Banglar Chokh | বাংলার চোখ

৫০ তম বিজয় দিবস অশনিসংকেত!

মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী

প্রকাশিত: ২২:২৭, ১৫ ডিসেম্বর ২০২১

আপডেট: ০০:০০, ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯

৫০ তম বিজয় দিবস অশনিসংকেত!

ভোর হলে বিজয়ের উল্লাসের জন্যে জাতি প্রস্তুত! কিন্তু একদিন আগেই দেশের ক্ষ্যাতিমান বুদ্ধিজীবী হত্যার ব্যাথা অন্তরের গহিনে!তারপর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম,এ,জি,ওসমানী`র অনুপস্থিত, উপস্থিত উপপ্রধান এ,কে,খন্দকার গুরুত্বহীন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা! এ সব বিষয় নিয়ে ৫০ বছরে কোন বিশ্লেষণ হয় নাই। বিশিষ্ট চিত্রপরিচালক ও লেখক জহির রায়হানকে প্রধান বুদ্ধিজীবী হত্যার রহস্য উদঘাটনে একটা তদন্ত কমিটি গঠন। অবশেষে তিনিও হারিয়ে গেলেন।তার বিজয়ের পর থেকেই প্রধান প্রতিপক্ষ ইসলাম,শুরুতেই ঢাকা৷ বিশ্ব বিদ্যালয়ের মনোগ্রাম থেকে "রব্বী যিদনী ইলমা অপসারণ, এর পর এই অঞ্চলের মুসলিমদের মধ্যে বহু ভাগে বিভক্তি করা!উর্দু ভাষীদের বাড়ী-ঘর ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্ছেদ করে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপনে বাধ্য করা।যুদ্ধত্তোর পাক সেনাদের ফীলে রেখে যাওয়া অস্ত্র স্বস্ত্র ও শিল্প কলকারখানার যন্ত্রপাতি লুট করা! মুক্তিযুদ্ধের আরেক সমরনায়ক মেজর(অবঃ) এম,এ,জলিল বাঁধা দিতে গিয়ে কারাগারে ঠাই হওয়া!এ সব বিষয় মাথায় রেখেই হয়তো ২২ জানুয়ারী ১৯৭২ ইন্ডিয়ান সরকারের গৃহবন্দী থেকে মুক্ত হয়ে,১৯৫০-১৯৭১ পর্যন্ত যিনি দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলের ঘুরেছেন স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখে তা,স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা রুপকার স্হপতি, প্রবাশী সরকারের উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী বললেন" পিন্ডি থেকে রক্ত দিয়ে কেনা স্বাধীনতা দিল্লির গোলামী করার জন্যে নয়"! মজলুম জননেতা`র দিকনির্দেশনা অনুসরণ করতে ব্যার্থ হওয়া গোটা জাতী আরেকটা পলাশীর বিপর্যয়ের মুখোমুখি বলে পর্যবেক্ষক মহল আশংকা করতে শুরু করেছে। একটু অতীতের দিকে ফীরে যেতেই হয়! ইতিহাসের পাতা থেকে সরানো বা ভুল ব্যাখা দেওয়া হয়েছে "বাংলার শেষ স্বাধীন নবা সিরাজ উদ দৌলা আর মীরজাফর আলী খানের চরিত্র নিয়ে?কালক্রমে জগৎ শেঠ গংদের অপতৎপরতা উঠে আসতে থাকে! সেদিন এরাই ইষ্ট ইণ্ডিয়ান কোম্পানির বিরুদ্ধে বাংলার সেনাদের প্রতিরোধ করতে দেয়নি? নবাব সিরাজ দৌলা ষড়যন্ত্রের স্বীকার হওয়ার সাথে সাথে গোটা ভারতবর্ষে মুসলিম বিরোধী অভিযান শুরু হয়! এমন কি মসলিন কাপড় তৈরীর কারিগরদের হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত কেটে দেওয়া হয়!শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিঘ্ন সৃষ্টির পরিবেশ তৈরী জন্য আলেম সমাজকে হত্যা করে গাছে গাছে ঝুলিয়ে রাখে! সর্বশেষ বিভিন্ন সময় মুসলিম নিধন করতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর ঘটনাও ঘটে। আর এর মূল রহস্য ভারত থেকে যে সম্পদ, তারা লুটে নিয়ে গেছে তার জবাবদিহি, যাতে করতে না হয়?এখন পর্যন্ত মুসলিম রাষ্ট্রে অর্থ সম্পদ লুটপাটকারীদের সম্পদ তাদের কাছেই বা দেশে রাখার সংবাদ সবার জানা?১৯৭৫ এ রাজনৈতিক সংকট দেখা দিলে কেন মজুলুম জননেতা মওলানা ভাসানী স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়া উর রহমানকে রাষ্ট্রের হাল ধরতে বললেন?কারণ ১৯৬৫ সালে ক্যাপ্টেন জিয়া উর রহমান ইন্ডিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করে দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছে!তেমনি ১৯৭১ এর মার্চে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, ছাত্রনেতা সিরাজুল আলম খান,আ,স,ম,আব্দুর রব,শাহজাহান সিরাজ, মশিউর রহমান যাদু মিয়া,এস,এ,বারীএটি,আরো কয়েকজন ছাড়া আর কেউ স্বাধীনতার ব্যাপারে কোন দিকনির্দেশনা দিতে পারে নাই?