banglarchokh Logo

কোটালীপাড়া কৃষক লীগের সভাপতি জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নানের খালাতো ভাই

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, গোপালগঞ্জ
বাংলার চোখ
 কোটালীপাড়া কৃষক লীগের সভাপতি জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নানের খালাতো ভাই

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যা চেষ্টা মামলার প্রধান আসামী জঙ্গিনেতা মুফতি হান্নান মুন্সির খালাত ভাই মুন্সি মাহফুজ হাসানাত কামরুলকে সভাপতি করে কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষক লীগের কমিটি গঠনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অনতিবিলম্বে এ কমিটি বাতিল করা না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষনা দেয়া হয়।

আজ বুধবার (০৭ এপ্রিল) সকালে কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষকলীগের একাংশ নেতাকর্মীরা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এসময় কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক অরুন মল্লিক।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে তিনি বলেন, গত বছর কোটালীপাড়া উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা কৃষক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা কৃষক লীগের সম্মেলন করার লক্ষ্যে একাধিক প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। মুন্সি মাহফুজ হাসানাত কামরুল উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সদস্য নন। এমনকি তিনি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিসহ কোন কমিটিতেও তিনি ছিলেন না। তিনি অরাজনৈতিক ব্যক্তি। কামরুলের আপন খালাতো ভাই জঙ্গিনেতা মুফতি আব্দুল হান্নান। তার আপন বড়ভাই মুন্সি সরাফত হোসেন কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।

তিনি আরো বলেন, কোন সম্মেলন না করে অর্থের বিনিময়ে রাতের আধারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ বিতর্কিত কামরুলকে সভাপতি করে গত ৪ এপ্রিল কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষক লীগের পকেট কমিটি গঠন করেছেন। এতে কৃষক লীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ূন কবির, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান হাজরা, মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী রাফেজা বেগম, ইউপি চেয়ারম্যান হান্নান শেখ, আওয়ামী লীগ নেতা সুমন হোসেন বাচ্চু, কামাল হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক বাবলু হাজরা, যুবলীগ নেতা মাসুদ রানা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাবুল হাজরা, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান মুন, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি স্বপন তালুকদাসহ আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অভিযুক্ত কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ বলেন, ১১ ইউনিয়ন ও পৌর কৃষক লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ও আহবায়ক কমিটির সদস্যরা বর্ধিত সভা করে। পরে তারা উপজেলা কৃষক লীগের নতুন কমিটি গঠনের করে সিদ্ধান্ত জেলা কৃষক লীগকে পাঠায়। জেলা কৃষক লীগ ওই কমিটি অনুমোদন করেছে। এখানে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।

গোপালগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান বিশ্বাস কোটালীপাড়া উপজেলা কৃষক লীগের নতুন কমিটি গঠনের কথা স্বীকার করে বলেন, এখানে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সত্য নয়।

উপজেলা কৃষক লীগের নব নির্বাচিত সভাপতি মুন্সি মাহফুজ হাসনাত কামরুল বলেন, আমার পিতা মুন্সি আবুল কাসেম আওয়ামী লীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর ছিলেন। আমার ভাই মুন্সি এবাদুল ইসলাম উপজেলা কৃষক লীগের আহবায়ক ছিলেন। আমার বড় ভাই মুন্সি সরাফত হোসেন কোন দিন বিএনপি করেন নি। জঙ্গি নেতা হান্নন মুন্সি আমার খালাত ভাই। তারা স্বাধীনতা বিরোধী তাই তাদের সাথে আমাদের ৫০ বছর ধরে কোন সম্পর্ক নেই। আমি ঢাকায় ছাত্রলীগ, যুবলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2021 বাংলারচোখ.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com