banglarchokh Logo

যশোরের বাজারে আগুন,পন্য দর দ্বিগুন

মালেকুজ্জামান কাকা, যশোর থেকে
বাংলার চোখ
 যশোরের বাজারে আগুন,পন্য দর দ্বিগুন

 করোনায় বিবর্ণ পহেলা বৈশাখ ১৪২৮। একই কারনে অচেনা রমজান। তবে বাজারে ঠিকই আগুন। পন্য দ্রব্যের দাম দ্বিগুন হয়েছে। একদিকে চলছে কঠোর লকডাউন, আরেক দিকে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের গায়ে আগুন-এটি যশোর শহরের গল্প। লকডাউনে জন জীবনে যখন নাভিশ্বাস তখন রমজানের শুরুতেই সবজির বাজারে আগুন। প্রতি কেজি বেগুনের বাজার দর ৯০-১০০ টাকা। যা আগের দিন ছিলো অর্ধেকের কম। এদিকে ৩০ টাকার শশা এখন ৮০ টাকা। এমনি ভাবে প্রত্যেক জিনিসের দাম আকাশচুম্বি।
এদিকে বাঙ্গালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখে বাজারে ইলিশ মাছের দাম হালিতে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা কমেছে। কারন মানুষ ভুলে গেছে পহেলা বৈশাখের আবহাওয়া, ভুলতে বসেছে বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব পান্তা ইলিশের কথা।
অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়ায় ক্রেতারা চরম ক্ষুব্ধ। তারা বলেন, দেশে কোনো আইন-কানুন নেই। যে যার মতো দাম বাড়াচ্ছে। আর আমাদের ভুগতে হচ্ছে। নয় তো দুদিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি ৩০-৪০ টাকা বেড়েছে বেগুনের দাম, এটা কি হয়? ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াচ্ছে। তারা বলেন, রোজার মাসে জুলুম আল্লাহ বরদাস্থ— করব না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজায় বেগুনের চাহিদা বেড়েছে। লকডাউন শুরু হয়েছে। বাজারে মাল নেই। ফলে বেগুণের দাম বেড়েছে। আমাদের বেশি দামে বিক্রি ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু ভিন্ন চিত্র বেগুন চাষীদের বেলায়। চাষিরা গেুনের বিক্রী করছে ৩০-৩৫ টাকা দরে।
যশোরে বাজারগুলোতে দেখা গেছে, লম্বা বেগুন ৮০, আবার কোথাও ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারে ছোট ও মোটা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকা কেজি দরে। কাটা বেগুন ১০০ টাকা। অথচ সোমবার থেকে মঙ্গলবার দুপুর পযন্ত— এই বেগুন বিক্রি হয়েছে ৫০-৫৫ টাকা কেজি দের। এরপর দুপুর থেকে দাম বাড়া শুরু হয়েছে।
ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, রোজা ও লকডাউনের কারণে বেগুনের দাম বেড়েছে। স্বাভাবিক দিনে এক-দুই মণ বেগুণ বিক্রি করি। দাম বেশি হওয়ার আজ বিক্রির জন্য এনেছি এক মণ বেগুন। বেশি দাম হলে বিক্রি হয় কম।
তিনি বলেন, শুধু বেগুনই নয়, শসা, গাজর, টমেটো, লেবুর দামও বেড়েছে। পেঁপে আলু ছাড়া কোনো সবজিই এখন ৭০ টাকার নিচে নেই। পুরো রমজান মাস এই দামে কিনতে হতে পারে বলে জানান তিনি।
অনেক দরাদরির পর ৮০ টাকা দিয়ে কেজিতে বড় বাজার থেকে এক কেজি বেগুন নিলেন রোকেয়া বেগম। তিনি বলেন,প্রতিদিন বাজার করি, গত মঙ্গলবার ৬০ টাকা কেজি দরে বেগুন নিয়েছি। ইফতারের বেগুনি বানাবো, এর লাইগা বেগুন কিনতে আইছি, কিন্ত দাম অনেক বেশি। তিন দোকান দেখে ৮০ টাকা কেজিতে এক কেজি নিছি।
শুধু বেগুন নয়, ৩০ টাকার শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি, ঢেঁড়স, করলা এবং কাঁচামরিচও বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। এই বাজারে সব চেয়ে কমে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে। এই সবজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2021 বাংলারচোখ.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com