিজার্ভ নেই। এমন কি রিজার্ভে সঙ্কট থাকায় আওয়ামী লীগের বন্ধু রাষ্ট্র ইন্ডিয়া বাংলাদেশের কোন ব্যাংকের এলসি গ্রহন করছে না। আমদানি ব্যায় বিটানোর মত রিজার্ভ না থাকায় কাগজ আমদানি সম্ভব হচ্ছে না। তাই এবারের প্রাথমিক পরীক্ষা প্রশ্ন না ছাপিয়ে স্কুলের বোর্ডে প্রশ্ন লিখে দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের প্রতি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। স্কুলের পরীক্ষা উত্তরপত্রে লেখার জন্য কাগজ ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ি থেকে আনার জন্য বলা হয়েছে। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো ঘটেনি।

উল্লেখ্য, অক্টোবর মাস থেকেই ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কার কথা বলেছেন। বৈশ্বিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গ টেনেছেন।

কয়েক সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনীর এক অনুষ্ঠানে দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গটি ফের উল্লেখ করে হাসিনা বলেছিলেন  দুর্ভিক্ষ মোকাবেলা করতে প্রতি ইঞ্চি জমি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করতে হবে।

ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনকালে ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু টানেল, মেট্রোরেল হওয়ায় বিএনপির অন্তরজ্বালা হচ্ছে। তাদের আমলে কোনো উন্নয়ন হয়নি। তারা কী বলে জনগণের নিকট ভোট চাইবেন? বিএনপিকে মানুষ ভোট দেবে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে। যাকে আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখে তাকে কেউ হত্যা করতে পারে না। শেখ হাসিনাকে ২০ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে কেউ তাঁকে মুছে ফেলতে পারবে না। দেশের  হৃদয় তাঁকে ধরে রেখেছে। যদি মিথ্যা বলার অপরাধে কাউকে নিষিদ্ধ করা হতো, তাহলে মির্জা ফখরুল ও বিএনপি নিষিদ্ধ হতো।

ভোট চুরি করে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার অপকর্ম ঢাকতে কাদেরের মতো একই ধরনের বক্তব্য বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলে চলেছেন আওয়ামী লীগের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী ও নেতারা।

সম্মেলনে মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুলের মুখে মধু অন্তরে বিষ। তারা মিথ্যাচার করে সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে ক্ষেপিয়ে তুলছে। তাদের বিরুদ্ধে ডিসেম্বর মাসে রাজপথে ফাইনাল খেলা হবে। খেলা হবে নির্বাচনের কারচুপির বিরুদ্ধে, খেলা হবে আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা, ভোট চুরি, ভুয়া ভোটার সৃষ্টি, দুর্নীতি, দু:শাসন, হাওয়া ভবন, অর্থপাচার ও সুইস ব্যাংকে যাদের একাউন্ট আছে তাদের বিরুদ্ধে। সুইস ব্যাংকের টাকা জনগণের, এ টাকা ফিরিয়ে আনতে হবে।  উল্লেখ করে আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংকট সাময়িক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ সংকট কাটিয়ে ওঠা হবে। দুর্নীতি-লুটপাটের বিরুদ্ধে খেলা হবে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ডিসেম্বর মাসে ফাইনাল খেলা রাজপথে হবে।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছেন সবার হিসেব প্রধানমন্ত্রীর নিকট রয়েছে। আপনারা শুদ্ধ হয়ে যান, ভালো হয়ে যান, খবর আছে।

বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারে দাবির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ইট ইজ নাউ এ ডেড ইস্যু।

তিনি বলেন, নির্বাচন হবে সংবিধান মোতাবেক। কেউ তা নিয়ে অপচেষ্টা করলে তাদের বিরম্নদ্ধে খেলা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সৎ যোগ্য নেতৃত্তে জনগণের আস্থা আছে জানিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন আবারও জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিবে।

এদিকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি বলেন,নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে সেই জন্য সবাইকে নির্বাচনে আসার আহবান তার। কেউ যদি নির্বাচনে না আসে তার দায় একান্তই তাদের। এ দায় আওয়ামী লীগ বা দেশের জনগণ নিবে না।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বিশেষ অতিথি মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মাহবুবউল আলম হানিফ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সংসদ সদস্য মো. শাজাহান কামাল, নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন ও আনোয়ার হোসেন খান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এম এ মোমিন পাটোয়ারী, আব্দুজ্জাহের সাজুসহ স্থানীয় নেতারা।

সম্মেলনে পুনরায় মিয়া মো. গোলাম ফারুক পিংকুকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

এর আগে ২০১৫ সালের ৩ মার্চ সম্মেলনে একই মাঠে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

উৎসঃ আমার দেশ

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়