Banglar Chokh | বাংলার চোখ

সাম্প্রতিক মার্কিন জোটের সম্মেলন ও মুসলমানদের ভবিষ্যৎ

মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী

প্রকাশিত: ২৩:১৪, ২৫ ডিসেম্বর ২০২১

আপডেট: ০০:০০, ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯

সাম্প্রতিক মার্কিন জোটের সম্মেলন ও মুসলমানদের ভবিষ্যৎ

মার্কিন জোটের সম্মেলন নিয়ে পর্যবেক্ষক মহলের পর্যালোচনায় দুটি জিনিস পরিস্কার হচ্ছে বলে মনে হয়!১৭৫৭ সালে জগৎ শেঠ গংদের সহযোগিতায় ইষ্ট ইণ্ডিয়ান কোম্পানি ক্ষমতালোভী মুনাফেক মীরজাফর নিরবতায় বাংলার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়!আর এই স্বাধীনতা পুর্ণদ্ধারে বহু আলেম-ওলামা-ইসলামের দিকনির্দেশনা প্রচারকারীদের হত্যা করার নজির রয়েছে।একমাত্র নেতাজী সুভাসচন্দ্র বোসের মত কিছু দেশপ্রেমিক হত্যা,খুন,গুম,ছাড়া করম চাঁন গান্ধী, মতিলাল নেহরু,প্যাটেল ও রাবিন্দ্র নাথ পূর্ব বাংলাকে পৃথক রাষ্ট্র বা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় নাই!১৯৫৭ সালে দখলদাররা আধিপত্য বিস্তারের আগে ভারতবর্ষে কোন সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উথান বা দাঙ্গা হয়েছে এমন ঘটনা শুনা বা জানা যায় না!ভারতবর্ষ থেকে ইংরেজরা নিরাপদে বেড় হতে তথাকথিত উচুতলার হিন্দুরা কৌশলে মিথ্যাচার করে সর্বশেষ ১৯৪৬ সালে,সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধায়!তাতে কত মুসলিম পরিবার আপনজন হারিয়েছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান মুসলিম নেতৃবৃন্দ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন নাই?আর এটাই মুসলমানদের উদারতা? বিশ্বমানবতার নেতা রহমাতুল্লিল আলামীনকে যখন,হুজুর পাক সাল্লালাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামকে হত্যার চেষ্টা বা চক্রান্ত করলো!তখন দয়ার নবী করিম সাঃ মদিনায় হিজরত করেন।তারপর দয়ার নবী বিশ্বমানবতার নেতা রহমাতুল্লিল আলামীন যখন শক্তি অর্জন করে,মক্কা বিজয় করলেন,তখন আবু জেহেল গংরা আতংকিত হয়ে পরে।আল্লাহ পাকের হাবিব সাল্লালাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম সাহাবীদের আগেই জানিয়ে দিয়ে ছিলেন কোন নারী,শিশু ও বৃদ্ধকে আক্রমণ করা যাবে না! এমনকি কেও বাধা দান অথবা আক্রমণ না করলে কারো উপর প্রতিহিংসা বসত হামলা করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশদেন।আজকে পর্যন্ত প্রকৃত মুসলমানদের এর মধ্যে এই চরিত্র বিদ্যমান আছে!যাই হোক ১৯৪৭ সালের আগষ্ট এর ভারত বর্ষ বিভক্তি সময় মুসলমানদের বলীর পাঠা করে রেখে যায়!যে হত্যাযঙ্গ এখনো অব্যাহত আছে।