Banglar Chokh | বাংলার চোখ

 ফিফার সেরা পাঁচ গোলের একটির ভাগিদার ’ম্যাজিক চাকমা’ বা মনিকা চাকমা

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:০৭, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

 ফিফার সেরা পাঁচ গোলের একটির ভাগিদার ’ম্যাজিক চাকমা’ বা মনিকা চাকমা

ছবি:সংগৃহীত

বাসার কাজ করার মতো কেউ ছিলো না। তাই বাবা বারণ করতেন খেলতে যেতে। তারপরও নিজেকে আটকে রাখতে পারতেন না মনিকা চাকমা। বোনকে নিয়ে মাঠে ছুটে যেতেন ফুটবল খেলতে। এখন সেই মনিকাই ফুটবল খেলে পরিবারকে করেছেন গর্বিত। ২০১৯ এ মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে করা ম্যাজিক গোলটি অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান সামনে। ধরে রাখতে চান সাফজয়ের পর মানুষের কাছ থেকে পাওয়া অকুন্ঠ ভালোবাসা।

খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত এক গ্রামে বেড়ে ওঠা। ২০১১'তে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল দিয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার নজরে আসেন। এরপরের গল্পটা শুধুই মনিকা চাকমার এগিয়ে যাওয়ার। ২০১৩ থেকে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু করা মণিকা বয়সভিত্তিক ফুটবলের ধাপ পেড়িয়ে ২০১৯ এ প্রথম সুযোগ পান জাতীয় দলে। ছিলেন এবারের সাফ মিশন জয় করে ফেরা বাংলাদেশ নারী দলের স্কোয়াডেও।

যদিও মনিকার এ পর্যায়ে আসার পথটা ছিলো বন্ধুর। এগিয়ে চলার পথে বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো, পরিবার ও সমাজ। তারপরও দমে যাননি। এগিয়ে গেছেন স্বপ্ন পূরণে।

মনিকা বলেন, 'আমার বড়, মেজ আর সেজদিদি নানির বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেছে, তো বাসায় কাজ করার মতো মানুষ থাকত না। সবসময় খেলতে যেতে চাইতাম। যখন দেখতাম ছেলেরা খেলছে, মাঠে চলে যেতে ইচ্ছা করত। তাই কাজ রেখেই খেলতে চলে যেতাম। এর ফলে একটু বকাঝকা করেছে। এসব নিয়ে একটু সমস্যা হতো। '

জাতীয় দলের যাত্রাটা মোটেই সহজ ছিল না মেয়েদের। দলে থাকার জন্য করতে হয়েছে অনেক পরিশ্রম। মনিকা বলেন, 'টিমে থাকাটা মোটেই সহজ ছিল না। অনেক পরিশ্রম করা লেগেছে আমাদের। যারা যারা টিমে ছিলাম, নেপালে খেলতে গেছি, কঠোর পরিশ্রম করে আমরা টিমে ছিলাম। ওখান থেকেই আসলে খেলার শুরু। বয়সভিত্তিক নারী টিমে বাংলাদেশ সবসময় ভালো রেজাল্ট পেয়েছে। আর সিনিয়র টিমে ২০১৯ সালে আমি সর্বপ্রথম নেপালের বিরাটনগরেই খেলার সুযোগ পাই। সেখান থেকেই জায়গা করে নিয়ে আজ জাতীয় দলে এতদূর।'

মনিকাকে ম্যাজিক কন্যা নামেও চেনে অনেকে। ২০১৯ এ মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে তার করা একটি গোল জায়গা করে নিয়েছিলো ফিফার জরিপে। সেরা পাঁচে স্থান পাওয়া সেই গোলটির কারণে ফিফা মনিকাকে নাম দিয়েছিলো 'ম্যাজিক চাকমা'। যা আজও অনুপ্রাণিত করে এই ফুটবলারকে।
 
মনিকা বলেন, 'যখন শুনেছিলাম অনেক ভালো লেগেছিল এবং সেই গোলটি আমাকে এখনো অনুপ্রেরণা দেয় যে, সামনে যে খেলাগুলো হবে বা আমি ওরকম সুন্দর গোল আবার করব। চাই যে, এমন গোল আরও হোক আমার।'

শুধু একটা ছাদখোলা বাসের জন্যই আবেদন ছিলো। কিন্তু দেশে ফিরে মানুষের এতো ভালোবাসা পাবেন তা কল্পনাও করেননি মণিকা। তাইতো সবার সমর্থন আর ভালোবাসার ছায়ায় থাকতে হলেও নিজেদের এ সাফল্য ধরে রাখতে চান সাফজয়ী এই ফুটবলার।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়