Banglar Chokh | বাংলার চোখ

গণমাধ্যম সাংবাদিক চতুর্থস্তম্ভ জনগনের প্রত্যাশা ও শাসকের অন্তরায় শেষ পরিণতি

মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী

প্রকাশিত: ১৬:২৮, ১৪ অক্টোবর ২০২১

আপডেট: ১৬:২৮, ১৪ অক্টোবর ২০২১

গণমাধ্যম সাংবাদিক চতুর্থস্তম্ভ জনগনের প্রত্যাশা ও শাসকের অন্তরায় শেষ পরিণতি

দক্ষিণ এশিয়ার একটি আধা স্বাধীন আধা পরাধীন দেশ বাংলাদেশ বলে আম জনতা মনে করে?কারণ বিশ্বে তথাকথিত উন্নত দেশদাবীদার দেশ গুলোর সরকার মনে করে সংবাদপত্র বা গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থস্তম্ভ?আবার কোন কোন দেশ ও তার জনগন মনে করে সমাজের আয়না!কিন্তু তথাকথিত মুসলিম রাষ্ট্র গুলো মনে করে গণমাধ্যম গুলো স্বাধীনতা পেলেই, তাদের কৃতকর্ম ফাঁস হয়ে যাবে।এই ভয়ে সংবিধানের সাথে পুড়া পুড়ি সাংঘর্ষিক এমন আইন প্রনয়ন করে থাকে। এমন কি সংবিধান অনুযায়ী ঐ আইন গুলো উচ্চ আদালত সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী বাতিল ঘোষণা করতে পারেন?আজ মনে পরে অতীততের কথা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মামলা অনুযায়ী গ্রেফতারের জন্য গণমাধ্যম কর্মী খোঁজে ফীরছে? আর উচ্চ আদালত গভীর রাতে তার জামিন প্রদান করে।আজ বিচার বিভাগ যেন সেই ক্ষমতা পিছন থেকে কারা টেনে রাখে!গতকালই জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন এক বক্তব্যে বলেছেন,বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিনকাল এর প্রকাশ তারেক রহমান এর ভার্চুয়াল বক্তব্য দেওয়া আইন সম্মত নয়!কিন্তু তার অবস্থান থেকে জাতি শুনতে চেয়ে ছিলো তারেক রহমান এর নিরাপত্তা জনিত কারণে দেশে ফীরতে না পারায় দলের প্রধান হিসাবে ভার্চুয়াল বক্তব্য অযুক্তিক নয়!এখানে প্রসংগ ক্রমে বলতে হয়ঃ২০০৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত গত ১২ বছরে ৫০ জন সাংবাদিক খুন হয়।তার মধ্যে চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যার চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে আদালত থেকে ৮১ বার সময় নেয় তদন্তকারী কতৃপক্ষ! এ যাবৎ প্রায় শতাধিক সাংবাদিক বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করতে গিয়ে কালো আইনের ক্ষমতার বলে।দেশের জনপ্রিয় বহুল প্রচারিত আমার দেশ পত্রিকা, চ্যানেল ওয়ান,সিএসবি,দিগন্ত টিভি,ইসলামীক টিভি সাময়িক একটা কথা সংযুক্ত করে বন্ধ করে রেখেছে।আদলাত ও এ ব্যাপার সিদ্ধান্ত দিতে পারে নাই,কারণ কার্য্য তালিকায় আসে নাই!এ ছাড়াও জাতীয় প্রেসক্লাবে একাধিকবার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন(বিএফইজে)`র একাধীকবার সভাপতি,মহাসচিব,শওকত মাহমুদ প্রায় কাল্পনিক শতাধিক মামলায় আসামি, রিমান্ডে নিয়ে জুলুম করেছে! তারপর আমার দেশ সম্পাদক মাহামুদুর রহমান বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করায় তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা,রিমান্ড ও আদালত চত্বরে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হলো!আদালত ও নিরাপত্তার দিতে ব্যার্থ হলেও জাতীয় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে কোন নিন্দা জানায়ছে বলে দেখী নাই! তারপর দেশের প্রবীণতম বুদ্ধিজীবি সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ সাহেবকে গ্রেফতার, রিমান্ড কারাভোগের পর জামিন।ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন(ডিইউজে)`র নেতা বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন(বিএফইউজে)`র সাবেক সভাপতি ও মহাসচিব বীরমুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমীন গাজী প্রায় একবছর হতে চললো জামিন পাচ্ছে না?তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য,তার জামিনের ব্যাপারেও কোন উচ্চবাচ্চো নাই!