Banglar Chokh | বাংলার চোখ

ফরিদপুরে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ

প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২:২৮, ১ ডিসেম্বর ২০২২

আপডেট: ০২:২৮, ১ ডিসেম্বর ২০২২

ফরিদপুরে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ

ছবি-সংগৃহীত

ফরিদপুরে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ ও চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ জেলা বিএনপির। এতে সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। এদিকে পুলিশ বলছে, এ সংঘর্ষ বিএনপির নিজেদের দুটি গ্রুপের। বরং সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। 

বুধবার (৩০ নভেম্বর) বিকেল ফরিদপুর সংলগ্ন প্রেসক্লাব চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের মিথ্যা ও গায়েবি মামলা, নির্যাতন ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, ফরিদপুর মহানগর শাখা। এতে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এ এফ এম আব্দুল কাইউম।

ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল যথাক্রমে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এ সমাবেশ উপলক্ষে ফরিদপুর প্রেসক্লাব চত্বরে ছোট একটি মঞ্চে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ও সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা সভাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তখনও এসে পৌঁছেনি। বিকেল পৌনে চারটার দিকে হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা অনুমানিক ৩০-৩৫ জন তরুণ লাঠি ও ইট নিয়ে সভাস্থলে হামলা করে। এ সময় হামলাকারীরা ব্যানার ছিনেয়ে নেয়, চেয়ার ভাঙচুর করে ও তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

এ ঘটনায় পুলিশ সিজান নামে ছাত্রদলের এক কর্মীকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে। এ আটককে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাদের ধ্বস্তাধস্তি হয়। পরে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ঘটনাস্থলে আসেন।

শামা ওবায়েদ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের গুলিতে এ পর্যন্ত বিএনপির ১১ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। তার প্রতিবাদে গত চারদিন আগে আমরা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছি। পুলিশের তত্ত্বাবধানে ছাত্রলীগ-যুবলীগ এ হামলা করেছে। আমরা দেখেছি তারা বিভিন্ন জায়গায় ককটেল রেখে গায়েবি মামলা দিচ্ছে। সে ধারাবাহিকতায় আজ তারা ফরিদপুর প্রেসক্লাবে ককটেল ফাটিয়ে আমাদের লোকদের ধরপাকড় করেছে।

ড. মঈন খান বলেন, সাধারণ মানুষ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর সরকারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে, ১১ জন নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে একটি শান্তিপূর্ণ ছোট সমাবেশ করতে এসে আমরা হামলার শিকার হলাম।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া বলেন, হামলায় দিলিপসহ বিএনপির অন্তত ৮জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। পুলিশ রিতু, কামাল, রাজীব ও সিজানসহ বেশ কয়েকজন তরুণকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল বলেন, ফরিদপুর বিএনপি শামা ওবায়েদ ও নায়াব ইউসুফ এ দুভাগে বিভক্ত। তাদের নিজেদের মধ্যে বিরোধ থেকে সভাস্থলে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। হামলা ঠেকাতে গিয়ে পুলিশের ৫ সদস্য আহত হয়েছে। এ সময় পুলিশ ১১টি শটগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়