Banglar Chokh | বাংলার চোখ

খেলাধূলার মাধ্যমে তরুণ সমাজকে বদলে দেবার এক রূপকার বাতেন

প্রায় এগারো শো হাত ব্রাজিলের পতাকা শোভা পাচ্ছে দয়ালনগর গ্রামে 

শরীফ মুজিবুর রহমান,বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:৪৬, ২ ডিসেম্বর ২০২২

আপডেট: ১৯:১৩, ২ ডিসেম্বর ২০২২

প্রায় এগারো শো হাত ব্রাজিলের পতাকা শোভা পাচ্ছে দয়ালনগর গ্রামে 

নিজস্ব ছবি

মনিষীরা বলেছেন, মানুষের বাহ্যিক চরিত্র যাই হোক প্রকৃত চরিত্র হলো মানুষ সত্যবাদী বা ভাল কাজের পিপাষু। মানুষ মূলত সবসময় ভাল কাজ করতে চায়। আর শেকড়ের টান নেই বা শেখড়ের প্রতি ভালবাসা নেই এমন মানুষও মনে হয় পাওয়া খুবই বিরল। যে যত বড়ই হোক প্রত্যেকেরই তার জন্মস্থানে প্রতি দূর্বলতা থাকবেই। তাইতো সেই শেকড়ের টানেই মানুষ বার বার ফিরে যেতে চায় তার জন্মস্থানে।  একজন ব্যক্তি যত বিখ্যাতই হোক না কেন সে বার বার তার রুটেই ফিরে আসতে চাইবে, এটাই যেন জন্ম জন্মান্তরের মানব ধর্ম। প্রত্যেকেই চা্য় তার গ্রাম বা তার জন্মস্থান যেন ভাল থাকে। তেমনই আজ একজনের গল্প বলবো, যার নাম ‘বাতেন’। সমাজে এখন তার অবস্থান কোঁথায় সেটা না হয় পরেই জানা যাবে। আগে তার সামান্য কয়েকটি উদ্যোগ সম্পর্কে জানা যাক। 
পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার এক অজোপাড়াগাঁও এ একটি গ্রামের নাম দয়ালনগর, সেখানেই জন্ম তার। সমাজে প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়লেও প্রতি মূহুর্তে তার স্বপ্ন ছিল তার দয়ালনগর যেন ভাল থাকে। খুবই তরুণ বয়সেই জীবনযুদ্ধ শুরু করেছিলেন তিনি। তিনি জানে, সমাজ বদলাতে হলে তরুণরাই সেটা পারবে। পাশাপাশি এ ও তিনি খুব ভালভাবে বুঁঝেছিলেন যে, শুধু তরুণরাই নয় কোন ভাল কাজ করতে হলে তাদের উৎসাহ দিতে মুরুব্বীদের সাথে থাকাটাও খুব জরুরী। 

আর তাই তিনি তরুণ সমাজকে বদলে দিতে সিম্মিলিতভাবে নীববে নিভৃতে তার গ্রাম দয়ালনগরে গড়ে তুলেছেন বাহারুন্নেছা পাবলিক লাইব্রেরী ও বি.কে. ফাউন্ডেশন। তার সাথে হাতে হাত রেখে কাজ করে যাচ্ছে এলাকার টগবগে একদল যুবক ও এলাকার মুরুব্বীরা।
পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তিরা মাঠে ফুটবল খেলে তরুণদের মাঠে ফেরার উদ্যোগ নিয়েছে। ফলশ্রুতিতে এলাকায় প্রায় প্রত্যেকটা তরুণ খেলার সময় হলেই মাঠে উপস্থিত হয়ে যায়। পাশাপাশি লাইব্রেরী থেকে বই নিয়ে বই পড়ার অভ্যাসও গড়ে তুলছে তারা। সরকারের বৃক্ষরোপান কর্মসূচীকে গতিশীল করতে তরুণেরা বৃক্ষরোপন কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করছে।
এই মূহুর্তে সারা বিশ্ব ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ফুটবলে মেতে আছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বাতেনও এলাকার তরুণ ও বয়ষ্কদের উদ্বুদ্ধ করে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করেছে। 
শুধু তাই নয়, এলাকায় ব্রাজিল সমর্থক বেশি থাকায় ১ হাজার ৭ শত ফুট অর্থাৎ এক হাজার বিশ হাতের বিশাল এক ব্রাজিলের পতাকাও এখন ওই গ্রামে শোভা পাচ্ছে। 
এছাড়া বি.কে. ফাউন্ডেশন ও বাহারুন্নেছা পাবলিক লাইব্রেরীর উদ্যোগে প্রতিবছর চক্ষুশিবির, গরীব ও মোধাবী শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় সহযোগিতা, হত-দরিদ্রদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অনুদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অগ্রনী ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানটি এলাকার শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য ভবিষ্যতে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে যা অীচরেই অবহেলিত গ্রাম সবদিক থেকে অত্র এলাকার মধ্যে ব্যপকভাবে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এলাকাবাসী।
 

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

জনপ্রিয়