তথ্যমন্ত্রী ড.হাসান মাহমুদ রাজশাহীতে বললেন অনিয়মিত ২১০টিপত্রিকা বন্ধ করে দেওয়ার আয়োজন চলছে!কিন্তু কেউই উপলব্ধি করছে না,প্রায় ১৮ মাস লকডাউনের কারে অনেক কিছুই স্বাভাবিক নাই!হাইকোর্ট কতৃক ৯০টি অনলাইন পোটাল রেখে বাকী গুলো বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে! কিন্তু সাংবাদিক মহল প্রত্যাশা করছিল, উচ্চ আদালত নির্দেশনা দিবেন,যথাযথ কতৃপক্ষের কাছে, আবেদন কৃত নিউজ পোটাল গুলো অতি তারাতাড়ি অনুমোদনের নির্দেশ দিবেন! কিন্তু এ সব বিষয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নাই!বিএনপি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট প্রেসক্লাব বা আদালতের প্রতিপক্ষ নয়!বিএনপি ও তার জোটের জনপ্রিয়তায় শহীদ জিয়া পরিবারকে তো নাজেহাল করছেই এবং ৪০/৩৫ লক্ষ কাল্পনিক মামলায় দলের নেতাকর্মী ও জোটের শরিকরা তো আছেই,আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বিধায়,তারা ফরমাইস রায়ে সাজা বা যথা সময় জামিন না পেয়ে আর্থিক ভাবে সর্বশান্ত হচ্ছে কিন্ত তারপরও তারা আদালতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। কিন্তু এটা কোন স্বাধীন দেশের নাগরিকদের প্রাপ্তি কি?বাংলাদেশের নাগরিকরা যখনই অধিকার বঞ্চিত হয়,তখন তাদের দৃষ্টি থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী-শিক্ষকদের দিকে,আর জাতীয় প্রেসক্লাবের দিকে! কিন্তু জাতী আজ কি দেখলো জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যাবস্হানা পরিষদ ক্লাবে রাজনৈতিক কোন কর্মসূচির জন্যে ভাড়া বা ব্যাবহার করতে দিবে না? গনতন্ত্রের আই কোন বলে ক্ষ্যাত জাতিয় প্রেসক্লাবও এখন আর চতুর্থ স্তম্ভ রইলো কিনা,অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে?সকল ঐতিহ্য একভুলন্ডিত হওয়ার পথে।এখন আর সমাজের দর্পন বা বিবেক নাকি সাংবাদিকরা আর নাই?এদিকে শাসক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, অফিসিয়াল সিকিউরিটি এ্যাক্ট সহ সাংবাদিক সমাজের কলম ভোতা করে দিতে,হামলা,মামলা গুম কত কিছুই না করছে।এই জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যাবস্হাপনা পরিষদ, যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো,দেশবাসী তাতে আশাহত? জাতীর বিভিন্ন মহল বলছে আঞ্চলিক আধিপত্য ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি চক্রান্ত পতিহত করতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়তে হবে।তা না হলে আরেকটি পলাশীর বিপর্যয় দেখার অপেক্ষা করতেই হবে? আমাদের স্বাধীনতা আমাদেরই রক্ষা করতে হবে।আজকে সাংবাদিক সমাজের কাছে জাতির প্রত্যাশা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের হয়রানি বন্ধ,গনতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রান কেন্দ্র জাতীয় প্রেসক্লাব মজলুমদের অধিকার প্রতিষ্ঠার অতিতের মত কেন্দ্র স্হাল পরিনত করে পেশার মর্যাদা আর জনগনের প্রত্যাশা পুরণে সকল বিধি নিষেধ প্রত্যাহার করবে।এই জাতীয় প্রেসক্লাবের জায়গা প্রথম বরাদ্দদেন,স্বাধীনতার ঘোষক,জেড ফোর্সের অধিনায়ক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়া উর রহমান আর স্হায়ী বরাদ্দ প্রদান করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাদের উদ্দেশ্য পরিস্কার যখন মজলুম মানুষের কথা বলার সবজায়গা দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে!তখনই এখান থেকেই দখলদার মুক্ত জনতার নিরাপদ স্হান অতিতে যেমন হয়েছে এখনো রাখতে পারলেই মানুষের মৌলিক অধিকার ফীরে পাবে, এটাই বরাদ্দ প্রদানের উদ্দেশ্য ছিলো। দুঃশাসনকারী উপকৃত বা দীর্ঘস্হায়ী হোক এ থেকে জাতির শেষ আশ্রয় স্হলের উপর থেকে মুক্ত হোক এটাই কামনা করছে মজলুমরা।

বাংলার চোখ

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়