Banglar Chokh | বাংলার চোখ

ইসি আইন হলে ভোটারের ভোট প্রদানের নিশ্চয়তা পাবে!

মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী

প্রকাশিত: ১৮:০৫, ২৯ জানুয়ারি ২০২২

আপডেট: ০০:০০, ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯

ইসি আইন হলে ভোটারের ভোট প্রদানের নিশ্চয়তা পাবে!

নির্বাচন কমিশন একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সুষ্ঠ ভাবে সকল ভোটারের ভোট প্রদানের ব্যাবস্হা করে।যদি নির্বাচন কমিশনকে ভোটারের ভোট প্রদানের ব্যাবস্হা করতে হয়,তাহলে প্রথমত ইসিকে মেরুদণ্ড সম্পূর্ণ হতে হবে।নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গুলো নিরপেক্ষ ও জবাবদিহি হতে হবে। আর নির্বাচনকালীন ভোটারের অধিকার সংরক্ষণ করতে ব্যার্থ হওয়া অথবা ইচ্ছা কৃত ভোটারের অধিকার খর্ব করলে তার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে ইসি!নির্বাচনের ফলাফল ও অভিযোগ কেন্দ্রেই সরাসরি নেওয়ার বিধান থাকা!কিন্তু এ সব বিধান নতুন ইসি গঠনের আইনে রাখা না হলে সেটা যেমন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ হবে,তেমনি জনগনের ভোগান্তি বাড়বে!দ্বিতীয়ত নির্বাচন একক দল বা কোন জোটের নয়!সকল জোট ও দলের তাই একক আলোচনা নয় সম্মিলিত আলোচনার ভিত্তিতে এই আইন পাশ করা উচিৎ বলে গত১৩ বছর ভোট প্রদানের অধিকার বঞ্চিতদের পর্যবেক্ষণ। সমাজ সচেতন পর্যবেক্ষক মহলের মন্তব্য তিন দিকে শক্র বেষ্টিত এই দেশটি মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশ?পৃথিবীর সিংহভাগ সাম্রাজ্যেবাদ ও আধিপত্যবাদ,সামাজিক সাম্রাজ্যেবাদ,দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সাম্প্রদায়িক অপশক্তির চক্রান্ত আর ক্ষমতালোভী পরগাছা হিসাবে চিহ্নিতরা তো আছেই?এত গুলো বিষয় মাথা রেখে নির্বাচন কমিশন আইন কতটুকু কার্যকর হবে, তা একটু ভাবতে হবে!নির্বাচনে ভোটারের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে "নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকার " গঠন করা না হলে সকল আইন মুখ থুবড়ে পড়বে এমন মন্তব্য তাদের? বর্তমান দেশের অবস্থা এমন একজন ব্যাবসায়ী তার সকল যোগ্যতা থাকা সত্বেও ক্ষমতাসীন দলের প্রতিপক্ষ হলে তাকে কাজ দেওয়া হয় না?তাহলে সরকার বা ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রধান মাধ্যম নির্বাচন সেটা হাত ছাড়া করতে কেউ কি চায়?এটা বিএনপি বা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট নয়,যে জনগন নিরপেক্ষ ভাবে তাদের প্রতিনিধি নিয়োগ করার এখতিয়ার সংরক্ষণ করবে।আল্লাহ পাকের দান আর রক্তের বিনিময়ে এই অধিকার অর্জন এটা বিশ্বাস করবে।আরেকটা মহল বলছে নির্বাচনকে গ্রহণ যোগ্য করার ব্যাপারে সকল দলের সম্মনয়ে একটা কমিটি গঠন করা হোক?হোক উক্ত কমিটিতে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি,সম্পাদক, ও পেশাজীবি সংগঠনের প্রতিনিধি সকলের মতামতের উপর ভিত্তি করে আইন প্রনয়ন করা হোক?এতে করে ভবিষ্যতে ভোটারদের ভোটের অধিকার থেকে যেমন বঞ্চিত হওয়ার আশংকা থাকবে না!তেমন অতিরিক্ত ভোট দেখীয়ে বিজয়ী করা,আগের রাতে ভোটের কাজ সম্পূর্ণ করা কিংবা ইভিএম এর কারগরি ঠেকাতে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কালো আইনের প্রয়োজন দেখা দেবে না? তাদের ভাষায় প্রায়১/২কোটি কাল্পনিক মামলার প্রয়োজন হবে না!দেশের নির্বাচন, বিচার বিভাগ,গনমাধ্যম যখন স্বাধীন ভাবে কাজ করতে সক্ষমতা হারায় তখন যেমন মৌলিক ভিত তৈরি হয় না বা উন্নতি হয় না!তেমনি রাষ্ট্র হয়ে পরে নিরাপত্তাহীন রাষ্ট্রের উপর পরে কুদৃষ্টি। আর রাষ্ট্রের যেহেতু সকল নাগরিক রাষ্ট্রের কোষাগারের অর্থ যোগানদেয় তখন তাদের উপর জুলুম নিপীড়ন নির্যাতন নেমে আসে।