Banglar Chokh | বাংলার চোখ

মুনাফেকদের কারণে বাংলার মুসলমানদের ভাগ্য গজব !

মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী

প্রকাশিত: ১২:৫২, ১৫ জানুয়ারি ২০২২

আপডেট: ০০:০০, ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯

মুনাফেকদের কারণে বাংলার মুসলমানদের ভাগ্য গজব !

১৭৫৭ সালে একজন সেনাপ্রধান জগৎ শেঠদের অনুকম্পা করে ক্ষমতার জন্যে!আবার ২০০৭ সালে ঢাকাস্থ জাতিসংঘের কান্ট্রি ডিরেক্টর এর এক ইমেইল বার্তা আর লগি-বইঠা তান্ডবে স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান নাগরিক অধিকার হরণ করে। যেটাকে এই জাতির কাছে ওয়ানইলেভেন বা নাগরিক অধিকার চিহ্নিত হয়?তার আগে গনতন্ত্রের টার্নিং পয়েন্ট ১৯৭৫ এর ৭ নভেম্বর সিপাহী বিপ্লব হিসাবে পরিচিত, এ দিনটি নিরবে চলে যায়? ১৭৫৭ পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজুদ দৌলার পরাজয় মুনাফেকদের মুনাফেকি আর জগৎ শেঠদের চক্রান্তে ইষ্ট ইণ্ডিয়ান কোম্পানি লুট পাট করতে ভারত বর্ষে অনুপ্রবেশ করে। সে দিন মিরজাফরের পুত্র মির মদন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাবকে হত্যা করে ক্ষান্ত হয়নি!সেই দিন এই মুনাফেকরা মুসলিম জাতিকে জীবন্ত হত্যার পথ উন্মুক্ত করেদেয়! সেই লড়াইয়ে নেতাজী সুবাষ বসু গুম হয়!প্রায় ১৯০ বছর ধরে জগৎ শেঠদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় লুটপাটকারী ও দখলদারদের প্রতিহত করতে সিংহভাগ মুসলমান শাহাদাৎ বরণ করে?এক মাত্র দিল্লি সহ কিছু স্হানে তার তালিকা থাকলেও হিন্দু লেখকরা ইতিহাস লিখতে গিয়ে ইচ্ছা করে হোক আর অনইচ্ছায় হোক মুসলমানদের অবদান ইতিহাসে সংরক্ষণ করতে কার্পণ্য করেছে?ইতিহাসে মুসলমানদের অবদানের কথা উল্লেখ থাকলে আজকে ইন্ডিয়া ও ইসরাইল আর মিয়ানমার মুসলমানদের কাল্পনিক অভিযোগে তাদের প্রতিরোধের শক্তি গুলো মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশে ক্যামেরা ট্রাইলে হত্যা বা জুলুম করতে পারতো না? আজকের প্রজন্ম যদি জানতো চরম সাম্প্রদায়িক রবিন্দ্র নাথ ১৯১২ দিকে কোলকাতায় এক সমাবেশের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় প্রতিষ্টার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতো না? নবাব স্যার সলিমুল্লাহ সাহেবের জায়গা আর অক্লান্ত পরিশ্রম এর বিনিময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলো। তবে রাবিন্দ্র নাথ এর আক্রাস বাস্তবায়ন অব্যাহত রয়ে গেলো?১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের অর্জন পাকিস্তান ও ইন্ডিয়ার হলেও, সেই যুদ্ধের প্রধান প্রতিপক্ষ ইসলামকে দাঁড় করিয়ে দিলো!শুরুতেই প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাবির মনোগ্রাম থেকে "রাব্বি যিদনী ইলমা" রাতারাতি পরিবর্তন করা হলো।১৯৪৬ এ হিন্দুর অবিভক্ত ভারত বর্ষের বৃহৎ অংশ নিতে মুসলিম গনহত্যা করে। এই চক্রান্তে ব্রিটিশ জড়িত এমন গুন্জন শুনা যায়। তিন দিকে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির মাঝ খানে ৫৫হাজার৷ বর্গমাইলের পূর্ব বাংলাকে ১৪শত মাইল দুরের পাকিস্তানের লেজুড় বানিয়ে স্বাধীনতা দিলো ব্রিটিশ? এ দিকে করম চাঁন গান্ধীকে নেহেরু ও প্যাটেল আস্বস্ত করলো,১০-১৫ বছরের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।আল্লাহ পাকের দয়া আর হযরত শাহ জালাল -হযরত শাহ পরান -হযরত খাজা শরফুদ্দিন চিশতি(রহঃ) মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর শর্তক সিদ্ধান্তের কারণে ৭৪ বছরেও গান্ধীর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি? তবে নবী,রাসুলদের সাথে ইহুদী, খ্রিস্টান, মূর্তিপুজারীরা মুনাফেকদের সহযোগিতায় জুলুম,নিপীড়ন, নির্যাতন ও মিথ্যা অপপ্রচার করতো এখনো অব্যাহত আছে। এখনো আল্লাহ তালার পথ প্রদর্শক আলেম-ওলামা-ইসলামের খাদেমদের উপর মধ্যযুগের কায়দায় জুলুম আর শহীদ করা,আর চরিত্রহনন অব্যাহত আছে।১৯৭৫ সালে ৭ নভেম্বর সিপাহী বিপ্লব যদি না হতো তাহলে স্বাধীনতার ঘোষক মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ভাষায় দেশপ্রেমিক ও সৎ জেডফোর্সের অধিনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া উর রহমান হয়তো গৃহবন্দী থেকে হারিয়ে যেতেন।