banglarchokh Logo

জয়পুরহাটে চামড়া বাজারে ধ্বস, বিপাকে ব্যবসায়ীরা, ও বিক্রেতারা

আবুবকর সিদ্দিক জয়পুরহাট প্রতিনিধি
বাংলার চোখ
 জয়পুরহাটে চামড়া বাজারে ধ্বস, বিপাকে ব্যবসায়ীরা, ও বিক্রেতারা

কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে জয়পুরহাটে। মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জেলার বাজারগুলোতে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে গতবারের চেয়ে চার ভাগের এক ভাগ দামে। অনেক জায়গায় এত কম দামে বিক্রি না হওয়ায় অবহেলায় মাটিতে লুটাচ্ছে পশুর চামড়া। চামড়ার বাজারে ধসের শিকার মধ্যস্বত্বভোগী ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অনেকটাই দিশেহারা। আর যেসব হতদরিদ্র মানুষ কোরবানির চামড়া বিক্রির টাকা থেকে একটা অংশ পেয়ে থাকে প্রতি বছর, এবার তাদের ভাগ্যেও জুটবে না কাংখিত মুনাফা।

একদিকে করোনা অন্যদিকে পুঁজি সংকট, ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া পাওনা ইত্যাদি কারণে চামড়ার দাম পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা। জেলায় বিভিন্ন বাজারে প্রতিটি ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে আকার ভেদে মাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকায়। আর সেখানে গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ থেকে ২০০ টাকায়। চামড়ার বাজার ধসের কারণে লোকসানের শিকার হচ্ছেন জেলার মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। কোরবানির চামড়ার এই আকস্মিক দরপতনে দিশেহারা মধ্যস্বত্বভোগী চামড়া ব্যবসায়ীরা। এতে পুঁজি হারিয়ে অনেকেই পথে বসবেন বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

জয়পুরহাট চামড়া ব্যাবসায়ী সমিতির নেতা অহেদুল হোসেন দৈনিক নয়া শতাব্দীকে জানান।ট্যানারী মালিকরা সিন্ডিকেট করে একদিকে গত বছরগুলোর বকেয়া টাকা দিতে নানা তালবাহানা করছেন, অন্যদিকে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদের মন মর্জ্জি মত পানির দামে চামরা বিক্রি করতে বাধ্য করছেন বলেও অভিযোগ চামড়া ব্যাবসায়ীদের।
অপরদিকে বিক্রেতা আরাম নগরেরমুহাম্মদ আবু মুসা দৈনিক নয়া শতাব্দীকে জানালেন পশুর চামড়া পুর্বে তারা মহাজনদের কাছে বিক্রি করত ১০০০ টাকা থেকে ২০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত, সেই চামড়া গত বছর থেকে ১০০ টাকাথেকে ২০০ টাকায় বিক্রী করতে হচ্ছে। অথচ জুতা ক্রয় করতে হয় আমাদের ১০০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। চামড়া শিল্পের অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানান তিনি।

উত্তরাঞ্চলের চামড়ার বড় একটি অংশ কেনা বেচা হয় জয়পুরহাটে আর তাই বকেয়া টাকা না পাওয়ায় হতাশ এখানকার চামড়া ব্যাবসায়ীরা। ট্যানারী মালিকদের কাছে জয়পুরহাটের চামড়া ব্যাবসায়ীদের পাওনা প্রায় শত কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া টাকা না পাওয়ায় পুঁজি হারিয়েছে এসব ব্যবসায়ীরা। তাই এ শিল্পকে রক্ষা করতে ও গরীবদের হক ন্যায্যভাবে পেতে চামড়ার মূল্য নির্ধারন করার দাবী সংশ্লিষ্টদের।

 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2021 বাংলারচোখ.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com