আর রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়!এমন অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে আন্দোলন করা তাদের নাগরিক অধিকার। বিদেশি মেহমান আমন্ত্রণ জানিয়ে দেশে এনে প্রশংসা করানো অথবা ব্যার্থতার দায়-দায়িত্ব অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে আত্মতৃপ্ত হওয়া যায়?কিন্তু রাষ্ট্রের কোন নাগরিকই স্বস্তিতে থাকে না?এই কারণেই নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এটার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত একক মতবাদে বিশ্বাসীদের নিয়ে করা কোন মতেই সঠিক নয়! এখন নতুন করে চিন্তা করার সময় আছে!পৃথিবীতে দুটি গোষ্ঠী একটা মজলুম আরেকটি জুলুমকারী! মজলুমরা জুলুম বিরোধী যখন করে তখন জালেমরা তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উথাপন করে জুলুম করে!তারপরও মজলুমরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুললে জালেম পরাজয় হয়েই। হয়তো এখন অনেকেই এই ভেবে নিশ্চিন্তে চাটুকারী করে কারোমনতুষ্ট করতে চেষ্টা করছে,কিন্তু যার মনোতুষ্ট করার চেষ্টায় লিপ্ত তার মধ্যে এমন অনুভূতি হয়, এই চাটুকাররা তার পায়ের নীচ থেকে মাটি সরিয়ে দিচ্ছে, তখন চাটুকারদের করুন অবস্থা হতেও পারে!সেই শাসক সফল যিনি তার সামনে পিছনের সমালোচকদের সম্মান করে!এই তো কদিন আগেই পরিমনি নামের একজন ধ্বংসকারী মহিলাকে রিমান্ডে দেওয়ার জন্যে বিচারককে উচ্চ আদালতে গিয়ে ক্ষমা চাওয়ার পরও ক্ষমা হয়নি?গতকাল তার পেশাগত প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে তার সিংহভাগ সহকর্মী তাকে প্রত্যাক্ষাণ করছে।মার্কিন মুলকের প্রেসিডেন্ট ট্রামকে নির্বাচনে তার দেশ জনগন প্রত্যাক্ষাণ করেছে।ইতিহাস খুব নিষ্ঠুর সুযোগ পেলেই ছাড় দেয় না! হয়তো বা ক্ষমতাসীনদের মধ্যে এমন ধারণা জন্ম নিতে পারে প্রতিপক্ষ জোট বা দলের ভিতরে আস্হা নাই কিংবা আত্মঘাতী কর্মকান্ড করার মত মানুষের অনুপ্রবেশ ঘটেছে অথবা হামলা-মামলা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব? আসলে কি তা সম্ভব? বিশ্বমানবতার নেতা রহমাতুল্লিল আলামীন সাল্লালাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর সময় মুনাফেকরা সক্রিয় থাকার পর মানবতার জয় হয়েছে। বিশ্বমানবতার নবী রহমাতুল্লিল আলামীন ২ বছর কারা ভোগ সহ জুলুমের স্বীকার হওয়ার পরও বিশ্বে এখনো তিনি এবং তার অনুসারীরা মৌলিক ও মানবাধিকার একমাত্র বিশ্বাসী। আজকে যাদের ঘাড়ে চেপে সামান্য লুটপাটের সুযোগ দিয়ে জনগনের মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে! গুন্জন শুনা যায় তারা ও চিন্তা করতে শুরু করেছে,তাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের অনিশ্চিত জীবনের দিকে তারা ঠেলে দিতে পারে না?এই অবস্থা থেকে উত্তরণের ব্যাপারে ঐক্যমত বৃদ্ধি হচ্ছে। তাই দেশে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম শুরু হওয়ার আগে সকল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মামলা প্রত্যাহার করে,নেতৃবৃন্দ সহ কর্মীদের মুক্তি প্রদান।আর আলোচনার মাধ্যম ইসি গঠন আইন সহ নির্বাচন কি ভাবে সুষ্ঠু, সেই পথে অগ্রসর কিবল জাতিকে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর পথ দেখাতে পারে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক,কলামিষ্ট.বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক এ্যাসোসিয়েশন(বিআরজেএ) চেয়ারম্যান

বাংলার চোখ

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়