ঠিক এমন সময় মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের কথিত গনতন্ত্রের সম্মেলন মুসলমানদের জন্যে বড় ধরনের আগ্রাসন কিনা এটা বিবেচ্য বিষয়! চীন,রাশিয়া সহ কয়েকটি রাষ্ট্রকে সাজানো প্রতিপক্ষ কিনা, সেটাই পর্যবেক্ষণের উপর সমাজ চিন্করা গুরুত্ব দিচ্ছে! আর আল্লাহ পাক মুনাফেকদের সবচাইতে নিকৃষ্ট ও ক্ষমার অযোগ্য জানিয়ে দিয়েছেন! আর মুসলমান ও শান্তির সবচাইতে বড় প্রতিপক্ষ খ্রিস্টান, ইহুদী, মূর্তিপুজারী নাছারাদের থেকে সর্তক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র এর সম্মেলনে কিছু মুসলিম দেশের গাছের গুড়া ঠিক রেখে আগার ডাল কেটে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রেখেছে? এতে করে মুসলিম দেশের নাগরিক উন্নয়নের চাইতে বৈষিক উন্নয়নের নামে রক্ত পানি করা টাকা পাচার করার পথ উন্মোচন করেদেয়!এই সম্মেলনে মুসলিম বিশ্বের জন্যে নতুন হুমকি আসবে কিনা তাও বিবেচনা করতে হবে?কারণ ইতিমধ্যে জাতিসংঘকে সামনে রেখে মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র,পশ্চিমাবিশ্ব,আজও শান্তিবিনিষ্ট করে চলেছে, সিরিয়া,লিবিয়া,ইরাক, ফিলিস্তিন,কাশ্মীর,মিয়ানমার,সহ মুসলিম রাষ্ট্র গুলো মাথার তাজ সৌদি আরবকেও তারা অসামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে চলেছে?এই গুলো মাথায় রেখে আজকে মুসলিম রাষ্ট্র গুলো নতুন করে আল কোরাআন ও রহমাতুল্লিল আলামীন এর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী রাষ্ট্র ব্যাবস্হায় ফিরে আসতে ব্যর্থ হলে শান্তি বিঘ্ন ঘটাতেই থাকবে?আজকে মুসলিম রাষ্ট্র গুলো যদি আল্লাহ পাক ও রহমতুল্লিল আলআমীনের উপর যাদের ঈমান আছে,তাদের ঐক্যবদ্ধতা আর মুসলিম জাতিসত্তা রক্ষায় জাতিসংঘ গঠন করার উপর গুরুত্ব আরোপ করা প্রয়োজন? পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা আগামীতে আলেম-ওলামা-ইসলামের প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে নতুন চক্রান্ত শুরু হতে পারে। এখন থেকে বিশ্ব শান্তির জন্যে মুসলিম নেতাও রাষ্ট্রকে গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ রাখতে হবে! আর তা না হলে এক গ্রুপ অস্ত্র বিক্রি করবে অন্য গ্রুপ নানা প্রকার গুজব ছড়িয়ে আধিপত্য বিস্তারের চক্রান্তে লিপ্ত হবে?আর মুনাফেকরা জাতির শান্তি বিঘ্ন ঘটাবে আবার বলবে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে?এদেকে জাতীকে ভুলতথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত সৃষ্টি অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে গিয়ে নিজেরাই সব কিছু হারাবে! তাই ঈমাণদারদের দায়িত্ব আল্লাহ পাক ও রহমতুল্লিল আল আমিনের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী যারা মানবতা,আইনের শাসন,ন্যায় বিচার ও শান্তি বিঘ্নকরে,আলেম-ওলামা-ইসলামের দিকনির্দেশনার জন্যে কাজ করে তাদের জন্যে সামনে আরো মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার আশংকা দেখা দিতে পারে!তাই অ্যামেরিকার সম্মেলন মুসলমানদের এক পরিবারের সদস্য হওয়ার আগাম বার্তা কিনা আল্লাহ পাক জানেন।তবে মুসলমানদের এক পরিবারের সদস্য হওয়ার বিকল্প আর কোন পথ নাই?সকল মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানদের উচিৎ পৃথক জাতিসংঘ গঠন ও ইসলামী সম্মেলন সংস্হা(ওআইসি) শক্তিশালী করা।

বাংলার চোখ

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়