banglarchokh Logo

যশোরের নিউ সেনসেশন রেস্তোরাঁ দ্য ব্যাম্বু ক্যাফে

মালিকুজ্জামান কাকা
বাংলার চোখ
 যশোরের নিউ সেনসেশন রেস্তোরাঁ দ্য ব্যাম্বু ক্যাফে

 যশোর টু সাতক্ষীরা পাটকেলঘাটা ভায়া সাতক্ষীরা সড়কের যেন হঠাৎ করেই গুরুত্ব বেড়েছে। আর এটা হয়েছে একটি বাঁশের রেস্তোরার আবির্ভাবে। তবে নামটা ইংরেজিতে কোড করা হয়েছে। ব্যাম্বু ক্যাফে। উদ্বোধনের দিন বৃষ্টি-দমকা হাওয়া আর কিছুদিন পরই করোনার কারণে লকডাউন এই দুটি দুর্যোগ গাঁয়ে চেপে ‘দ্য ব্যাম্বু ক্যাফে’র যাত্রা শুরু হয়েছে। দ্য ব্যাম্বু ক্যাফে যশোরে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় একটি ভিন্নমাত্রা এনে দিয়েছে ভোজনরসিক মানুষের মধ্যে।
যশোর শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে মণিরামপুর উপজেলার পলাশী এলাকায় সম্পূর্ণ গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে উঠেছে এই ফাস্ট ফুড ও মিনি চাইনিজ রেস্তোরাঁখানি। দিনের আলোয় চারপাশে সবুজের সমারোহ; আর রাতের আঁধারে তার অন্য আরেক রূপ। আশপাশে কেবল ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক। আর ক্যাফের বাইরে ও ভেতরের রঙিন ঝলমলে আলোর ফোয়ারা। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পুলেরহাট থেকে মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ সড়কের একদম গা-ঘেঁষে অবস্থিত এই অভিনব রেস্তোরাঁটি।
ক্যাফের দুই `পাশে সবুজ ধানের ক্ষেত। বরষায় ধুয়ে যাওয়া সবুজ বৃক্ষাবলীর নয়নাভিরাম-মনোহর দৃশ্য চারিপাশে। বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক বাতাসের স্পর্শ নিয়ে ফাঁকা-কোলাহল মুক্ত একটি স্থানে বাঁশের তৈরি কাঠামোর ওপর গোলপাতার ছাউনি দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই রেস্টুরেন্ট। প্রথম দেখায় যে কারও হৃদয় উদ্বেলিত হতে বাধ্য তা বলাই বাহুল্য।
ক্যাফের বাইরে থেকে প্রথম দেখায় মনে হবে সাদামাটা এক রেস্তোরা। কিন্তু ভেতরে ঢুকলেই একটু একটু করে চোখে পড়বে এর শিল্পগুণ। বিভিন্ন প্রকারের বাঁশের সাধারণ কাজে অসাধারণ সৌন্দর্য ঠিকরে বের হচ্ছে যেন।
শুধু বাঁশ নয়, ক্যাফেতে টেবিল-বেঞ্চ ও চেয়ারে ব্যবহার করা হয়েছে কাঠ। প্রতিটি টেবিলের ওপরে এবং আশপাশে ঝুলছে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি ঝালরে রঙিন বাতি। সৌন্দর্য বিকাশে পাশাপাশি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বাবুই পাখির বাসা।
এই রেস্টুরেন্টের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, ভেতর থেকে পূর্ব ও পশ্চিম দিক ছুঁয়ে উঠে গেছে দুটি বাঁশ-কাঠের সিঁড়ি। পশ্চিমে দোতলায় রয়েছে একটি ফ্যামিলি কেবিন আর পুবে দুটি সিঙ্গেল কেবিন। সেখানেও বসার ব্যবস্থা করা আছে। তবে, কাঠের চেয়ারের পরিবর্তে রয়েছে সোফা। এই কেবিন গুলোর চারপাশ বাঁশের চটা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে নান্দনিক ডিজাইনের বেড়া। নিচতলায় একইভাবে ছোট ছোট চারটি কেবিন রয়েছে। এগুলো কাপলদের জন্যে বুকড।
মানুষজন এই রেস্তোরায় যাচ্ছেন বেশ। আগতরা খুবই উচ্ছ্বসিত সেখানকার পরিবেশ ও খাবার পরিবেশনে। তাদের এ বিষয়ে ভাষ্য, শহরের কোলাহল থেকে দূরে, চারিদিকে সবুজ, চোখে প্রশান্তি এনে দেয়। রেস্টুরেন্টের এই সুন্দর পরিবেশ আরও বেমি সুন্দর হয়ে ওঠে প্রতি সন্ধ্যায়। রঙিন ঝাঁড় বাতির মৃদু আলোয় সেখানে বসে গান শোনা যায়। রেস্টুরেন্টের কর্মীরাও বেশ আন্তরিক। খাবারের মানও ভালো। দামটা একটু বেশি হলেও তা তাদের ব্যবহার, পরিবেশ আর পারিপার্শ্বিক সৌন্দর্যে তেমন একটা গায়ে লাগে না কারো। অবশ্য জরিমানাও হয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট কতৃক। এতে যেন এর গ্রহন যোগ্যতা কমেনি। বরং বেড়েছে।
ব্যাম্বু ক্যাফের মালিক দুই। এরা হলেন মঞ্জুরুল ইসলাম ও তার বন্ধু আরিফুজ্জামান রনি। মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, দশ বছরের চুক্তিতে ২৫ শতাংশ জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যাম্বু ক্যাফে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এ বছরের ১২ মে ক্যাফে চালু করা হয়। গেল বছরের অক্টোবর মাস থেকে ক্যাফের কাজ শুরু হয়। প্রায় আট মাস ধরে চলে কর্মযজ্ঞ। তিনি বলেন, কারো কাছ থেকে ধারণা না নিয়েই একটু আনকোরা ডিজাইন আর একটু ভিন্নতা আনতেই বাঁশের এমন ব্যবহার হয়েছে এখানে।
মুলি, ভল্কা, জাওয়া এবং পাহাড়ি এই চার প্রকার প্রায় তিন হাজার বাঁশ ব্যবহৃত হয়েছে এই ক্যাফেতে। ১৩০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। সকাল দশটা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে তাদের এই খাবারের দোকান। শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট মিলিয়ে দুই মাসের বেশি ক্যাফে খোলা রাখা গেছে। স্থানীয় লোকজন ছাড়াও আশপাশের উপজেলা থেকে লোকজন এখানে আসেন। তবে এখনো লাভ-ক্ষতি প্রায় সমান- এটা জানান মঞ্জুরুল ইসলাম। কে জানে ব্যবসায়ি গোঁমর ফাঁস না করতেই তার এমন কৌশলী কথাবার্তা কিনা কে জানে। তবে এখনো সেই লাভ ক্ষতির বানিজ্যিক হিসাবে পা ফেলতে দর্শক, ভক্ত, ক্রেতা বা সাধারন ভোক্তা কেউ রাজি নয় মোটেও।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2021 বাংলারচোখ.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত। Developed by eMythMakers.com