banglarchokh Logo

করোনায় নি:শ্ব যশোরের রেস্তোরা ব্যবসায়ীরা

মালেকুজ্জামান কাকা, যশোর থেকে
বাংলার চোখ
 করোনায় নি:শ্ব যশোরের রেস্তোরা ব্যবসায়ীরা

যশোরে গত কয়েক বছরে সব থেকে বেশি পরিমানে গড়ে উঠেছে ছোট বড় রেস্তোরা। মুখরোচক খাবার ও সুন্দর পরিবেশে নিরিবিলি আড্ডার ব্যবস্থা করায় রেস্তোরাগুলোকে বিনোদন কেন্দ্রের পরিপুরুক হিসেবে বেছে নেয় মানুষ। তবে গত বছর করোনা শুরু হলে ধুঁকতে শুরু করে রেস্তোরাঁ ব্যবসা। ক্ষতি পোষাতে অনেকেই কর্মী ছাঁটাই শুরু করে। আবার অনেক রেস্তোরাঁ করোনা কালীন সময়ে বন্ধ হয়ে যায়।

যশোর শহরের মুজিব সড়কে ক্যাফে প্রেসক্লাব, নিউ আদি গোলপাতা, রাবার তলায় বাবুর হোটেল, ডোমা, সিভিল কোর্টের মোড়ে ফারুক হোটেল, মাইকপট্টিতে নিউ নুরু হোটেল, থানার অদূরে নাজমা হোটেল, ডাকুয়া হোটেল, দড়াটানায় কালেক্টরেট ক্যান্টিন, ভৈরব হোটেল এমনি বিভিন্ন নামে ২০০ হোটেল রয়েছে। শহরতলীর চেকপোষ্ট, চাঁচড়া, খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, মুড়লী ও রাজারহাটে রয়েছে আরো প্রায় একশত হোটেল রেস্তোরা। এই হোটেল গুলোর বেশিরভাগই এখন বন্ধ।

এখন খাবার পার্সেল, ডেলিভারিতেই চলছে কয়েকটি রেস্তোরা। তাতে খরচ উঠানো কষ্টকর। দোকানের ভাড়া, কর্মচারীদের বেতনও দিতে পারছে না ঠিক মত। এই খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছর করোনা উপলক্ষে সরকারের দেয়া সাধারণ ছুটির পরে জুলাইয়ের পর রেস্তোরাঁগুলো খুলে যায়। জিনিসপত্রের বাড়তি দামে তারা নতুর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। চলতি বছর পহেলা বৈশাখ, রমজান কেন্দ্র করে নতুন স্বপ্নের বীজ বুনতে থাকেন। নতুন করে করোনার সংক্রমণ বাড়লে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে লকডাউন হয়ে যায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাইরে ইফতারি বিক্রি ও রেস্টুরেন্টে বিভিন্ন ইফতার পার্টি, ইফতার-পরবর্তী বেচাকেনা করে সারা বছরের ক্ষতি পোষায় রেস্টুরেন্টগুলো। কিন্তু গত বছরের মতো এবারও করোনা সব কিছু শেষ করে দেবে তারা ভাবতে পারেননি। দুই বছর ধরে লোকসান টানতে টানতে অনেক ব্যবসায়ী এখন নিঃস্ব।

রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির তথ্য বলছে, যশোরে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক রেঁস্তোরা রয়েছে। যার মধ্যে ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সাড়ে চার হাজার। রেঁস্তোরাগুলোতে সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কাজ করেন।

রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার প্রণোদনা দেবে বলেছে। আমরা বিভিন্ন যায়গায় যোগাযোগ করেছি। ব্যাংকেও গিয়েছি। সেখান থেকে আমাদের বলা হয়েছে, আপনারা পচনশীল দ্রব্য ব্যবসায় জড়িত। আপনাদের প্রণোদনা দেয়া হবে না। এটা অনেক দুঃখজনক কথা। ব্যবসায়িদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে খাবার পার্সেল বা অনলাইন অর্ডারে ডেলিভারি করে কোনো রকমে চলছে রেস্তোরাঁগুলো। আগামী ঈদে স্টাফদের বেতন বোনাস কীভাবে দেবেন তা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দিলসান বলেন, আমাদের ফুডের ব্যবসায় যেমন লাভ হয়, আবার একই ভাবে লস হয়। বিক্রি যেখানে বেশি লাভের সংখ্যা সেখানে অনেক বেশি। যদি বেচাকেনা কম হয় তাহলে ব্যপক লস। যশোরে দোকানের ভাড়া অন্য দোকানের চেয়ে বেশি। একটা ছোট রেস্টুরেন্টেও ১০-১৫ জন স্টাফ থাকে। এদের মধ্যে চার-পাঁচজন শেফ থাকে। সবার থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়।

তিনি বলেন, একেকজন শেফের পেছনে মাসে বেতনসহ ২০- ২৫ হাজার টাকা খরচ আছে। স্টাফের পেছনে ১৪-১৫ হাজার টাকা খরচ আছে। জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। আবার গত ৫ বছরে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সব কিছুর দাম বেড়েছে। কিন্তু আমরা হুট করে খাবারের দাম বাড়াতে পারি না।

এই ব্যবসা নিয়ে আমরা বেশ বিপদে আছি। এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, শতকরা ৮০ ভাগ ব্যবসায়ী চরম বিপদে আছে। কেউ মুদি দোকানে টাকা বাকি রেখেছে তো কেউ মাংস ব্যবসায়ির টাকা বাকি রেখেছে। এভাবে ধুঁকে ধুঁকে চলছে আমাদের ব্যবসা।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2021 বাংলারচোখ.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com