banglarchokh Logo

রাঙ্গাবালীতে মনির হত্যাকান্ড:রহস্যের সন্ধানে পুলিশ!

এম সোহেল, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 রাঙ্গাবালীতে মনির হত্যাকান্ড:রহস্যের সন্ধানে পুলিশ!

বাড়ি থেকে খাওয়া-দাওয়া করে দোকানে ঘুমাতে যাচ্ছিলেন মনির। পথিমধ্যে দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারায় সে। গত শুক্রবার ঈদের রাত ১১ টায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের কাটাখালী এ হাকিম মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে রাঙ্গাবালী থানায় একটি মামলা করা হয়।
নিহত ব্যবসায়ীর মনির শিকদার (৩৬) তিনি কাটাখালী গ্রামের মোসলেম শিকদারের ছেলে এবং ওই বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে মুদি দোকানি। তার এক ছেলে, এক মেয়ে আছে। ছেলে রবিউল (শাওন) এ হাকিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র। রবিউল বলেন, ‘তার বাবা প্রায়ই দোকানে ঘুমাতো। শুক্রবার রাতেও নিজ বাড়ি থেকে রাতের খাবার খেয়ে দোকানে রওনা হয়। কিছুক্ষণ পর লোকজনের ডাকচিৎকার শুনে গিয়ে দেখে তার বাবা রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছে, তাৎক্ষণিক হাসপাতালে (কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে) নেওয়ার পথে মারা যায় সে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তার বাবার ফুসফুসের ওপর দুইটি, পেটে তিন-চারটি, পিঠে দুইটি, মোট ছয়-সাতটি কোপ দিয়েছে।’ রবিউলের দাবি, দোষীদের গ্রেফতার করে ফাঁসি দেওয়া হোক।
এদিকে, মনির হত্যাকা-ের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কারা এই হত্যাকা-ে জড়িত? কি কারণে মনিরকে হত্যা করা হয়েছে? এমন আরও অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকাবাসীর মুখে। মনিরের দোকানের পাশের চায়ের দোকানি হানিফ মৃধা (৭০) বলেন, ‘মনির একটা ভাল ছেলে ছিল। তার সাথে কারও দ্বন্দ্ব ছিল না। সে সবসময় হাসিখুশি থাকতো। কিন্তু যারা এই কাজ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
এ ঘটনার শনিবার রাতে রাঙ্গাবালী থানায় নিহতের বাবা মোসলেম শিকদার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১০)। এতে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়। তবে রোববার বিকেলে পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। কিন্তু শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক নারীসহ ৮ জনকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তারা হল, বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের টুঙ্গিবাড়িয়া গ্রামের জাকির আকন (৪০), জাফর আকন (৫০), নাসিমা বেগম (৩২), কাটাখালী গ্রামের রাজিব শিকদার (৩২), মশিউর রহমান রিভু (২৫), ইদ্রিস মৃধা (৫০), হৃদয় মৃধা (১৬) ও গাব্বুনিয়া গ্রামের ইমন দফাদার (১৯)। তারা রোববার দুপুর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে ছিল বলে জানা যায়।
ঘটনার পর থেকেই হত্যাকা-ের রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য মাঠে কাজ করছে পুলিশ। রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কলাপাড়া সার্কেল) আহম্মেদ আলী। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, খুব শিগগরই হত্যাকা-ের রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারবেন তারা। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাঙ্গাবালী থানার ওসি (তদন্ত) আবুল খায়ের বলেন, ‘মামলার তদন্ত চলছে। এই মুহূর্তে আমরা কিছু বলতে পারবো না। উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে বিস্তারিত জানানো হবে।’

 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2021 বাংলারচোখ.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com