স্বাধীন বাংলাদেশের জনগন বুঝতো গনতন্ত্র, গণমাধ্যম এর স্বাধীনতা কেন প্রয়োজন, বিচার বিভাগ কেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হয়,রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত সেবকদের জবাবদিহিতার মধ্যে কেন রাখতে হয়,সর্বশেষ আল্লাহ দান রাষ্ট্রের মালিক জনগনের প্রতিনিধি তাদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনে সুফল কি?দেশের নাগরিকরা তাদের অধিকার কি উপলব্ধি করতো পারতো না!অথচ ৭ নভেম্বর আ`লীগ সহ যাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলো তারা তো পালন করেই নাই! এর পর বিএনপি সহ দেশপ্রেমিক দল গুলোও নিরব থেকে কাদের কাছে বিশ্বাসী কাদের অনুকম্পা পেতে চেয়েছে,সে প্রশ্ন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে ঘুর পাক খাচ্ছে। অন্য দিকে পলাশীর মতই ওয়ান ইলেভেনের চক্রান্তের দিনটি নিরবে প্রস্হান করলো। ওয়ান ইলেভেনের সৃষ্টি ও বিএনপির মন্ত্রী থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে আত্ম্যঘাতি মুলক ষড়যন্ত্রকারী ২০ দলীয় জোটের পরবর্তীতে শরীক দল ক্ষ্যাত দলের প্রধান কয়েকদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে কুটনৈতিক মহলে যাতায়াতকারীদের গুন্জন শুনা যায়!সেখানে একই এলাকার আরেক ক্ষমতালিপ্সু বিশেষ জনের সাথে পরামর্শে যোগদান নাকি লক্ষ?আবার কেউ কেউ আরেক জনকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। একটু পিছিয়ে যেতে চাই,যে নেত্রী আগ্রসন থেকে জাতিকে রক্ষা করতে আরাম আয়েশ ত্যাগ করে জনগনকে সাথে নিয়ে রাজপথে নেমে আসে। জনগনের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফেরে নাই!দেশের জনগনের সবচাইতে আস্হা ভাজন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটি কাল্পনিক মামলায় সাজা হওয়ার পরো, তাকে দিয়ে সমাজে যারা আত্মমর্যাদাশীল হয়েছে! তাদের ঘরের ভীতর ছাড়া রাজপথে নামতে অনিহা!অথচ বাংলার জনগন তিন তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তির জন্যে রাজপথে নামতে প্রস্তত।ওয়া ইলেভেনেই সাম্রাজ্যেবাদ,আধিপত্যবাদ,দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সাম্প্রদায়িক অপশক্তি শুরু থেকেই বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবার এবং জোটকে রাজনীতি থেকে দুরে রাখার চক্রান্ত শুরু করে।দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুই উপযুক্ত চিকিৎসা ছাড়া হাসপাতালের বেডে! কিন্তু তার দল জোটের মধ্যে দূরত্ব ঘুচিয়ে রাজপথে নামার পরিবর্তে জেলা শহরের কর্মসূচি নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরে।আর ওয়ান ইলেভেন নামের দেশবিরোধী,ন্যায় বিচার,স্বাধীন গণমাধ্যম বিরোধী, ভোটের হরণের পথ প্রসস্হকারী কালো দিনটি নিরব প্রস্হান করে।দলের বর্তমান কান্ডারী তারেক রহমান এর বক্তব্য বিবৃতি প্রকাশে আইনদারা নিষিদ্ধ। আল্লাহ পাক না করুন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হয়ে গেলে তারেক রহমানকে এ দেশে প্রবেশ করতে দেবে এমন কোন নিশ্চয়তা আছে কি?দ্রব্য মুল্যের উদ্ধগতি,গ্যাস,বিদ্যুৎ, পানির বিবৃদ্ধি, ব্যাংকের জমা টাকা থেকে টাকা কর্তন সহ অসংখ্য জুলুমে জনগন অতিষ্ঠ! এ বিষয়ে দলটি নিরব দর্শক, নিজেদের একটা গন মাধ্যম আজে রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিনের তথ্য সচিবের আত্ম্যঘাতি মুলক কাজ করছে কিনা তা নিয়েও সমালোচনা আছে।এই পত্রিকাটা সাধারণ নাগরিক কাছে দিকনির্দেশনা হিসাবে দায়িত্ব পালন করা উচিৎ বলে গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা মনে করে? এর মধ্যে করোনার নামে ১১ দফা বিএনপি তার কর্মসূচি প্রত্যাহার করায় জনমনে নানা সমালোচনা শুরু হয়েছে।আল্লাহ পাকের নবী রাসুলদের বিরুদ্ধে বৈষম্যসৃষ্টিকারী সমাজের শান্তি বিঘ্নকারী এর চাইতে কঠিন আচরণ করেও বিজয় হতে পারে নাই?জিয়া উর রহমান , সেই পথ অনুসরণ করায় বাংলাদেশের সবচাইতে জনপ্রিয় নেতা?বিএনপিকে সেই পথে ফিরিয়ে আনতে ব্যার্থ হলে বিএনপি ও জাতির সামনে মহা সংকট। বিএনপিকে তার গণমাধ্যম গুলো সহ দলের কার্যক্রম নিয়ে এখনই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নতুন চক্রান্তকারীরা কিন্তু মাঠে!ত্যাগী নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর দলের কান্ডারীকেই রাখতে হবে।আর তাহলেই বাংলাদেশে আবার গনতন্ত্র, ভোটের অধিকার ফিরে আসবে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক,কলামিষ্ট.বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এ্যাসোসিয়েশন(বিআরজেএ) চেয়ারম্যান

বাংলার চোখ

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়