রাতের অন্ধকারে হায়নারা যখন নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের উপর ঝাপিয়ে পরলো! তখন পূর্বপাকিস্তানের জনগন নিরব মৃত্যু থেকে বেঁচে থাকার কোন গাইড লাইন পাচ্ছিলো না! এমন সময় চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ইথারে ভেষে আসলো আমি"মেজর জিয়া বিদ্রোহ ঘোষণা করছি,অস্হায়ী প্রেসিডেন্ট হিসাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করছি,এই ঘোষণা কয়েকবার দেওয়ার পর কিছুটা পরিবর্তন আনেন অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে। তিনি চলে যান যুদ্ধ ময়দানে সেনা,নৌ,বিমান,ইপিআর, পুলিশ সদস্যরা,সাধারণ, ছাত্র-ছাত্রী-কৃষক-কামাড়-কুমার-তাঁতী-জেলে সর্বস্তরের মানুষকে প্রতিপক্ষকে প্রতিরক্ষার প্রশিক্ষণদেয়!প্রায় এককোটি মানুষের ইন্ডিয়ার বিভিন্ন স্হানে আশ্রয় নেয়!স্মরনার্থীদের জন্যে বিপুল পরিমাণ সাহায্যে আসলেও তার সঠিক ব্যবহার হয়েছে, এমন কথা কেউ বলতে পারে না!প্রকৃত মুসলমানদের প্রতি ইন্ডিয়ার বৈরী আচরণে অনেকেই ফীরত এসেছে? দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের শেষ সময় ইন্ডিয়ান স্বাধীনতার সমর্থনদেয়!১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সরোয়ার্দী উদ্দ্যান বা রেসকোর্স ময়দানে কাদের কাছে পাক হানাদারদের আত্মসমর্পণ করতে হয় এটা একটু পরিস্কার হওয়া দরকার।তখন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এমন ছিলো আলোচনার অগ্রগতির কথা!অন্যদিকে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৫০ সাল থেকেই জাতিকে স্বাধীনতার জন্যে প্রস্তত করতে শুরু করেন।স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রোষ্ট্রা,রুপকার, স্হপতি মজলুম মানুষের দুরদর্শি নেতা মওলানা ভাসানী বুঝতেন ১৪০০ মাইল দুর থেকে এসে তিন দিকে শক্রবেষ্টিত এই দেশের মানুষের সেবা করা সম্ভব না?(হুজুরের এমন ধারণা হতে পারে এমন কথা পর্যালোচনা করতে গেলে কেন,উঠে আশে তা আলোচনায় তুলে ধরবো আল্লাহ পাক যদি ক্ষমতাদান করেন)যাই রাতের অন্ধকারে হানাদারবাহিনী যখন নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের উপর ঝাপিয়ে পরে,তখনকার রাজনৈতিক দল গুলো সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত দিতে গ্রহণ করার মত মানুষিক ভাবে প্রস্তুত ছিলো বলে এটা বিজ্ঞ ও স্বচ্ছ মহল বিশ্বাস করতে পারে না?সেই মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী টাঙ্গাইলের অজপাড়া গাঁয়ে বসে করণিয় নিয়ে ভাবছেন!তখন বুদ্ধিমত্তা ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়ে মেজর জিয়া উর রহমান ঘোষণা দিলেন, আমি রিভল্ট করছে,"অস্হায়ী প্রেসিডেন্ট হিসাবে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিলাম" তারপর নানা পরিবর্তন আসলেও স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণার জায়গায় কোন পরিবর্তন আসে নাই?মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ১৯৭০ সালে দক্ষিণ অঞ্চলে ঘূর্ণি ঝড় ও প্রার্কৃতিক দূর্যোগ এলাকায় গায়ে ১০৬ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে গিয়ে সান্ত্বনা দিতে জান! কিন্তু মজলুম জনগনের নেতা দক্ষিণ অঞ্চলের জনগনের জন্য পাক সরকার কোন সাহায্য নিয়ে,যায় নাই দেখে তিনি ক্ষীপ্ত হয়ে উঠলেন!ঢাকায় ফীরে তিনি ঘোষণা দিলেন"ভোটের বাক্সে লাথি মারো পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন করো। আর যারা নির্বাচনে অংশ

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক,কলামিষ্ট.বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এ্যাসোসিয়েশন(বিআরজেএ) চেয়ারম্যান

বাংলার চোখ

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়